
আব্দুল হালিম,নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর:
রংপুরে সরকারি চাকরির পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা প্রদান, জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার দিবাগত রাতে রংপুর মহানগরীর ধাপ জেল রোড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ যুবককে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— রংপুর নগরীর চিড়ারমিল এলাকার ফেরদৌস আলমের ছেলে তাওরাত আকরাম (২৭), সাতগাড়া এলাকার মোবারক আলীর ছেলে বাঁধন মিয়া (৩৭), ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে সাহেব আলী (২৬), বদরগঞ্জ উপজেলার তালুক দামোদরপুর এলাকার ইমদাদুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান (৩৪), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার তেলিপাড়া এলাকার হাফিজ আল মামুন (৩০) এবং আশরাফুল ইসলাম (৩৬)।
অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৫টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ৮টি স্বাক্ষরিত চেক, ৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ৪টি মূল শিক্ষাগত সনদপত্র এবং ৫টি স্মার্টফোন। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পরদিন ২০ জুন ২০২৬ শনিবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ডাক বিভাগের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। চক্রটি পরীক্ষার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহ, প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়া এবং বিভিন্ন জালিয়াতির আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করছিল। এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত কি না, তাদের সঙ্গে আরও কারা সম্পৃক্ত রয়েছে এবং কতজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে— এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। পরীক্ষা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, চাকরিপ্রার্থীদের স্বপ্ন নিয়ে প্রতারণা এবং নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্টের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযান ভবিষ্যতে জালিয়াত চক্রগুলোর জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।
মোঃ আব্দুল হালিম 





















