
রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত একটি রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে বাউন্ডারি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ ও কৃষিপণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে রাস্তা দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিজাই খামার এলাকার বজর সরকার দিঘীরপাড় সংলগ্ন ২০ নম্বর জে.এল. মৌজার সরকারি রেকর্ডভুক্ত একটি রাস্তা বহু বছর ধরে এলাকাবাসীর চলাচল, কৃষিজমিতে যাতায়াত এবং উৎপাদিত ফসল পরিবহনের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি একই এলাকার বাসিন্দা মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে মোছা. সাজেদা বেগম, সরকারি ওই রাস্তার একটি অংশ দখল করে বাউন্ডারি নির্মাণ করেছেন। ফলে রাস্তাটির অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে যাতায়াত, ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন চলাচলে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিন বলেন, “একসময় এই রাস্তা দিয়ে গরুর গাড়ি, ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনে ধানসহ কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করা হতো। এখন সেই রাস্তার আর কোনো অস্তিত্ব নেই। রাস্তাটি আমাদের সবার প্রয়োজন।”
আরেক বাসিন্দা আব্দুল ছাত্তার বলেন, “এই বাড়ি নির্মাণের আগে সবাই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করত। এখন রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এটি ব্যক্তি নয়, পুরো এলাকার মানুষের প্রয়োজনীয় রাস্তা।”
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি রাস্তা দ্রুত উদ্ধার করা না হলে কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং সরকারি সম্পত্তি স্থায়ীভাবে বেদখলের ঝুঁকিতে পড়বে।
অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৌজার নকশা, রাস্তা দখল করে বাউন্ডারি নির্মাণের আলোকচিত্র এবং এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরসংবলিত সমর্থনপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাজেদা বেগম ক্যামেরায় কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। মৌখিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “সরকারি রাস্তা অনেকেই দখল করে আছেন। আমি একা কোনো রাস্তা ছেড়ে দেব না।”
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. মেহেদী হাসান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি রাস্তা পুনরুদ্ধার করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং কৃষি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে।
Reporter Name 




















