Dhaka 3:33 pm, Saturday, 27 June 2026

শেরপুরের সীমান্তবর্তীতে বন্যহাতির দল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে

বাংলাদেশ -ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে লোকালয়ে খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্য হাতির দল। অপরদিকে বন্য হাতি দেখতে প্রতিদিন সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা গুলোতে ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার উৎসুক মানুষ। এতে যেকোনো সময় মানুষের প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটতে পারে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে। বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে বন্য হাতির একটি দল ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া, হলদিগ্রাম,গুমড়া,রাংটিয়া এবং কাংশা ইউনিয়নের ছোট গজনী,বড় গজনী,তাওয়াকুচা এলাকার গারো পাহাড়ে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭০ টি হাতি দল বেধে অবস্থান করছে। হাতির দলটি দিনের বেলা খাদ্যের সন্ধানে পাহাড়ের বিভিন্ন টিলায় ঘোরাঘুরি করলেও শেষ বিকেলে হাতির দলটি লোকালয়ে নেমে আসে। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় গ্রামবাসী মশাল জ্বালিয়ে হইহুল্লোড় করে হাতির দলটিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে,বন্য হাতির দলটি সন্ধ্যাকুড়া এলাকার গোলাপ ফুল বাগান, আকাশমনি কাঠের বাগান ও বিভিন্ন সবজি খেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি এলাকাবাসী ও উৎসুক মানুষ ভিড় করেছেন। হাতি সরাতে মানুষ হইহুল্লোড় করছেন। এসময় বন্য হাতির দল ধান ও বিভিন্ন সবজির খেত হাতির পা দিয়ে মাড়িয়ে তছনছ করে দিচ্ছে। সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, বুধবার দিবাগত রাতে বন্য হাতির দল আমার ২৫ শতাংশ ধানের জমি পা দিয়ে পিষে নষ্ট শেষ করে দিয়েছে। আমি একজন অসহায় গরীব মানুষ খুব কষ্ট করে সংসার চালাই। হাতির অত্যাচারে অতিষ্ট আমরা। গুমড়া গ্রামের সাব্বির বলেন,হাতি আমার বটবটি ও বেগুন চাষের খেত নষ্ট করে দিয়েছে। সবারই ক্ষয়ক্ষতি করছে এ হাতির দল। হাতির হত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এ কৃষক। নলকুড়া ইউনিয়ন যুব দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবী মো.আনোয়ার হোসেন বলেন,ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পাহাড়গুলোতে বন্য হাতির খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবের কারণেই তারা লোকালয়ে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিদিন খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। মানুষের ঘরবাড়িসহ নানা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে এলাকার মানুষ হাতির আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। হাতি তার স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র হারিয়ে ফেললে মানুষের বসতিতেই খাবার খোঁজে। এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী মূলত আমরা নিজেরাই। তবে গারো পাহাড়ে হাতির অত্যাচার দীর্ঘ দিনের। তাই এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন,হাতির খাবারের জন্য সুফল বাগান তৈরি হয়েছে,সেখানে লতা-পাতা রয়েছে হাতীর খাবার,হাতি সেসব খাবার খাচ্ছে মাঝে মধ্যে চলে আশে খেতখামারে,আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি প্রতিরোধ করার। পাশাপাশি চলতি মাসে গারো পাহাড়ের প্রতিটি বিটে দুই হাজার করে কলাগাছ রোপণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কলাগাছ বড় হলে খাবারের সংকট অনেকটাই কমবে। বনবিভাগ ও ইআরটি হাতিকে পাহাড়ের জঙ্গলে পাঠানোর সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছেন বলে জানান এ কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আশরাফুল আলম রাসেল বলেন,মূলত খাদ্যের সন্ধানে বন্য হাতির দলটি লোকালয়ে চলে এসেছে। সীমান্তে বন্য হাতির খাদ্যের ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো হাতি লোকালয়ে আসবে না। তবে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখার মাদকবিরোধী অভিযানে ১৭ লিটার ৭৫০ মিলি চোলাই মদসহ গ্রেফতার ১

শেরপুরের সীমান্তবর্তীতে বন্যহাতির দল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে

Update Time : 10:07:47 pm, Friday, 29 August 2025

বাংলাদেশ -ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে লোকালয়ে খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্য হাতির দল। অপরদিকে বন্য হাতি দেখতে প্রতিদিন সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা গুলোতে ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার উৎসুক মানুষ। এতে যেকোনো সময় মানুষের প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটতে পারে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে। বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে বন্য হাতির একটি দল ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া, হলদিগ্রাম,গুমড়া,রাংটিয়া এবং কাংশা ইউনিয়নের ছোট গজনী,বড় গজনী,তাওয়াকুচা এলাকার গারো পাহাড়ে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭০ টি হাতি দল বেধে অবস্থান করছে। হাতির দলটি দিনের বেলা খাদ্যের সন্ধানে পাহাড়ের বিভিন্ন টিলায় ঘোরাঘুরি করলেও শেষ বিকেলে হাতির দলটি লোকালয়ে নেমে আসে। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় গ্রামবাসী মশাল জ্বালিয়ে হইহুল্লোড় করে হাতির দলটিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে,বন্য হাতির দলটি সন্ধ্যাকুড়া এলাকার গোলাপ ফুল বাগান, আকাশমনি কাঠের বাগান ও বিভিন্ন সবজি খেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি এলাকাবাসী ও উৎসুক মানুষ ভিড় করেছেন। হাতি সরাতে মানুষ হইহুল্লোড় করছেন। এসময় বন্য হাতির দল ধান ও বিভিন্ন সবজির খেত হাতির পা দিয়ে মাড়িয়ে তছনছ করে দিচ্ছে। সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, বুধবার দিবাগত রাতে বন্য হাতির দল আমার ২৫ শতাংশ ধানের জমি পা দিয়ে পিষে নষ্ট শেষ করে দিয়েছে। আমি একজন অসহায় গরীব মানুষ খুব কষ্ট করে সংসার চালাই। হাতির অত্যাচারে অতিষ্ট আমরা। গুমড়া গ্রামের সাব্বির বলেন,হাতি আমার বটবটি ও বেগুন চাষের খেত নষ্ট করে দিয়েছে। সবারই ক্ষয়ক্ষতি করছে এ হাতির দল। হাতির হত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এ কৃষক। নলকুড়া ইউনিয়ন যুব দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবী মো.আনোয়ার হোসেন বলেন,ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পাহাড়গুলোতে বন্য হাতির খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবের কারণেই তারা লোকালয়ে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিদিন খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। মানুষের ঘরবাড়িসহ নানা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে এলাকার মানুষ হাতির আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। হাতি তার স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র হারিয়ে ফেললে মানুষের বসতিতেই খাবার খোঁজে। এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী মূলত আমরা নিজেরাই। তবে গারো পাহাড়ে হাতির অত্যাচার দীর্ঘ দিনের। তাই এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন,হাতির খাবারের জন্য সুফল বাগান তৈরি হয়েছে,সেখানে লতা-পাতা রয়েছে হাতীর খাবার,হাতি সেসব খাবার খাচ্ছে মাঝে মধ্যে চলে আশে খেতখামারে,আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি প্রতিরোধ করার। পাশাপাশি চলতি মাসে গারো পাহাড়ের প্রতিটি বিটে দুই হাজার করে কলাগাছ রোপণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কলাগাছ বড় হলে খাবারের সংকট অনেকটাই কমবে। বনবিভাগ ও ইআরটি হাতিকে পাহাড়ের জঙ্গলে পাঠানোর সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছেন বলে জানান এ কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আশরাফুল আলম রাসেল বলেন,মূলত খাদ্যের সন্ধানে বন্য হাতির দলটি লোকালয়ে চলে এসেছে। সীমান্তে বন্য হাতির খাদ্যের ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো হাতি লোকালয়ে আসবে না। তবে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে।