Dhaka 6:15 am, Wednesday, 5 August 2026

কলেজ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত শাহীনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক মিসেস চামেলী আক্তার:-
দিনাজপুর জেলার একটি কোচিং সেন্টারে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন,দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে (২৭) কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৩। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার দুপুরে বিষয়টি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেন রংপুর র‌্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তারকৃত শাহিনুর ইসলাম শাহিন দিনাজপুর জেলার খানসামা থানার দক্ষিণ গোবিন্দপুর এলাকার আবু সামাদের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন ও সেখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াতেন।
র‌্যাব-১৩ জানায়, ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১মে দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার সময় কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানাধীন পৌরসভার অর্ন্তগত ৬নং ওয়ার্ডের সরদার পাড়ার জনৈক মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩৫) এর বসত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ধ*র্ষ*ণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায়, ভিকটিম খানসামা মহিলা ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। ধৃত আসামি কোচিং সেন্টার চালু করে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করতো। সেই সুবাদে ভিকটিম ধৃত আসামি কর্তৃক পরিচালিত কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তেন। প্রাইভেট পড়াকালীন সময়ে মামলার আসামি ভিকটিমকে প্রায়ই প্রেম ভালবাসার প্রস্তাব ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আসছিলো। এরই প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৩মার্চ সকাল ৮.৪৫টার সময় কোচিং শেষে অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে ভিকটিমকে আলাদাভাবে কথা বলার জন্য বসিয়ে রাখে। সকল ছাত্র-ছাত্রীগণ কোচিং সেন্টার হতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে আসামি কোচিং সেন্টারের দরজা বন্ধ করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধ*র্ষ*ণ করে। ধৃত আসামি পূর্বেও ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধ*র্ষ*ণ করে। গত ১৮এপ্রিল দুপুর ১২ টার সময় ধৃত আসামি ভিকটিমকে বিয়ে করতে পারবে না বলে জানালে ভিকটিম’ তার পরিবারকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করলে গত ২৬ এপ্রিল ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে খানসামা থানায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নি’র্যাতন’ দমন আইনের ৯(১) ধারায় একটি ধ*র্ষ*ণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৪।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

রাজশাহীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন: হামলাকারীদের গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কলেজ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত শাহীনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৩

Update Time : 12:00:28 pm, Thursday, 14 May 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক মিসেস চামেলী আক্তার:-
দিনাজপুর জেলার একটি কোচিং সেন্টারে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন,দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে (২৭) কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৩। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার দুপুরে বিষয়টি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেন রংপুর র‌্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তারকৃত শাহিনুর ইসলাম শাহিন দিনাজপুর জেলার খানসামা থানার দক্ষিণ গোবিন্দপুর এলাকার আবু সামাদের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন ও সেখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াতেন।
র‌্যাব-১৩ জানায়, ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১মে দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার সময় কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানাধীন পৌরসভার অর্ন্তগত ৬নং ওয়ার্ডের সরদার পাড়ার জনৈক মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩৫) এর বসত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ধ*র্ষ*ণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায়, ভিকটিম খানসামা মহিলা ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। ধৃত আসামি কোচিং সেন্টার চালু করে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করতো। সেই সুবাদে ভিকটিম ধৃত আসামি কর্তৃক পরিচালিত কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তেন। প্রাইভেট পড়াকালীন সময়ে মামলার আসামি ভিকটিমকে প্রায়ই প্রেম ভালবাসার প্রস্তাব ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আসছিলো। এরই প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৩মার্চ সকাল ৮.৪৫টার সময় কোচিং শেষে অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে ভিকটিমকে আলাদাভাবে কথা বলার জন্য বসিয়ে রাখে। সকল ছাত্র-ছাত্রীগণ কোচিং সেন্টার হতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে আসামি কোচিং সেন্টারের দরজা বন্ধ করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধ*র্ষ*ণ করে। ধৃত আসামি পূর্বেও ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধ*র্ষ*ণ করে। গত ১৮এপ্রিল দুপুর ১২ টার সময় ধৃত আসামি ভিকটিমকে বিয়ে করতে পারবে না বলে জানালে ভিকটিম’ তার পরিবারকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করলে গত ২৬ এপ্রিল ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে খানসামা থানায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নি’র্যাতন’ দমন আইনের ৯(১) ধারায় একটি ধ*র্ষ*ণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৪।