
নিজস্ব প্রতিবেদক:-মিসেস চামেলী আক্তার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় একটি আবাসিক ভবনে ঢুকে এক নারী ও তার তিন কন্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবকেরও মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিপা আক্তার (৮)। অপরদিকে, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্তের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে চিকিৎসকরা শাহিনুর বেগম, সায়মা আক্তার ও শিপা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও পথে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসক জানান, নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে গুরুতর আহত অন্তর মজুমদারকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অন্তর মজুমদার প্রায় দেড় বছর আগে ওই ভবনের ভাড়াটিয়া ছিলেন এবং প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে বাসা পরিবর্তন করেন। পূর্বপরিচিত হওয়ার কারণে তিনি সহজেই বাসায় প্রবেশ করতে সক্ষম হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ছেলে সিফাত তার মা ও তিন বোনকে একসঙ্গে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রায়পুরজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মিসেস চামেলী আক্তার 
















