Dhaka 2:51 am, Friday, 26 June 2026

অভয়ার প্রতিবাদের এক বছর পর, ডাক্তারদের হেনস্থা ও কেস দেওয়ায় বউবাজার থানার সামনে বিক্ষোভ

আজ ১৯শে আগস্ট মঙ্গলবার, ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর ফোরাম এর উদ্যোগে, কলকাতা মেডিকেল কলেজের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং সামনে থেকে, জুনিয়ার এবং সিনিয়র ডাক্তাররা মিছিল করে বউবাজার থানার সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করলেন , বিনা কারণে ডাক্তারদের উপর কেস দেওয়ায় এবং তাদেরকে থানায় নিয়ে গিয়ে চার ঘণ্টা ধরে বসিয়ে রেখে হ্যারাসমেন্ট করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিল। তাহারা জানান বিনা কারণে, পুলিশ মন্ত্রীর প্রশাসন কর্তব্যরত ডাক্তারদের উপর কেস দিয়ে থানায় ভেতর বসিয়ে রাখা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে চার ঘণ্টা ধরে জেরা করা হচ্ছে। অথচ এক বছর হয়ে গেল দোষীরা ধরা পরলনা। দোষীদের চিহ্নিত করে কোনো ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেয়া হলো না।

আজকের প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, ডঃ পূর্ণ চন্দ্র গুইন, ডক্টর উৎপল চ্যাটার্জী , ডক্টর রাজীব পান্ডে, ডক্টর মানস গুমটা, ডক্টর তমলেশ চক্রবর্তী , ডক্টর ধৃত্তিমান সরকার, ডক্টর শিল্পী দেব রায়, ডক্টর আশিস পাত্র, দিপালী রায় ঘোষ, ভাস্বতী মন্ডল সহ বহু ডক্টর।

আজকে যে সকল ডাক্তারদের থানায় ডেকে জেরা করা হয়েছে তাদের মধ্যে ছিলেন ডক্টর কৌশিক চাকী, ডক্টর অরিন্দম, ডক্টর বিশাল। জানা যায় আগামীকালও কয়েকজন ডাক্তারকে ডাকা হয়েছে জেরা করার জন্য।

বউবাজার থানার সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করার সময় বলেন, প্রশাসন ভয় পেয়েছে, তাই ডাক্তারদের ডেকে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ডাক্তারদের মুখ বন্ধ করতে কোনদিন পারবেনা, যতদিন না অভয়ার দোষীদের বিচার হচ্ছে। তবে আমাদেরকে পুনরায় বাধ্য করালো আবার মাঠে নামতে।, থানায় বিক্ষোভ দেখাতে,

একটি বছর কেটে গেল, ১৪ই আগস্ট ২০২৪ আন্দোলনের প্রথম শুরু, সারাদেশ জুড়ে চলছে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন, এক বছর বাদে প্রশাসনের ঘুম ভাঙলো, তাই তারা অযথা বিনা কারণে কর্তব্যরত ডাক্তারদের নামে কেস দিয়ে থানায় ডেকে তাদেরকে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা বসিয়ে রেখে জেরা চালিয়েছেন। এরকম একটি লজ্জা কর ঘটনা প্রথম ঘটলো, এক বছর ধরে প্রশাসন কি ঘুমাচ্ছিলেন, না ভয় পেয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন, সেটা কোনদিনও পারবেন না, আপনারা ভয় দেখাবেন, আমরা আরো তীব্র আন্দোলন করবো, তাই যতক্ষণ থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের জেরা করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ডক্টরেররা থানার সামনে বিক্ষোভ গান কবিতা মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, আমরা এক চুল রাস্তা ছাড়বো না, আপনারা যা খুশি করে নিন, আমরাও দেখতে চাই, আমরা অভয়ার পাশে ছিলাম, আছি ,থাকবো, অভয়ার মা-বাবার পাশেও আছি, আপনাদের মত কিছু নির্লজ্জ পুলিশ অফিসারদের জন্য ধর্ষকরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে, একটা কথা জেনে রাখবেন, আপনারো বাড়িতে পরিবার আছে, ছেলে মেয়ে আছে, হয়তো আপনাদের চাপে পড়ে করতে হচ্ছে, তবুও সাবধান, সত্য একদিন বেরোবেই, যতই বদলি করুক, ভয় দেখাক, থানায় নিয়ে আটকে রাখুক, আমরা রাস্তার একবিন্দু ছাড়বোনা, তাই আবারও সতর্ক করে দিচ্ছি, আপনারা পোশাকের মূল্য দিন, আপনাদেরও ডিপার্টমেন্টে আমাদেরই ছেলেমেয়েরা কাজ করছে, ওরাও চিন্তায় রয়েছে। তবে আরও একটি কথা বলি, আগামী দিনেও আরো তীব্র আন্দোলন এই থানায় হবে। ন্যায়বিচার পাবই।

যতই তুমি থানায় ডাকো , যতই তুমি দেখাও ভয়।

বিচার আমরা ছিনিয়ে নেব, এই প্রতিবাদ আমার নয়।

ক্যাপশনের মধ্য দিয়ে প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিলেন,, আপনারা আমাদের কিছুই করতে পারবেন না আমাদের মুখ বন্ধ করে রাখতে পারবেন না।

আজকের জেরার পর, ডক্টর কৌশিক চাকী বেরিয়ে এসে বলেন, যে প্রশ্নগুলো আমাকে রাখা হয়েছে, আমাকে বলতে বলা হয়েছে, সেগুলির মধ্যে কোন যুক্তিযুক্ত কথা নেই, আমাকে বলা হয়েছে বিনা পারমিশনে কেন ঐদিন মিছিল করা হয়েছিল কালিঘাটে, আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস এই সকল আন্দোলনের টাকা কোথা থেকে খরচা করেছে, কারা দিচ্ছে এই টাকা, এবং আমাকে জোরপূর্বক বলা হচ্ছে বারবার, আপনি স্বীকার করে নিন ঐদিন আপনি দোষ করেছেন, আমি একটি কথাই বলেছি, কোনটারই জবাব আপনাদেরকে দেব না, পারলে আপনি আমাদের নামে আরো এস দিন, এখনতো তিনটে চারটে করে এক একটি ডক্টরকে কেস দেয়া হয়েছে, দরকার পড়লে আরো বেশি করে দিন, আমরাও দেখতে চাই, আবারো আন্দোলন করবো, গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে করব, আপনাদের পারমিশন না নিয়ে করবো, দেখব আপনারা ডাক্তারদের কত কেস দিতে পারেন। আর আমাদের একটাই প্রতিবাদ ন্যায়ের বিচার, বিচার না হওয়া পর্যন্ত দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ থামবে না, আগামীকালও তৈরি থাকুন আমরা আবার প্রতিবাদ করব এই থানার সামনে এসে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মহাদেবপুরে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট, অনিয়মে জরিমান

অভয়ার প্রতিবাদের এক বছর পর, ডাক্তারদের হেনস্থা ও কেস দেওয়ায় বউবাজার থানার সামনে বিক্ষোভ

Update Time : 11:34:46 pm, Tuesday, 19 August 2025

আজ ১৯শে আগস্ট মঙ্গলবার, ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর ফোরাম এর উদ্যোগে, কলকাতা মেডিকেল কলেজের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং সামনে থেকে, জুনিয়ার এবং সিনিয়র ডাক্তাররা মিছিল করে বউবাজার থানার সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করলেন , বিনা কারণে ডাক্তারদের উপর কেস দেওয়ায় এবং তাদেরকে থানায় নিয়ে গিয়ে চার ঘণ্টা ধরে বসিয়ে রেখে হ্যারাসমেন্ট করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিল। তাহারা জানান বিনা কারণে, পুলিশ মন্ত্রীর প্রশাসন কর্তব্যরত ডাক্তারদের উপর কেস দিয়ে থানায় ভেতর বসিয়ে রাখা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে চার ঘণ্টা ধরে জেরা করা হচ্ছে। অথচ এক বছর হয়ে গেল দোষীরা ধরা পরলনা। দোষীদের চিহ্নিত করে কোনো ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেয়া হলো না।

আজকের প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, ডঃ পূর্ণ চন্দ্র গুইন, ডক্টর উৎপল চ্যাটার্জী , ডক্টর রাজীব পান্ডে, ডক্টর মানস গুমটা, ডক্টর তমলেশ চক্রবর্তী , ডক্টর ধৃত্তিমান সরকার, ডক্টর শিল্পী দেব রায়, ডক্টর আশিস পাত্র, দিপালী রায় ঘোষ, ভাস্বতী মন্ডল সহ বহু ডক্টর।

আজকে যে সকল ডাক্তারদের থানায় ডেকে জেরা করা হয়েছে তাদের মধ্যে ছিলেন ডক্টর কৌশিক চাকী, ডক্টর অরিন্দম, ডক্টর বিশাল। জানা যায় আগামীকালও কয়েকজন ডাক্তারকে ডাকা হয়েছে জেরা করার জন্য।

বউবাজার থানার সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করার সময় বলেন, প্রশাসন ভয় পেয়েছে, তাই ডাক্তারদের ডেকে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ডাক্তারদের মুখ বন্ধ করতে কোনদিন পারবেনা, যতদিন না অভয়ার দোষীদের বিচার হচ্ছে। তবে আমাদেরকে পুনরায় বাধ্য করালো আবার মাঠে নামতে।, থানায় বিক্ষোভ দেখাতে,

একটি বছর কেটে গেল, ১৪ই আগস্ট ২০২৪ আন্দোলনের প্রথম শুরু, সারাদেশ জুড়ে চলছে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন, এক বছর বাদে প্রশাসনের ঘুম ভাঙলো, তাই তারা অযথা বিনা কারণে কর্তব্যরত ডাক্তারদের নামে কেস দিয়ে থানায় ডেকে তাদেরকে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা বসিয়ে রেখে জেরা চালিয়েছেন। এরকম একটি লজ্জা কর ঘটনা প্রথম ঘটলো, এক বছর ধরে প্রশাসন কি ঘুমাচ্ছিলেন, না ভয় পেয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন, সেটা কোনদিনও পারবেন না, আপনারা ভয় দেখাবেন, আমরা আরো তীব্র আন্দোলন করবো, তাই যতক্ষণ থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের জেরা করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ডক্টরেররা থানার সামনে বিক্ষোভ গান কবিতা মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, আমরা এক চুল রাস্তা ছাড়বো না, আপনারা যা খুশি করে নিন, আমরাও দেখতে চাই, আমরা অভয়ার পাশে ছিলাম, আছি ,থাকবো, অভয়ার মা-বাবার পাশেও আছি, আপনাদের মত কিছু নির্লজ্জ পুলিশ অফিসারদের জন্য ধর্ষকরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে, একটা কথা জেনে রাখবেন, আপনারো বাড়িতে পরিবার আছে, ছেলে মেয়ে আছে, হয়তো আপনাদের চাপে পড়ে করতে হচ্ছে, তবুও সাবধান, সত্য একদিন বেরোবেই, যতই বদলি করুক, ভয় দেখাক, থানায় নিয়ে আটকে রাখুক, আমরা রাস্তার একবিন্দু ছাড়বোনা, তাই আবারও সতর্ক করে দিচ্ছি, আপনারা পোশাকের মূল্য দিন, আপনাদেরও ডিপার্টমেন্টে আমাদেরই ছেলেমেয়েরা কাজ করছে, ওরাও চিন্তায় রয়েছে। তবে আরও একটি কথা বলি, আগামী দিনেও আরো তীব্র আন্দোলন এই থানায় হবে। ন্যায়বিচার পাবই।

যতই তুমি থানায় ডাকো , যতই তুমি দেখাও ভয়।

বিচার আমরা ছিনিয়ে নেব, এই প্রতিবাদ আমার নয়।

ক্যাপশনের মধ্য দিয়ে প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিলেন,, আপনারা আমাদের কিছুই করতে পারবেন না আমাদের মুখ বন্ধ করে রাখতে পারবেন না।

আজকের জেরার পর, ডক্টর কৌশিক চাকী বেরিয়ে এসে বলেন, যে প্রশ্নগুলো আমাকে রাখা হয়েছে, আমাকে বলতে বলা হয়েছে, সেগুলির মধ্যে কোন যুক্তিযুক্ত কথা নেই, আমাকে বলা হয়েছে বিনা পারমিশনে কেন ঐদিন মিছিল করা হয়েছিল কালিঘাটে, আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস এই সকল আন্দোলনের টাকা কোথা থেকে খরচা করেছে, কারা দিচ্ছে এই টাকা, এবং আমাকে জোরপূর্বক বলা হচ্ছে বারবার, আপনি স্বীকার করে নিন ঐদিন আপনি দোষ করেছেন, আমি একটি কথাই বলেছি, কোনটারই জবাব আপনাদেরকে দেব না, পারলে আপনি আমাদের নামে আরো এস দিন, এখনতো তিনটে চারটে করে এক একটি ডক্টরকে কেস দেয়া হয়েছে, দরকার পড়লে আরো বেশি করে দিন, আমরাও দেখতে চাই, আবারো আন্দোলন করবো, গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে করব, আপনাদের পারমিশন না নিয়ে করবো, দেখব আপনারা ডাক্তারদের কত কেস দিতে পারেন। আর আমাদের একটাই প্রতিবাদ ন্যায়ের বিচার, বিচার না হওয়া পর্যন্ত দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ থামবে না, আগামীকালও তৈরি থাকুন আমরা আবার প্রতিবাদ করব এই থানার সামনে এসে।