Dhaka 6:34 pm, Monday, 20 April 2026

উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির৬ বছর যাবৎ ধরে বহাল তবিয়ত থাকার অভিযোগে এলাকাবাসী ক্ষোভ 

পঞ্চগড় প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম:-

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে যাবৎ বহালতবিয়ত অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে।

ওই তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীর নাম সুমন আলী। তিনি গত ৩০ অক্টোবর ২০২০ সাল থেকে নাজির পদে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত আছেন। তিনি পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়া হতে বদলী হয়ে আসেন দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে।

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সর্বোচ্চ ৩ বছর চাকুরি করার নিয়ম থাকলেও সুমন আলীর বিরুদ্ধে রয়েছে অন্য হিসেব। দীর্ঘ ৬ বছর একই কর্মস্থলে থাকার কারনে সরকারী চাকুরীবিধি অমান্য করে একই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করার কারনে তার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অভিযোগ।

২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৪০টি হাট চান্দিনার লাইসেন্সের অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। চান্দিনা লাইসেন্স দিতে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টিএনও এবং ডিসির নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। তাদের কে টাকা না দিলে হাট চান্দিনার লাইসেন্স পাওয়া যাবেনা এমন অজুহাত দিয়েই নেয়া হয় টাকা। এগুলো সরজমিনে তদন্ত করলেই তথ্য পাওয়া যাবে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্ষনস্থায়ী ভাবে অবস্থান করার কারনে এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কারনে তিনি অফিসে একক আদিপত্য বিস্তার করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে অফিস চলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভূল বুঝিয়ে অফিসে আসা ভুক্তভোগী সাধারন সেবা প্রার্থীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। তারপর করে দেন তাদের কাজ। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না বলে তারা জানান ভুক্তভোগীরা।

এক সময়ে নাজির সুমন আলী খারিজের রিপোর্ট দিতো। সে যাচাইকারীও ছিল। হাট বাজারের লাইসেন্স থেকে শুরু নেজারতের সকল কাজ করে থাকেন তিনি। সে আর্থিক বিষয়গুলোও দেখাশুনা করেন।

নাজির সুমন আলীর অনিয়ম আর দূর্নীতির সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ পাওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামানকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। অদৃশ্য কারনে তার বদলীও হয়নি। এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে। সুমন আলীর বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নে।

নাজির সুমন আলীর বক্তব্য জানার জন্য তার অফিসে গেলে তিনি জানান, আপনি কোন জায়গায় সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকা যাবেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়ম থাকলেও তো অনেক কিছুই হয়। আপনি তো আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেছেন ভালো কথা। তবে নিউজ করলে প্রমানসহ দিবেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, সুমন আলীর বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ পান তাহলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। চলতি মাসের মধ্যেই এসিল্যান্ড যোগদান করবেন। তখন আর সিন্ডিকেট থাকবেনা। তিনি আরও বলেন, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় থাকার কোন বিধান নাই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্যাংক এশিয়া:এজেন্ট বিজনেস মিট ২০২৬-এর সফল আয়োজন

উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির৬ বছর যাবৎ ধরে বহাল তবিয়ত থাকার অভিযোগে এলাকাবাসী ক্ষোভ 

Update Time : 10:24:06 pm, Monday, 13 April 2026

পঞ্চগড় প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম:-

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে যাবৎ বহালতবিয়ত অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে।

ওই তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীর নাম সুমন আলী। তিনি গত ৩০ অক্টোবর ২০২০ সাল থেকে নাজির পদে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত আছেন। তিনি পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়া হতে বদলী হয়ে আসেন দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে।

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সর্বোচ্চ ৩ বছর চাকুরি করার নিয়ম থাকলেও সুমন আলীর বিরুদ্ধে রয়েছে অন্য হিসেব। দীর্ঘ ৬ বছর একই কর্মস্থলে থাকার কারনে সরকারী চাকুরীবিধি অমান্য করে একই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করার কারনে তার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অভিযোগ।

২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৪০টি হাট চান্দিনার লাইসেন্সের অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। চান্দিনা লাইসেন্স দিতে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টিএনও এবং ডিসির নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। তাদের কে টাকা না দিলে হাট চান্দিনার লাইসেন্স পাওয়া যাবেনা এমন অজুহাত দিয়েই নেয়া হয় টাকা। এগুলো সরজমিনে তদন্ত করলেই তথ্য পাওয়া যাবে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্ষনস্থায়ী ভাবে অবস্থান করার কারনে এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কারনে তিনি অফিসে একক আদিপত্য বিস্তার করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে অফিস চলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভূল বুঝিয়ে অফিসে আসা ভুক্তভোগী সাধারন সেবা প্রার্থীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। তারপর করে দেন তাদের কাজ। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না বলে তারা জানান ভুক্তভোগীরা।

এক সময়ে নাজির সুমন আলী খারিজের রিপোর্ট দিতো। সে যাচাইকারীও ছিল। হাট বাজারের লাইসেন্স থেকে শুরু নেজারতের সকল কাজ করে থাকেন তিনি। সে আর্থিক বিষয়গুলোও দেখাশুনা করেন।

নাজির সুমন আলীর অনিয়ম আর দূর্নীতির সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ পাওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামানকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। অদৃশ্য কারনে তার বদলীও হয়নি। এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে। সুমন আলীর বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নে।

নাজির সুমন আলীর বক্তব্য জানার জন্য তার অফিসে গেলে তিনি জানান, আপনি কোন জায়গায় সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকা যাবেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়ম থাকলেও তো অনেক কিছুই হয়। আপনি তো আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেছেন ভালো কথা। তবে নিউজ করলে প্রমানসহ দিবেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, সুমন আলীর বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ পান তাহলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। চলতি মাসের মধ্যেই এসিল্যান্ড যোগদান করবেন। তখন আর সিন্ডিকেট থাকবেনা। তিনি আরও বলেন, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় থাকার কোন বিধান নাই।