Dhaka 1:44 am, Monday, 29 June 2026

উন্নত জাতের হাঁস পালনে সফল-উদোক্ত্যা ফজলুল হক

উন্নত জাতের হাঁস পালনে সফল-উদোক্ত্যা ফজলুল হক

রাশেদ নিজাম শাহ,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ

বন্ধুর পরামর্শে হাঁস পালনে হাসি ফুটেছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হকের মুখে। জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদের সাথে হাঁস পালনে লাভবান হয়ে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। তিনি বেকার যুবকদের দেখাচ্ছেন সফলতার স্বপ্ন।
কিশোরগঞ্জ উপজলোর বড়ভিটা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড পশ্চিম পাড়ার নছিমুদ্দিনের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট ফজলুল হক বিভিন্ন ব্যবসা করে অর্ধ কোটি টাকা ক্ষতি করেছেন। বিভিন্ন ব্যবসায় টাকা নষ্ট করে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে পড়েন। আর্থিক অনটনসহ পথে বসার উপক্রম হয়। এসময় তার এক বন্ধু পরামর্শ দেয় জমিতে বিভিন্ন ফসলের সাথে হাঁস পালন লাভজনক। সেই বন্ধুর পরামর্শে একটি বড় ঘর করে চাষাবাদের জমির সাথে হাঁস পালন শুরু করেন। চার মাসে লাভের মুখ দেখে অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হকের ফিরে হাঁসি। ফিরে আসে সংসারে স্বচ্ছলতা।
ফজললু হক খামার থেকে ৩৭ টাকা দামে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা কিনেন। লালন পালনের ৪ মাসের মধ্যে হাঁসগুলো ডিম উৎপাদন শুরু করে। এ হাসঁগুলো থেকে উৎপাদিত ডিম ১৪ টাকা দামে পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার পাকা লাভ হচ্ছে।
উদ্যোক্তা ফজললু হক জানান, হাঁস পালনের খরচ বাদ দিয়ে দিনে প্রায় ২ হাজারের বেশি লাভ হচ্ছে। এতে মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখছি। পেনশন ও ধার দেনা করে বিভিন্ন ব্যবসা করে অর্ধ কোটি টাকা নষ্ট করে দিশেহারা হয়েছিলাম। সংসার চলবে কি করে। হাঁস পালন আমাকে সেই দিশেহারা পথ থেকে আলোতে এনেছে।

খামারিদের উদ্দেশ্যে ফজলুল হক বলেন,হাসের খামার লাভজনক আছে তবে জেনে বুঝে করতে হবে হুট করে করা যাবে না, অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে, শুরুর দিকে ১০০-২০০ হাঁস দিয়ে করলে ভাল হয়, বছর খানেক পরে খামার বাড়ালে ভাল হবে।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার মোঃ নুরুল আজীজ বলেন,কিশোরগঞ্জের আবহাওয়া ও জলবায়ু হাঁস চাষের জন্য খুবই উপযোগী এখানে প্রাকৃতিক ভাবে অনেক জলাভুমী রয়েছে হাঁস বিচরণ করতে পারে।
ডিমের জন্য খাকি কেম্বল ও জেন্ডিং হাঁস ভাল।হাঁসের দুটি রোগ মারাত্মক ডার্ক প্লে ও ডার্ক কলেরা এই সব রোগের প্রতিষেধক ব্যবস্হা আছে সময়মত নিতে হয়।খামারিদের খরচ কমানোর জন্য বা বেশি লাভ করতে চাইলে ফিডের পাশাপাশি,শামুক,ঝিনুক,কলমিশাক,সজনেপাতা খাওয়াতে পারে এক্ষেত্রে ৫০%ফিড থাকবে ৫০% অন্যান্য খাবার,আর একসাথে মুরগি ও হাঁস করা যাবে না এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জার সম্ভাবনা থাকে, যে কোন পরামর্শের জন্য ও ভ্যাকসিনের জন্য উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে খামারিরা আসতে পারে।

রাশেদ নিজাম শাহ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

উন্নত জাতের হাঁস পালনে সফল-উদোক্ত্যা ফজলুল হক

Update Time : 12:56:55 pm, Thursday, 11 September 2025

উন্নত জাতের হাঁস পালনে সফল-উদোক্ত্যা ফজলুল হক

রাশেদ নিজাম শাহ,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ

বন্ধুর পরামর্শে হাঁস পালনে হাসি ফুটেছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হকের মুখে। জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদের সাথে হাঁস পালনে লাভবান হয়ে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। তিনি বেকার যুবকদের দেখাচ্ছেন সফলতার স্বপ্ন।
কিশোরগঞ্জ উপজলোর বড়ভিটা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড পশ্চিম পাড়ার নছিমুদ্দিনের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট ফজলুল হক বিভিন্ন ব্যবসা করে অর্ধ কোটি টাকা ক্ষতি করেছেন। বিভিন্ন ব্যবসায় টাকা নষ্ট করে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে পড়েন। আর্থিক অনটনসহ পথে বসার উপক্রম হয়। এসময় তার এক বন্ধু পরামর্শ দেয় জমিতে বিভিন্ন ফসলের সাথে হাঁস পালন লাভজনক। সেই বন্ধুর পরামর্শে একটি বড় ঘর করে চাষাবাদের জমির সাথে হাঁস পালন শুরু করেন। চার মাসে লাভের মুখ দেখে অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হকের ফিরে হাঁসি। ফিরে আসে সংসারে স্বচ্ছলতা।
ফজললু হক খামার থেকে ৩৭ টাকা দামে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা কিনেন। লালন পালনের ৪ মাসের মধ্যে হাঁসগুলো ডিম উৎপাদন শুরু করে। এ হাসঁগুলো থেকে উৎপাদিত ডিম ১৪ টাকা দামে পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার পাকা লাভ হচ্ছে।
উদ্যোক্তা ফজললু হক জানান, হাঁস পালনের খরচ বাদ দিয়ে দিনে প্রায় ২ হাজারের বেশি লাভ হচ্ছে। এতে মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখছি। পেনশন ও ধার দেনা করে বিভিন্ন ব্যবসা করে অর্ধ কোটি টাকা নষ্ট করে দিশেহারা হয়েছিলাম। সংসার চলবে কি করে। হাঁস পালন আমাকে সেই দিশেহারা পথ থেকে আলোতে এনেছে।

খামারিদের উদ্দেশ্যে ফজলুল হক বলেন,হাসের খামার লাভজনক আছে তবে জেনে বুঝে করতে হবে হুট করে করা যাবে না, অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে, শুরুর দিকে ১০০-২০০ হাঁস দিয়ে করলে ভাল হয়, বছর খানেক পরে খামার বাড়ালে ভাল হবে।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার মোঃ নুরুল আজীজ বলেন,কিশোরগঞ্জের আবহাওয়া ও জলবায়ু হাঁস চাষের জন্য খুবই উপযোগী এখানে প্রাকৃতিক ভাবে অনেক জলাভুমী রয়েছে হাঁস বিচরণ করতে পারে।
ডিমের জন্য খাকি কেম্বল ও জেন্ডিং হাঁস ভাল।হাঁসের দুটি রোগ মারাত্মক ডার্ক প্লে ও ডার্ক কলেরা এই সব রোগের প্রতিষেধক ব্যবস্হা আছে সময়মত নিতে হয়।খামারিদের খরচ কমানোর জন্য বা বেশি লাভ করতে চাইলে ফিডের পাশাপাশি,শামুক,ঝিনুক,কলমিশাক,সজনেপাতা খাওয়াতে পারে এক্ষেত্রে ৫০%ফিড থাকবে ৫০% অন্যান্য খাবার,আর একসাথে মুরগি ও হাঁস করা যাবে না এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জার সম্ভাবনা থাকে, যে কোন পরামর্শের জন্য ও ভ্যাকসিনের জন্য উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে খামারিরা আসতে পারে।

রাশেদ নিজাম শাহ