
মোঃ ছাইফুল ইসলাম,বিশেষ সংবাদদাতা
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের হামলার শিকার হয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশু। সোমবার (১ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে মাজারের প্রধান ঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ শিশুটির নাম ফাতেমা (৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমার বাবা নেই এবং সে তার মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের সঙ্গে মাজার সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করত।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, শিশুটি দিঘির প্রধান ঘাটে গোসল করতে নামলে পানিতে ওঁত পেতে থাকা একটি কুমির আচমকা তার ওপর আক্রমণ করে। মুহূর্তের মধ্যে কুমিরটি তাকে টেনে গভীর পানিতে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী বলেন,“আমরা ঘাটের উপরের দিকে ছিলাম। মেয়েটি পানিতে নামার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি কুমির তাকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। তার চিৎকার শুনে সবাই ছুটে গেলেও তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন নৌকা নিয়ে দিঘিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান কার্যক্রমে যোগ দেন। প্রতিবেদনে তৈরির সময় পর্যন্ত রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বাগেরহাট স্টেশনের কর্মকর্তা শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, “কুমির অত্যন্ত হিংস্র প্রাণী। রাতের বেলায় পানিতে নেমে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন এবং পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসেও মাজারের দিঘির একটি কুমির একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ঐতিহ্যের অংশ এই কুমির
খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘির কুমিরগুলো দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। লোকমুখে প্রচলিত আছে, হযরত খানজাহান আলী (রহ.) নিজেই দিঘিতে এক জোড়া কুমির অবমুক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে তাদের নামকরণ করা হয় ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’। তাদের বংশধরদেরও একই নামে ডাকা হতো।
সর্বশেষ স্থানীয় বংশের কুমির ২০১৫ সালে মারা যায়। পরে ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। সময়ের সঙ্গে বেশ কয়েকটি কুমির মারা গেলেও বর্তমানে দিঘিতে মাত্র একটি কুমির জীবিত রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আরেকটি কুমিরের মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো বাগেরহাট জুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল রাতভর অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
মোঃ ছাইফুল ইসলাম 
















