Dhaka 3:47 pm, Thursday, 25 June 2026

তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ল নির্মাণাধীন গোডাউন, ধ্বংসস্তূপে চাপা বহু শ্রমিক; ব্যাপক উদ্ধার অভিযান

সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ) প্রতিনিধি:

কলকাতার তারাতলা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন গোডাউনের ছাদ ধসে পড়ে বহু শ্রমিক চাপা পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুর প্রায় ১২টা ১০ মিনিটে তারাতলা ব্রিজ সংলগ্ন পি-২০ ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট রোড এলাকায় অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন গোডাউনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নির্মাণকাজ চলাকালে হঠাৎ করেই গোডাউনের বিশাল ছাদ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। এ সময় ভেতরে কর্মরত বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ, দমকল বাহিনী, সেনাবাহিনী, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (কেএমসি) উদ্ধারকারী দল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় ভারী ক্রেন, গ্যাস কাটার এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্নিফার ডগ।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশ কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং স্নিফার ডগের সহায়তায় কোথায় শ্রমিকরা আটকে থাকতে পারেন তা শনাক্ত করার চেষ্টা চালান। পাশাপাশি জীবিতদের কাছে অক্সিজেন, খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উদ্ধারকারী সূত্রে জানা যায়, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ২২ জনকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের চিকিৎসক দল ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাও জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য প্রস্তুত থাকেন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রমিকদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকে ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনের জীবিত উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তারাতলা ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয় এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে নির্মাণকাজের মান এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ধারণা করছেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাঠামোগত ত্রুটি কিংবা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজের অনুমোদন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তদারকির ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্যক্তিত্ববান রাজনীতির মহামানবী বেগম খালেদা জিয়া! আর ফিরে আসবে না বাংলাদেশের বুকে

তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ল নির্মাণাধীন গোডাউন, ধ্বংসস্তূপে চাপা বহু শ্রমিক; ব্যাপক উদ্ধার অভিযান

Update Time : 10:55:45 pm, Wednesday, 24 June 2026

সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ) প্রতিনিধি:

কলকাতার তারাতলা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন গোডাউনের ছাদ ধসে পড়ে বহু শ্রমিক চাপা পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুর প্রায় ১২টা ১০ মিনিটে তারাতলা ব্রিজ সংলগ্ন পি-২০ ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট রোড এলাকায় অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন গোডাউনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নির্মাণকাজ চলাকালে হঠাৎ করেই গোডাউনের বিশাল ছাদ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। এ সময় ভেতরে কর্মরত বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ, দমকল বাহিনী, সেনাবাহিনী, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (কেএমসি) উদ্ধারকারী দল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় ভারী ক্রেন, গ্যাস কাটার এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্নিফার ডগ।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশ কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং স্নিফার ডগের সহায়তায় কোথায় শ্রমিকরা আটকে থাকতে পারেন তা শনাক্ত করার চেষ্টা চালান। পাশাপাশি জীবিতদের কাছে অক্সিজেন, খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উদ্ধারকারী সূত্রে জানা যায়, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ২২ জনকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের চিকিৎসক দল ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাও জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য প্রস্তুত থাকেন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রমিকদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকে ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনের জীবিত উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তারাতলা ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয় এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে নির্মাণকাজের মান এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ধারণা করছেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাঠামোগত ত্রুটি কিংবা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজের অনুমোদন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তদারকির ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।