
ই.ক.ম.জী. দে. উজ্জ্বল,নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ফতুল্লার দেলপাড়া মির্জা বাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর আলম জনি (৬২) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি (৪২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারজানা আক্তার মুন্নি পূর্বের সংসার ও তিন সন্তান রেখে কয়েক বছর আগে জাহাঙ্গীর আলম জনিকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তারা ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার ফারজানার নিজ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। নিহত জনি রাজধানীর পাঁচতারকা সোনারগাঁও হোটেলের একজন কর্মচারী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি জনির সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করেন ফারজানা। এ সন্দেহকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় এবং প্রায়ই তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও পারিবারিক কলহ চলছিল।
প্রতিবেশীরা জানান, রবিবার রাতেও পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। এরপর রাতের কোনো এক সময় জনি ঘুমিয়ে পড়লে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জনির গলায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সোমবার সকালে রক্তমাখা পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা ফারজানাকে আটক করে ঘরের ভেতরে গিয়ে জনির রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং অন্য কোনো কারণ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 




















