
আশরাফুদ্দীন আল আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার ছোনপচা গ্রামে মাজার নির্মাণ জায়েজ না নাজায়েজ—এ বিষয়ে কুরআন-হাদীসের আলোকে সমাধানের লক্ষ্যে আয়োজিত এক বৈঠকে কথিত পীর জাকারিয়ার বিরুদ্ধে কুরআন-হাদীস অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ছোনপচা মসজিদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোনপচা গ্রামে কথিত পীর জাকারিয়ার মাজার নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। এরই প্রেক্ষিতে বিষয়টির শরয়ি সমাধান খুঁজতে ছোনপচা মসজিদে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে মাজার নির্মাণ নাজায়েজ—এমন অবস্থানের পক্ষে স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, মাজার নির্মাণ জায়েজ—এমন অবস্থানের পক্ষে কথিত পীর জাকারিয়া, তার পীর নোয়াখালীর জাহাঙ্গীর এবং তাদের অনুসারীরা অংশ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকে ওলামায়ে কেরাম কুরআন-হাদীসের রেফারেন্স তুলে ধরে মাজার নির্মাণ শরিয়তসম্মত নয় বলে বক্তব্য দেন। বিপরীতে কথিত পীর জাকারিয়া ও তার পক্ষ থেকে কুরআন-হাদীসের সুস্পষ্ট দলিল উপস্থাপন না করে মনগড়া বক্তব্য ও কিছু চটি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে মাজার নির্মাণকে জায়েজ প্রমাণের চেষ্টা করা হয়। তবে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি অনুধাবন করতে পারলে পীরপক্ষ চাপে পড়ে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে কথিত পীর জাকারিয়া মাইক হাতে নিয়ে কুরআন-হাদীস সম্পর্কে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ সময় উপস্থিত সাধারণ মুসল্লি ও তৌহিদী জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তার এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর দাবি, পবিত্র কুরআন-হাদীস নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গুরুতর আঘাত হানে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ছোনপচা গ্রামে কথিত মাজার নির্মাণের বিষয়টিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুরআনকে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগের বিষয়ে কথিত পীর জাকারিয়া বলেন, এটা অনিচ্ছাকৃত ভাবে হয়েছে।
Reporter Name 



















