Dhaka 9:23 am, Thursday, 25 June 2026

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লেখালেখি প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশে সুনাম অর্জনকারী বাঙালি লেখক শাম্মী তুলতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:-মোঃ বুলবুল আহম্মেদ

বাংলা সাহিত্যকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিভাবান লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মী শাম্মী তুলতুল। লেখালেখির মাধ্যমে মাতৃভূমি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যাঙ্গনে সমানভাবে পরিচিত এই লেখক নিজের প্রতিভা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে দুই বাংলার পাঠকমহলে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।

ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার প্রতি ছিল তার গভীর অনুরাগ। সেই আগ্রহ থেকেই তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীগুলোতে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন। তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ইত্তেফাক, খোলা কাগজ, প্রতিদিনের সংবাদ, মানবকণ্ঠ, আজাদী, পূর্বকোণ, শিশু ও নবারুণসহ বিভিন্ন জাতীয় ও সরকারি প্রকাশনায়।

দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি উপন্যাসিক, গল্পকার, শিশু-সাহিত্যিক, নজরুল অনুরাগী, রেডিও অনুষ্ঠান পরিচালক, সংবাদ পাঠিকা, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, সাংবাদিক, ভয়েস প্রেজেন্টার, দাবাড়ু এবং মডেল হিসেবে কাজ করে আসছেন। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই লেখক দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।

অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, নিউইয়র্ক, কানাডা ও প্যারিসভিত্তিক বিভিন্ন বাংলা পত্রিকা ও সাহিত্য সাময়িকীতে তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। একটি রক্ষণশীল পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি, মানবিক মূল্যবোধ, নারী উন্নয়ন, সংস্কৃতি এবং দেশপ্রেমমূলক বিষয় নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে লেখালেখি করে আসছেন। পারিবারিক ও সামাজিক নানা বাধা অতিক্রম করেও সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে শাম্মী তুলতুলের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। বাংলাদেশ ও ভারতকে কেন্দ্র করে রচিত তার জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— চোরাবালির বাসিন্দা, পদ্মবু ও মনজুয়াড়ি, ভূত যখন বিজ্ঞানী, গণিত মামার চামচ রহস্য এবং পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ। এসব গ্রন্থ পাঠকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কপি বিক্রি হয়েছে।

বিশেষ করে শিশু-কিশোর সাহিত্য রচনায় তার অবদান প্রশংসিত। তার রচিত পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ গল্পটি দীপ্ত টেলিভিশনে নাট্যরূপে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তার লেখা লাল শরবত নাটকটি সিটি এফএম-এ সম্প্রচারিত হয়ে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ভারতের সাহিত্য ও গবেষণা অঙ্গনেও তার রচিত গ্রন্থগুলো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি ভারতভিত্তিক একটি নতুন গ্রন্থ প্রকাশের জন্যও তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা “রুম টু রিড বাংলাদেশ”-এর এনলিস্টেড লেখিকা হিসেবে সম্মান অর্জন করেছেন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য সম্মাননাগুলোর মধ্যে রয়েছে— মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড, মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড, সাউথ এশিয়া গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড এবং নজরুল অগ্নিবীণা সাহিত্য পুরস্কার।

সম্প্রতি গত ১২ মে কলকাতা থেকে উপন্যাসের জন্য তিনি “রবীন্দ্র রত্ন পুরস্কার” লাভ করেন, যা তার সাহিত্যজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার চরিত্রে একটি ম্যাগাজিনের কভার মডেল হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছেন।

এ বিষয়ে শাম্মী তুলতুল বলেন, “বেগম রোকেয়া আমাদের প্রেরণার উৎস। তার চরিত্রে মডেল হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। তিনি যেমন একজন লেখক ছিলেন, আমিও লেখালেখির মাধ্যমে সমাজ ও দেশকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এই অর্জন আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের ও সম্মানের।”

তিনি আরও বলেন, “লেখালেখির মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের গল্প বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ আবু মোহাম্মদ খালেদের ছয় সন্তানদের মধ্যে দ্বিতীয় কন্যা শাম্মী তুলতুল। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে তিনি দুই বাংলার পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সাহিত্যপ্রেমীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী’র মতিহার সীমান্ত হতে ভারতীয় মদ জব্দ

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লেখালেখি প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশে সুনাম অর্জনকারী বাঙালি লেখক শাম্মী তুলতুল

Update Time : 10:55:10 pm, Wednesday, 24 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:-মোঃ বুলবুল আহম্মেদ

বাংলা সাহিত্যকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিভাবান লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মী শাম্মী তুলতুল। লেখালেখির মাধ্যমে মাতৃভূমি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যাঙ্গনে সমানভাবে পরিচিত এই লেখক নিজের প্রতিভা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে দুই বাংলার পাঠকমহলে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।

ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার প্রতি ছিল তার গভীর অনুরাগ। সেই আগ্রহ থেকেই তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীগুলোতে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন। তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ইত্তেফাক, খোলা কাগজ, প্রতিদিনের সংবাদ, মানবকণ্ঠ, আজাদী, পূর্বকোণ, শিশু ও নবারুণসহ বিভিন্ন জাতীয় ও সরকারি প্রকাশনায়।

দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি উপন্যাসিক, গল্পকার, শিশু-সাহিত্যিক, নজরুল অনুরাগী, রেডিও অনুষ্ঠান পরিচালক, সংবাদ পাঠিকা, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, সাংবাদিক, ভয়েস প্রেজেন্টার, দাবাড়ু এবং মডেল হিসেবে কাজ করে আসছেন। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই লেখক দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।

অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, নিউইয়র্ক, কানাডা ও প্যারিসভিত্তিক বিভিন্ন বাংলা পত্রিকা ও সাহিত্য সাময়িকীতে তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। একটি রক্ষণশীল পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি, মানবিক মূল্যবোধ, নারী উন্নয়ন, সংস্কৃতি এবং দেশপ্রেমমূলক বিষয় নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে লেখালেখি করে আসছেন। পারিবারিক ও সামাজিক নানা বাধা অতিক্রম করেও সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে শাম্মী তুলতুলের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। বাংলাদেশ ও ভারতকে কেন্দ্র করে রচিত তার জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— চোরাবালির বাসিন্দা, পদ্মবু ও মনজুয়াড়ি, ভূত যখন বিজ্ঞানী, গণিত মামার চামচ রহস্য এবং পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ। এসব গ্রন্থ পাঠকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কপি বিক্রি হয়েছে।

বিশেষ করে শিশু-কিশোর সাহিত্য রচনায় তার অবদান প্রশংসিত। তার রচিত পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ গল্পটি দীপ্ত টেলিভিশনে নাট্যরূপে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তার লেখা লাল শরবত নাটকটি সিটি এফএম-এ সম্প্রচারিত হয়ে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ভারতের সাহিত্য ও গবেষণা অঙ্গনেও তার রচিত গ্রন্থগুলো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি ভারতভিত্তিক একটি নতুন গ্রন্থ প্রকাশের জন্যও তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা “রুম টু রিড বাংলাদেশ”-এর এনলিস্টেড লেখিকা হিসেবে সম্মান অর্জন করেছেন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য সম্মাননাগুলোর মধ্যে রয়েছে— মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড, মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড, সাউথ এশিয়া গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড এবং নজরুল অগ্নিবীণা সাহিত্য পুরস্কার।

সম্প্রতি গত ১২ মে কলকাতা থেকে উপন্যাসের জন্য তিনি “রবীন্দ্র রত্ন পুরস্কার” লাভ করেন, যা তার সাহিত্যজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার চরিত্রে একটি ম্যাগাজিনের কভার মডেল হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছেন।

এ বিষয়ে শাম্মী তুলতুল বলেন, “বেগম রোকেয়া আমাদের প্রেরণার উৎস। তার চরিত্রে মডেল হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। তিনি যেমন একজন লেখক ছিলেন, আমিও লেখালেখির মাধ্যমে সমাজ ও দেশকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এই অর্জন আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের ও সম্মানের।”

তিনি আরও বলেন, “লেখালেখির মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের গল্প বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ আবু মোহাম্মদ খালেদের ছয় সন্তানদের মধ্যে দ্বিতীয় কন্যা শাম্মী তুলতুল। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে তিনি দুই বাংলার পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সাহিত্যপ্রেমীরা।