Dhaka 3:51 am, Monday, 22 June 2026

‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগানে আলুচাষিদের বিক্ষোভ, হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:55:51 pm, Sunday, 21 June 2026
  • 5 Time View

রাব্বি রহমান,নীলফামারী প্রতিনিধি: আলুর হিমাগারে সংরক্ষণ ভাড়া কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) সকালে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে আলুর ভ্যালু চেইন প্রপোরশনাল বডি এবং জেলার বিভিন্ন কৃষক সংগঠন। মানববন্ধনে জেলার সদর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার শতাধিক আলুচাষি, কৃষক প্রতিনিধি, কৃষক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা কৃষি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আলুর বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং হিমাগারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে নীলফামারীর কৃষকরা প্রতি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন করেন। কিন্তু উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিমাগারে সংরক্ষণ খরচের অতিরিক্ত চাপ। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে লোকসানে আলু বিক্রি করছেন কিংবা ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান হিমাগার ভাড়া কৃষকদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা এমনিতেই চাপে রয়েছেন। এর ওপর সংরক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় আলুচাষ অনেকের জন্য অলাভজনক হয়ে পড়ছে।
তারা বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে আলুর হিমাগার ভাড়া কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এ সময় “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”, “হিমাগার ভাড়া কমাতে হবে”, “আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে”, “কৃষকের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে”সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা।
কৃষক নেতারা বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অথচ কৃষকরা বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আলু চাষে আগ্রহ কমে যাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে হিমাগার ভাড়া কমানো, আলুর বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কৃষকদের যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণকর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে আলুচাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং হিমাগার ভাড়া কমিয়ে কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব করবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির কার্যকর বাস্তবায়নই পারে কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তাই কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মোহনগঞ্জে প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব ও নির্যাতনের অভিযোগ, আইনের আশ্রয় নিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন দুই নারী

‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগানে আলুচাষিদের বিক্ষোভ, হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবি

Update Time : 07:55:51 pm, Sunday, 21 June 2026

রাব্বি রহমান,নীলফামারী প্রতিনিধি: আলুর হিমাগারে সংরক্ষণ ভাড়া কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) সকালে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে আলুর ভ্যালু চেইন প্রপোরশনাল বডি এবং জেলার বিভিন্ন কৃষক সংগঠন। মানববন্ধনে জেলার সদর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার শতাধিক আলুচাষি, কৃষক প্রতিনিধি, কৃষক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা কৃষি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আলুর বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং হিমাগারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে নীলফামারীর কৃষকরা প্রতি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন করেন। কিন্তু উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিমাগারে সংরক্ষণ খরচের অতিরিক্ত চাপ। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে লোকসানে আলু বিক্রি করছেন কিংবা ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান হিমাগার ভাড়া কৃষকদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা এমনিতেই চাপে রয়েছেন। এর ওপর সংরক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় আলুচাষ অনেকের জন্য অলাভজনক হয়ে পড়ছে।
তারা বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে আলুর হিমাগার ভাড়া কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এ সময় “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”, “হিমাগার ভাড়া কমাতে হবে”, “আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে”, “কৃষকের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে”সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা।
কৃষক নেতারা বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অথচ কৃষকরা বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আলু চাষে আগ্রহ কমে যাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে হিমাগার ভাড়া কমানো, আলুর বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কৃষকদের যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণকর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে আলুচাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং হিমাগার ভাড়া কমিয়ে কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব করবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির কার্যকর বাস্তবায়নই পারে কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তাই কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।