Dhaka 2:36 pm, Thursday, 11 June 2026

খুলনায় শাশুড়ি ও ২ সৎ-সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:58:23 pm, Saturday, 6 June 2026
  • 64 Time View

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম: খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় শাশুড়ি ও দুই সৎ-সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও শিশু দুটির সৎ-বাবা রফিকুল ইসলাম হাওলাদার আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার ৬ জুন দুপুরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে রফিকুল কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার ৫ জুন সকালে বরিশালের কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৬ খুলনার সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের ওসি-তদন্ত অনিমেষ মণ্ডল জানান, ঈদের দিন রাতে স্ত্রী মেরী বেগমের মা বেবী বেগম রাগ করে রফিকুলকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরের দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রফিকুল পুনরায় ওই বাড়িতে ফিরে আসেন।

সকালে মেইন গেট ও ঘরের দরজা খোলা ছিল। রফিকুল ঘরে ঢুকতে গেলে শাশুড়ি বেবী বেগম তাকে দেখে গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় রফিকুল তাকে ঠেলা দিয়ে ঘরের ভেতরে ফেলে দেন। গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে শাশুড়ি বেবী বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

এরপর বিষয়টি শিশু শামীম দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। শামীমের চিৎকার শুনে মুস্তাকিম ঘুম থেকে জেগে হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলে। ট্রাংকের ওপর থাকা পায়জামা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকেও হত্যা করেন রফিকুল।

হত্যার পর শাশুড়ি বেবী বেগমের মরদেহ খাটের নিচে, শামীমের মরদেহ ট্রাংকের ওপর ও মুস্তাকিমের মরদেহ ওয়ারড্রবের একটি ড্রয়ারের মধ্যে লুকিয়ে রেখে ঘরে তালা দেন রফিকুল।

মেরী বেগম ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাইরে থেকে দরজা বন্ধ। ভেতর থেকে একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর রফিকুল দরজা খুলে দেন। ছেলে ও মায়ের সন্ধান করতে থাকলে রফিকুল তাকে জানান- শাশুড়ি তাদের সাথে থাকবেন না বলে বাড়ি থেকে চলে গেছেন।

দুপুরে একই বাড়িতে একসাথে খাওয়া দাওয়া করেন রফিকুল। ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে তালা কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় রফিকুল ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। প্রথমে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এসে দৌলতপুর ও ফুলবাড়িগেটে কিছুক্ষণ অবস্থান করে রাতে বরিশালের উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন।

শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা আসামি রফিকুলকে থানায় হস্তান্তর করেন। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে এ সময় তিনি নিজের দোষ অস্বীকার করতে থাকেন। পরে রাতে নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চান। পরে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে নেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাগরপুরে গুরুত্বপূর্ণ মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

খুলনায় শাশুড়ি ও ২ সৎ-সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি

Update Time : 06:58:23 pm, Saturday, 6 June 2026

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম: খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় শাশুড়ি ও দুই সৎ-সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও শিশু দুটির সৎ-বাবা রফিকুল ইসলাম হাওলাদার আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার ৬ জুন দুপুরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে রফিকুল কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার ৫ জুন সকালে বরিশালের কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৬ খুলনার সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের ওসি-তদন্ত অনিমেষ মণ্ডল জানান, ঈদের দিন রাতে স্ত্রী মেরী বেগমের মা বেবী বেগম রাগ করে রফিকুলকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরের দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রফিকুল পুনরায় ওই বাড়িতে ফিরে আসেন।

সকালে মেইন গেট ও ঘরের দরজা খোলা ছিল। রফিকুল ঘরে ঢুকতে গেলে শাশুড়ি বেবী বেগম তাকে দেখে গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় রফিকুল তাকে ঠেলা দিয়ে ঘরের ভেতরে ফেলে দেন। গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে শাশুড়ি বেবী বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

এরপর বিষয়টি শিশু শামীম দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। শামীমের চিৎকার শুনে মুস্তাকিম ঘুম থেকে জেগে হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলে। ট্রাংকের ওপর থাকা পায়জামা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকেও হত্যা করেন রফিকুল।

হত্যার পর শাশুড়ি বেবী বেগমের মরদেহ খাটের নিচে, শামীমের মরদেহ ট্রাংকের ওপর ও মুস্তাকিমের মরদেহ ওয়ারড্রবের একটি ড্রয়ারের মধ্যে লুকিয়ে রেখে ঘরে তালা দেন রফিকুল।

মেরী বেগম ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাইরে থেকে দরজা বন্ধ। ভেতর থেকে একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর রফিকুল দরজা খুলে দেন। ছেলে ও মায়ের সন্ধান করতে থাকলে রফিকুল তাকে জানান- শাশুড়ি তাদের সাথে থাকবেন না বলে বাড়ি থেকে চলে গেছেন।

দুপুরে একই বাড়িতে একসাথে খাওয়া দাওয়া করেন রফিকুল। ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে তালা কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় রফিকুল ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। প্রথমে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এসে দৌলতপুর ও ফুলবাড়িগেটে কিছুক্ষণ অবস্থান করে রাতে বরিশালের উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন।

শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা আসামি রফিকুলকে থানায় হস্তান্তর করেন। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে এ সময় তিনি নিজের দোষ অস্বীকার করতে থাকেন। পরে রাতে নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চান। পরে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে নেওয়া হয়।