
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম: রূপসা ও ফকিরহাট উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত ঘাটভোগ ও বাহিরদিয়া — দুই গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটেছে। মাদককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আঞ্চলিক সংঘর্ষ, ভাঙচুর, হামলা — সব পেছনে ফেলে দুই গ্রাম এখন একসাথে “মাদকমুক্ত ও শান্তির গ্রাম” গড়ার শপথ নিয়েছে।
মঙ্গলবার ২ জুন বাহিরদিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক আলোচনা সভার মাধ্যমে এই মিলনমেলা সম্পন্ন হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মানসা-বাহিরদিয়া এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি ঘোষণা করা হয়।
কিছুদিন আগেও ঘাটভোগ ও বাহিরদিয়ার মানুষ একে অপরের মুখ দেখতো না। মাদকের কারবার নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে ঘাটভোগ ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। বসতবাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর হয়। ফলাফল — দুই গ্রামের রাস্তা বন্ধ, বাজার-হাট অচল, ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারতো না। সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছিল।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রূপসা ও ফকিরহাট উপজেলার বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা *কয়েকদিন ধরেই* মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেন। অবশেষে খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকুর নেতৃত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় দুই গ্রামের মানুষ মুখোমুখি বসতে রাজি হয়। দুই উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ঘাটভোগ ও বাহিরদিয়া গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হয়।
বাহিরদিয়া স্কুল মাঠের সভায় সভাপতিত্ব করেন ঘাটভোগ ইউপি সদস্য রবীন্দ্র হালদার বাটুল। সভায় উপস্থিত ছিলেন দুই উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
সভার মূল সিদ্ধান্তগুলো. ১) মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। মানসা-বাহিরদিয়া এলাকায় মাদক সেবন, বেচা-কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে সামাজিকভাবে বয়কট + প্রশাসনে সোপর্দ।
২) প্রতিটি ওয়ার্ডে “মাদক বিরোধী কমিটি” গঠন। স্কুল-কলেজে সচেতনতা সভা।
৩) খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়িয়ে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা।
৪) ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ, ভাঙচুর বরদাশত করা হবে না। বিরোধ হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।
সভায় খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু বলেন, “মাদক, সহিংসতা ও বিভেদ কোনো সমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। আজ থেকে ঘাটভোগ-বাহিরদিয়া একটি পরিবার। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান বলেন, “আজকের এই মিলন শুধু দুই গ্রামের না, পুরো রূপসার জন্য দৃষ্টান্ত। আমরা প্রমাণ করলাম আলোচনায় সব সমাধান সম্ভব। খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমাদের হাতেই এলাকার ভবিষ্যৎ। মাদককে না বলো, খেলার মাঠকে হ্যাঁ বলো।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র, যুগ্ম আহ্বায়ক হুনায়ূন কবীর, ফকিরহাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খান লিয়াকত হোসেন, বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান মোড়ল, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু সহ দুই উপজেলার শতাধিক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধি।
সভা শেষে দুই গ্রামের মানুষ একসাথে মিষ্টি বিতরণ করে। ঘাটভোগের বাসিন্দা কুদ্দুস মেম্বার বলেন, “রাস্তা বন্ধ ছিল, এখন খুলে গেছে। ব্যবসা আবার শুরু হবে। শান্তি ফিরে এসেছে।
ঘাটভোগের রফিক মেম্বার বলেন, “মাদক শেষ করতে হলে সবাইকে এক হতে হবে। আজ আমরা এক হয়েছি। আর কেউ আমাদের ভাঙতে পারবে না।সভার শেষে দুই গ্রামের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ হাত তুলে শপথ নেন — “মাদককে না বলবো, বিভেদ ভুলে ভাই হয়ে থাকবো, শান্তির গ্রাম গড়বো।
বিরোধের কালো অধ্যায় শেষ। এখন ঘাটভোগ- বাহিরদিয়ার সামনে নতুন সকাল।
Reporter Name 
















