Dhaka 7:29 am, Friday, 5 June 2026

খুলনায় বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ের জেরে খুন.কুপিয়ে হত্যা রাশেদকে

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:32:43 pm, Tuesday, 2 June 2026
  • 41 Time View

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম: খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন স্কুলভিটা এলাকায় বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে করার জের ধরে ২১ বছরের যুবক রাশেদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২ জুন সকাল ৮টার দিকে স্কুলভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত রাশেদ ও মূল অভিযুক্ত ইমরানের পরিচয় প্রায় তিন বছর আগের। পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে মাদক মামলায় কারাগারে থাকাকালে তাদের পরিচয় হয়। কারামুক্তির পর দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

পরবর্তীতে ইমরান আবার কারাগারে গেলে রাশেদ তার স্ত্রী ফাহিমাকে বিয়ে করেন। পুলিশের ভাষায়, “বন্ধুর অবর্তমানে তার স্ত্রীকে বিয়ে” — এই ঘটনাই দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতার জন্ম দেয়। পরিবারের দাবি, এই বিরোধের জেরে গত ১৯ মার্চ রাতেও রাশেদের বাড়িতে হামলা হয়। দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে রাশেদের বাবা, মা, বড় ভাই ও স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় ইমরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান।

১৯ মার্চের গুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২ জুন সকালে রাশেদকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হলো।স্বজন ও স্থানীয় সূত্র বলছে, মঙ্গলবার সকালে পরিচিত এক যুবক রাশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। স্কুলভিটা স্কুলের সামনে পৌঁছানোর পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাশেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

রক্তাক্ত অবস্থায় রাশেদ রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সকাল ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ইমরানের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯ মার্চের গুলির মামলায় সে গ্রেপ্তার হয়েছিল, জামিনে বের হয়ে এসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। ঘটনাটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্কুলভিটা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিহত রাশেদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তার স্ত্রী ফাহিমা ও পরিবারের সদস্যরা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এলাকাবাসী বলছেন, জামিনে মুক্তি পাওয়া আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় এমন ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খুলনায় বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ের জেরে খুন.কুপিয়ে হত্যা রাশেদকে

Update Time : 07:32:43 pm, Tuesday, 2 June 2026

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম: খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন স্কুলভিটা এলাকায় বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে করার জের ধরে ২১ বছরের যুবক রাশেদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২ জুন সকাল ৮টার দিকে স্কুলভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত রাশেদ ও মূল অভিযুক্ত ইমরানের পরিচয় প্রায় তিন বছর আগের। পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে মাদক মামলায় কারাগারে থাকাকালে তাদের পরিচয় হয়। কারামুক্তির পর দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

পরবর্তীতে ইমরান আবার কারাগারে গেলে রাশেদ তার স্ত্রী ফাহিমাকে বিয়ে করেন। পুলিশের ভাষায়, “বন্ধুর অবর্তমানে তার স্ত্রীকে বিয়ে” — এই ঘটনাই দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতার জন্ম দেয়। পরিবারের দাবি, এই বিরোধের জেরে গত ১৯ মার্চ রাতেও রাশেদের বাড়িতে হামলা হয়। দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে রাশেদের বাবা, মা, বড় ভাই ও স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় ইমরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান।

১৯ মার্চের গুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২ জুন সকালে রাশেদকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হলো।স্বজন ও স্থানীয় সূত্র বলছে, মঙ্গলবার সকালে পরিচিত এক যুবক রাশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। স্কুলভিটা স্কুলের সামনে পৌঁছানোর পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাশেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

রক্তাক্ত অবস্থায় রাশেদ রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সকাল ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ইমরানের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯ মার্চের গুলির মামলায় সে গ্রেপ্তার হয়েছিল, জামিনে বের হয়ে এসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। ঘটনাটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্কুলভিটা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিহত রাশেদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তার স্ত্রী ফাহিমা ও পরিবারের সদস্যরা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এলাকাবাসী বলছেন, জামিনে মুক্তি পাওয়া আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় এমন ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।