Dhaka 12:57 am, Monday, 29 June 2026

চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:56:32 pm, Saturday, 27 June 2026
  • 4 Time View

মোঃ শাহ্ আলম সরকার, স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর মহানগর কাশিমপুর থানাধীন এলাকায় পৃথক দুই অভিযানে চাঁদাবাজি, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ সময় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ী এলাকায় সংঘটিত একটি চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ মিঠুন দেওয়ান (২৪), মোঃ মিজান দেওয়ান (২৭), খাদিমুল ইসলাম (১৯) এবং মোঃ আলী হোসেন (৪৫).

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার ছোট ভাইও একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পূর্বে অভিযুক্ত মিঠুন দেওয়ান ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও ব্যবহারের কারণে চাকরিচ্যুত হন। এরপর থেকেই তিনি বাদীর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জুন গভীর রাতে বাদীর অনুপস্থিতিতে অভিযুক্তরা তার ছোট ভাইয়ের বাসার সামনে গিয়ে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলার পর তারা ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে। এ সময় তার হাতে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নগদ ১৬ হাজার টাকা ও প্রায় ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নেমে কাশিমপুর থানা পুলিশ ২৭ জুন রাত ১টা ২০ মিনিটে সুরাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিঠুন দেওয়ানকে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন এবং ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে কাশিমপুরের বাগবাড়ী এলাকায় পৃথক একটি ছিনতাই মামলায় মোঃ আবুল হোসেন (২৮) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার বাদী আবুল হোসেন গাজী অভিযোগ করেন, গত ১৯ জুন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাগবাড়ী এলাকার একটি ব্রিজের ওপর পৌঁছালে আবুল হোসেন ও তার তিন সহযোগী তার পথরোধ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ২৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন এবং নগদ ৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি পুলিশকে জানালে কাশিমপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে এবং তার হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খালিদ জানিয়েছে, উভয় ঘটনায় পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

Update Time : 07:56:32 pm, Saturday, 27 June 2026

মোঃ শাহ্ আলম সরকার, স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর মহানগর কাশিমপুর থানাধীন এলাকায় পৃথক দুই অভিযানে চাঁদাবাজি, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ সময় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ী এলাকায় সংঘটিত একটি চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ মিঠুন দেওয়ান (২৪), মোঃ মিজান দেওয়ান (২৭), খাদিমুল ইসলাম (১৯) এবং মোঃ আলী হোসেন (৪৫).

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার ছোট ভাইও একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পূর্বে অভিযুক্ত মিঠুন দেওয়ান ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও ব্যবহারের কারণে চাকরিচ্যুত হন। এরপর থেকেই তিনি বাদীর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জুন গভীর রাতে বাদীর অনুপস্থিতিতে অভিযুক্তরা তার ছোট ভাইয়ের বাসার সামনে গিয়ে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলার পর তারা ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে। এ সময় তার হাতে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নগদ ১৬ হাজার টাকা ও প্রায় ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নেমে কাশিমপুর থানা পুলিশ ২৭ জুন রাত ১টা ২০ মিনিটে সুরাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিঠুন দেওয়ানকে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন এবং ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে কাশিমপুরের বাগবাড়ী এলাকায় পৃথক একটি ছিনতাই মামলায় মোঃ আবুল হোসেন (২৮) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার বাদী আবুল হোসেন গাজী অভিযোগ করেন, গত ১৯ জুন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাগবাড়ী এলাকার একটি ব্রিজের ওপর পৌঁছালে আবুল হোসেন ও তার তিন সহযোগী তার পথরোধ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ২৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন এবং নগদ ৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি পুলিশকে জানালে কাশিমপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে এবং তার হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খালিদ জানিয়েছে, উভয় ঘটনায় পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।