Dhaka 4:07 pm, Thursday, 11 June 2026

সংঘাত নয়,সম্প্রীতির পথে সালথা:অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুলের সংবর্ধনা

ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের সংঘাত, সহিংসতা ও রক্তপাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন। স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান এবং সেই উদ্যোগকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে শান্তি ও মানবিকতার এক ইতিবাচক বার্তা।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে জমা দেন। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে নেওয়া এ উদ্যোগকে এলাকাবাসীও আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক ছিল অস্ত্র জমাদানকারীদের প্রতি প্রশাসনের ফুলেল সংবর্ধনা। শাস্তির ভয় নয়, বরং সম্মান, সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার এই উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, “জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তারা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ইতিবাচক উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমেও অপরাধপ্রবণতা হ্রাস করা সম্ভব। সালথার এই উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের মানবিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি ভবিষ্যতে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, অপরাধ কমানো এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে অস্ত্র জমাদানের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সবাই শান্তি, সম্প্রীতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সালথার এ উদ্যোগ জেলার অন্যান্য এলাকাতেও অনুসরণ করা হবে এবং একটি নিরাপদ ও সহনশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

সালথার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রমাণ করেছে—সংঘাত নয়, সম্প্রীতির পথেই টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব। :::

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গ্রাম্য শালিশে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, হাসপাতালে ভর্তি

সংঘাত নয়,সম্প্রীতির পথে সালথা:অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুলের সংবর্ধনা

Update Time : 11:41:18 pm, Wednesday, 10 June 2026

ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের সংঘাত, সহিংসতা ও রক্তপাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন। স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান এবং সেই উদ্যোগকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে শান্তি ও মানবিকতার এক ইতিবাচক বার্তা।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে জমা দেন। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে নেওয়া এ উদ্যোগকে এলাকাবাসীও আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক ছিল অস্ত্র জমাদানকারীদের প্রতি প্রশাসনের ফুলেল সংবর্ধনা। শাস্তির ভয় নয়, বরং সম্মান, সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার এই উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, “জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তারা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ইতিবাচক উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমেও অপরাধপ্রবণতা হ্রাস করা সম্ভব। সালথার এই উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের মানবিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি ভবিষ্যতে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, অপরাধ কমানো এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে অস্ত্র জমাদানের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সবাই শান্তি, সম্প্রীতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সালথার এ উদ্যোগ জেলার অন্যান্য এলাকাতেও অনুসরণ করা হবে এবং একটি নিরাপদ ও সহনশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

সালথার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রমাণ করেছে—সংঘাত নয়, সম্প্রীতির পথেই টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব। :::