Dhaka 11:59 pm, Saturday, 27 June 2026

খুলনায় বাবার বাড়ি পাঠিয়ে স্ত্রীকে -ঘরে ঢুকতে দিচ্ছে না স্বামী- শ্বশুরবাড়ির সামনে অবস্থান

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:50:12 pm, Friday, 26 June 2026
  • 44 Time View

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারিবারিক বিচ্ছেদ বা স্ত্রীকে গৃহত্যাগের ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। সেই সমাজেই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল খুলনা নগরীর হরিনটানা থানাধীন হান্নান সড়কে।

বিয়ের পর স্বামীর সংসারই মেয়েদের কাছে তীর্থ। কিন্তু সেই তীর্থের দরজা আজ বন্ধ নবিবাহিত গৃহবধূ মলি মল্লিকের জন্য। অভিযোগের তীর স্বামী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের দিকে।

মলি মল্লিকের দাবি, পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে পাঠান। অনুষ্ঠান শেষে ফিরে এসে দেখেন, স্বামী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের বাড়ির দরজা তার জন্য বন্ধ। বর্তমানে মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুর বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন তিনি।

হান্নান সড়কের ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মলি মল্লিক বলেন, আমার অপরাধ কী? বাবার বাড়ির অনুষ্ঠানে যেতে স্বামীই পাঠিয়েছিলেন। এখন ফিরে আসায় আমাকে ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেন না। আমি আমার স্বামীর সংসার চাই, এর বিচার চাই।

পাশে দাঁড়ানো মা-বাবার চোখেও জল। মেয়ের এমন দশা মেনে নিতে পারছেন না তারা। এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ঘটনা দেখছেন। সনাতন সমাজে বিয়েকে ‘সাত জন্মের বন্ধন’ বলা হয়। সেই বন্ধনে এমন ফাটল দেখে হতবাক পাড়া-প্রতিবেশীরাও।

স্থানীয় এক মুরুব্বি বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি—সনাতন পরিবারে ঝগড়া হয়, মান- অভিমান হয়, কিন্তু বউকে এভাবে দরজার বাইরে রাখার ঘটনা বিরল। মেয়েটা নতুন বউ, তার জায়গা হবে স্বামীর ঘরে, রাস্তায় না।

এ বিষয়ে স্বামী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে। হরিনটানা থানা পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মলি মল্লিকের একটাই চাওয়া—স্বামীর ঘরে ফেরা। সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী, বিয়ের পর মেয়ের শেষ আশ্রয় স্বামীর বাড়ি। সেই আশ্রয় আজ তার জন্য অনিশ্চিত।

এ ঘটনা খুলনার সনাতন সমাজে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্য ভাঙছে, নাকি এটি নিছক পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি—উত্তর দেবে সময়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দিঘলিয়ায় মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী চাষীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ

খুলনায় বাবার বাড়ি পাঠিয়ে স্ত্রীকে -ঘরে ঢুকতে দিচ্ছে না স্বামী- শ্বশুরবাড়ির সামনে অবস্থান

Update Time : 07:50:12 pm, Friday, 26 June 2026

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারিবারিক বিচ্ছেদ বা স্ত্রীকে গৃহত্যাগের ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। সেই সমাজেই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল খুলনা নগরীর হরিনটানা থানাধীন হান্নান সড়কে।

বিয়ের পর স্বামীর সংসারই মেয়েদের কাছে তীর্থ। কিন্তু সেই তীর্থের দরজা আজ বন্ধ নবিবাহিত গৃহবধূ মলি মল্লিকের জন্য। অভিযোগের তীর স্বামী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের দিকে।

মলি মল্লিকের দাবি, পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে পাঠান। অনুষ্ঠান শেষে ফিরে এসে দেখেন, স্বামী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের বাড়ির দরজা তার জন্য বন্ধ। বর্তমানে মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুর বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন তিনি।

হান্নান সড়কের ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মলি মল্লিক বলেন, আমার অপরাধ কী? বাবার বাড়ির অনুষ্ঠানে যেতে স্বামীই পাঠিয়েছিলেন। এখন ফিরে আসায় আমাকে ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেন না। আমি আমার স্বামীর সংসার চাই, এর বিচার চাই।

পাশে দাঁড়ানো মা-বাবার চোখেও জল। মেয়ের এমন দশা মেনে নিতে পারছেন না তারা। এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ঘটনা দেখছেন। সনাতন সমাজে বিয়েকে ‘সাত জন্মের বন্ধন’ বলা হয়। সেই বন্ধনে এমন ফাটল দেখে হতবাক পাড়া-প্রতিবেশীরাও।

স্থানীয় এক মুরুব্বি বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি—সনাতন পরিবারে ঝগড়া হয়, মান- অভিমান হয়, কিন্তু বউকে এভাবে দরজার বাইরে রাখার ঘটনা বিরল। মেয়েটা নতুন বউ, তার জায়গা হবে স্বামীর ঘরে, রাস্তায় না।

এ বিষয়ে স্বামী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে। হরিনটানা থানা পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মলি মল্লিকের একটাই চাওয়া—স্বামীর ঘরে ফেরা। সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী, বিয়ের পর মেয়ের শেষ আশ্রয় স্বামীর বাড়ি। সেই আশ্রয় আজ তার জন্য অনিশ্চিত।

এ ঘটনা খুলনার সনাতন সমাজে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্য ভাঙছে, নাকি এটি নিছক পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি—উত্তর দেবে সময়।