Dhaka 11:08 pm, Tuesday, 28 April 2026

ওজনে অনিয়ম হাটবাজারে গম ৪০ কেজি স্থলে ৪৬ কেজিতে মনে বিক্রি

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:46:31 pm, Tuesday, 28 April 2026
  • 2 Time View

খাদেমুল ইসলাম,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:

পঞ্চগড় অঞ্চলে গম অত্যন্ত আবাদযোগ্য এবং বর্তমান সময়ে সেখানে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে । এখানকার মাটি ও আবহাওয়া গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যার ফলে কৃষকরা বোরো আবাদ ছেড়ে গমের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে তেতুলিয়ায় কৃষকদের অভিযোগ, দেশে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ ধরা হলেও স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ৪২ থেকে ৪৫ কেজিতে এক মণ হিসেবে গম কিনছেন। এতে প্রতি মণে কয়েক কেজি গম অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে, যা সরাসরি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দর কষাকষির সুযোগ কম থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে এই শর্তে গম বিক্রি করছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,খরা ও কয়েক দফা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে গম চাষ ক্ষতি হয়েছে।
এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। এর মধ্যেই শ্রমিক সংকট ও ডিজেলের বাড়তি দামে চাষাবাদ ও ধান কাটার খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে মৌসুমের শুরু থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছেন তারা।

একাধিক কৃষক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই তারা নতুন করে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বাজারে ন্যায্য দামও পাচ্ছেন না। ফলে কম দামে গম বিক্রি করতে হচ্ছে, তার ওপর আবার ওজনের কারচুপি। সব মিলিয়ে লোকসান আরও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা: সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮,৮২৫ হেক্টর জমিতে গম চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

আবাদ: এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৭,১৮০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

আঞ্চলিক তথ্য: এর মধ্যে তেঁতুলিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি গম চাষ করা হয়ে থাকে।

আবাদ: এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৭,১৮০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
এ ফসলের ওপরই নির্ভর করে কৃষকদের সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ সারা বছরের সংসার খরচ। খেতের গম কাটতে শুরু করেন কৃষকরা। উৎপাদিত গমের বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. অন্তরা মুল্লিক
বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কৃষকদের যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে। কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে ওজনের কারচুপি বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

​গড়েয়া স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুল খালেকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

ওজনে অনিয়ম হাটবাজারে গম ৪০ কেজি স্থলে ৪৬ কেজিতে মনে বিক্রি

Update Time : 07:46:31 pm, Tuesday, 28 April 2026

খাদেমুল ইসলাম,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:

পঞ্চগড় অঞ্চলে গম অত্যন্ত আবাদযোগ্য এবং বর্তমান সময়ে সেখানে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে । এখানকার মাটি ও আবহাওয়া গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যার ফলে কৃষকরা বোরো আবাদ ছেড়ে গমের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে তেতুলিয়ায় কৃষকদের অভিযোগ, দেশে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ ধরা হলেও স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ৪২ থেকে ৪৫ কেজিতে এক মণ হিসেবে গম কিনছেন। এতে প্রতি মণে কয়েক কেজি গম অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে, যা সরাসরি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দর কষাকষির সুযোগ কম থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে এই শর্তে গম বিক্রি করছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,খরা ও কয়েক দফা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে গম চাষ ক্ষতি হয়েছে।
এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। এর মধ্যেই শ্রমিক সংকট ও ডিজেলের বাড়তি দামে চাষাবাদ ও ধান কাটার খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে মৌসুমের শুরু থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছেন তারা।

একাধিক কৃষক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই তারা নতুন করে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বাজারে ন্যায্য দামও পাচ্ছেন না। ফলে কম দামে গম বিক্রি করতে হচ্ছে, তার ওপর আবার ওজনের কারচুপি। সব মিলিয়ে লোকসান আরও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা: সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮,৮২৫ হেক্টর জমিতে গম চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

আবাদ: এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৭,১৮০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

আঞ্চলিক তথ্য: এর মধ্যে তেঁতুলিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি গম চাষ করা হয়ে থাকে।

আবাদ: এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৭,১৮০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
এ ফসলের ওপরই নির্ভর করে কৃষকদের সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ সারা বছরের সংসার খরচ। খেতের গম কাটতে শুরু করেন কৃষকরা। উৎপাদিত গমের বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. অন্তরা মুল্লিক
বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কৃষকদের যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে। কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে ওজনের কারচুপি বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।