
নিজস্ব প্রতিবেদক- জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত কথিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি বাতিল এবং দেশের স্বার্থবিরোধী সব আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনে গণহত্যা এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ বন্ধের দাবিও জানানো হয়।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর তোপখানা রোডের জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দেশের অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাদের দাবি, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি এবং জাতীয় সংসদেও তা উপস্থাপন করা হয়নি।
বক্তারা বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে মার্কিন পণ্য আমদানি করতে হবে, যার ফলে স্থানীয় শিল্প ও কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এতে দেশের বাজারে বিদেশি পণ্যের আধিপত্য বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় উৎপাদন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও দাবি করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর বা ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। বক্তারা বন্দর, বিমানঘাঁটি ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনা বিদেশি শক্তির ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা GSOMIA ও ACSA-এর মতো নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এসব চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাত, ইরানে হামলা এবং বিভিন্ন দেশে সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরোধী বৈশ্বিক জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভা থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি সংসদে উপস্থাপন, সব আন্তর্জাতিক চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ, জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল, বন্দর ও কৌশলগত স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ বন্ধ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন।
আয়োজকদের মতে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি রক্ষার স্বার্থে এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণআলোচনা প্রয়োজন।
গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। জোটে বাংলাদেশের বিভিন্ন বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সংগঠন অংশগ্রহণ করে।
জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল 















