Dhaka 8:55 pm, Friday, 14 August 2026

‎মাদক কারবারের অভিযোগ, কোটি টাকার সম্পদের মালিক—উৎস নিয়ে প্রশ্ন ‎

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:15:22 pm, Wednesday, 12 August 2026
  • 101 Time View

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী
‎রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা সেই গ্রাম পুলিশ রুহুল আমিনকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ২০২০ সালের ওই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় তদন্তের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হলেও তিনি আর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির হননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

‎তবে বর্তমানে রুহুল আমিনকে প্রকাশ্য দিবালোকে এলাকায় চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠায় তার সম্পদের উৎস নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, একসময় সাধারণ গ্রাম পুলিশ হিসেবে পরিচিত রুহুল আমিন বর্তমানে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে-বেনামে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, এসব সম্পদের বৈধ উৎস কী এবং এসব সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে তার আয় ও সরকারি চাকরির বেতন-ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

‎রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তের সময় চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন রাজশাহী পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল উদ্দিন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়।

‎তখন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে রুহুল আমিনকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। কিন্তু এরপর তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির হয়েছেন কি না, কিংবা মামলার তদন্তে তার ভূমিকা কী—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তখন তদন্তাধীন ছিল।
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যা মামলার তদন্তে একসময় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া রুহুল আমিন বর্তমানে এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছেন। তার চলাফেরায় কোনো ধরনের গোপনীয়তা নেই। এ অবস্থায় তিনি যদি তদন্তের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

‎তাদের দাবি, রুহুল আমিনের বর্তমান অবস্থান, তার বিরুদ্ধে থাকা মাদক কারবারের অভিযোগ এবং রফিকুল হত্যা মামলায় তার ভূমিকা—এই তিনটি বিষয় পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

‎স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গ্রাম পুলিশ হিসেবে চাকরি করার পাশাপাশি রুহুল আমিনের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে। জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের পরিমাণ স্থানীয়দের কাছে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

‎তবে এসব সম্পদের পরিমাণ ও মালিকানা সম্পর্কে সরকারি নথিপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ‘কোটি টাকার মালিক’ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, আয়কর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

‎সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় গোদাগাড়ীতে মাদক পাচার ও কারবারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের সঙ্গে রুহুল আমিনের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খতিয়ে দেখা উচিত।

‎রফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মতো চাঞ্চল্যকর মামলায় যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। একইভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণিত করার দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার।

‎স্থানীয়দের প্রশ্ন—রুহুল আমিন যদি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে বর্তমানে তিনি কোথায়, কীভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তার প্রয়োজন হলে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির করা হচ্ছে কি না?

‎একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা মাদক কারবারের অভিযোগ এবং কথিত বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদৌ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

‎রফিকুল হত্যা মামলার তদন্ত, রুহুল আমিনের বর্তমান ভূমিকা, তার বিরুদ্ধে ওঠা মাদক কারবারের অভিযোগ এবং কথিত বিপুল সম্পদের উৎস—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শ্রমিকদলের মশক নিধন কার্যক্রম

‎মাদক কারবারের অভিযোগ, কোটি টাকার সম্পদের মালিক—উৎস নিয়ে প্রশ্ন ‎

Update Time : 10:15:22 pm, Wednesday, 12 August 2026

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী
‎রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা সেই গ্রাম পুলিশ রুহুল আমিনকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ২০২০ সালের ওই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় তদন্তের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হলেও তিনি আর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির হননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

‎তবে বর্তমানে রুহুল আমিনকে প্রকাশ্য দিবালোকে এলাকায় চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠায় তার সম্পদের উৎস নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, একসময় সাধারণ গ্রাম পুলিশ হিসেবে পরিচিত রুহুল আমিন বর্তমানে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে-বেনামে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, এসব সম্পদের বৈধ উৎস কী এবং এসব সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে তার আয় ও সরকারি চাকরির বেতন-ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

‎রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তের সময় চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন রাজশাহী পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল উদ্দিন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়।

‎তখন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে রুহুল আমিনকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। কিন্তু এরপর তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির হয়েছেন কি না, কিংবা মামলার তদন্তে তার ভূমিকা কী—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তখন তদন্তাধীন ছিল।
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যা মামলার তদন্তে একসময় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া রুহুল আমিন বর্তমানে এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছেন। তার চলাফেরায় কোনো ধরনের গোপনীয়তা নেই। এ অবস্থায় তিনি যদি তদন্তের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

‎তাদের দাবি, রুহুল আমিনের বর্তমান অবস্থান, তার বিরুদ্ধে থাকা মাদক কারবারের অভিযোগ এবং রফিকুল হত্যা মামলায় তার ভূমিকা—এই তিনটি বিষয় পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

‎স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গ্রাম পুলিশ হিসেবে চাকরি করার পাশাপাশি রুহুল আমিনের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে। জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের পরিমাণ স্থানীয়দের কাছে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

‎তবে এসব সম্পদের পরিমাণ ও মালিকানা সম্পর্কে সরকারি নথিপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ‘কোটি টাকার মালিক’ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, আয়কর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

‎সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় গোদাগাড়ীতে মাদক পাচার ও কারবারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের সঙ্গে রুহুল আমিনের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খতিয়ে দেখা উচিত।

‎রফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মতো চাঞ্চল্যকর মামলায় যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। একইভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণিত করার দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার।

‎স্থানীয়দের প্রশ্ন—রুহুল আমিন যদি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে বর্তমানে তিনি কোথায়, কীভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তার প্রয়োজন হলে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির করা হচ্ছে কি না?

‎একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা মাদক কারবারের অভিযোগ এবং কথিত বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদৌ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

‎রফিকুল হত্যা মামলার তদন্ত, রুহুল আমিনের বর্তমান ভূমিকা, তার বিরুদ্ধে ওঠা মাদক কারবারের অভিযোগ এবং কথিত বিপুল সম্পদের উৎস—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।