Dhaka 8:56 pm, Tuesday, 28 April 2026

কালিয়াকৈর ফুটওভার ব্রিজে লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় ডাকাতির আতংকে সকল পেশার মানুষ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ৩টি ফুটওভার ব্রিজগুলো এখন পথচারীদের জন্য এক ভয়ংকর ডাকাতির ফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাতে ব্রিজগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পরই পুরো এলাকা গভীর অন্ধকারে ঢেকে যায়। এতে পথচারীদের চলাচলে চরম অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটওভার ব্রিজে লাইটিং এর ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পর থেকে ব্রিজটি ঘন অন্ধকারে ঢেকে যাওয়ায় অপরাধীরা সুযোগ গ্রহণ করছে। পথচারীরা জানান, প্রায়ই এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা দলবদ্ধ হয়ে পথচারীদের টার্গেট করে মূল্যবান জিনিসপত্র মোবাইল, টাকা, অলংকার, ছিনিয়ে নেয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর একা চলাচল করা নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

ছিনতাই ও অপরাধের শিকার পথচারীদের অভিজ্ঞতা চন্দ্রা এলাকার বাসিন্দা বাইজিদ বলেন, গত সপ্তাহে আমার এক আত্মীয় রাত ৯টার দিকে ফুটওভার ব্রিজ পার হওয়ার সময় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ওরা তার মোবাইল ফোন মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্রিজে লাইটিং না থাকায় কেউ কিছুই বুঝতে পারেনি। পরে স্থানীয়রা এসে তাকে সাহায্য করেন।

স্থানীয় দোকানদার মনির হোসেন বলেন, ফুটওভার ব্রিজের নিচেই আমার দোকান। প্রায়ই এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর ব্রিজে অন্ধকার নেমে এলে অপরাধীরা ওঁৎ পেতে থাকে। পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য এখানে পর্যাপ্ত আলো পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা দরকার।

ছিনতাই নয়, ব্রিজে আলো না থাকায় চলাচলের সময় পা ফসকে পড়ে দুর্ঘটনার ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম মিয়া বলেন, গত মাসে আমার এক বন্ধু ফুটওভার ব্রিজে ওঠার সময় পা পিছলে পড়ে আহত হয়েছিল। ব্রিজে কোনো আলো নেই, তাই রাতে চলাফেরা করাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।প্রশাসনের উদাসীনতা ও জনদাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

 

পথচারীরা দ্রুত ফুটওভার ব্রিজে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় এক পথচারী রাসেল বলেন, ব্রিজে যদি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ কমে যাবে। পাশাপাশি পুলিশের টহল বাড়ানো দরকার।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক কাউসার আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজে আলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাড়াতে ব্রিজ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইজ উদ্দিন বলেন, ফুটওভার ব্রিজে ছিনতাই নিরাপত্তা সমস্যার বিষয়ে আমরা অবগত। দ্রুতই এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি ব্রিজে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

 

ভয় কাটাতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন প্রতিদিন শত শত কর্মজীবী মানুষ এই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে আশপাশে অবস্থিত শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। সন্ধ্যার পর ব্রিজে চলাফেরা এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ফুটওভার ব্রিজে আলোর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই ভয় ও আতঙ্কের অবসান ঘটাতে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিবাদ

কালিয়াকৈর ফুটওভার ব্রিজে লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় ডাকাতির আতংকে সকল পেশার মানুষ

Update Time : 11:53:34 pm, Thursday, 24 April 2025

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ৩টি ফুটওভার ব্রিজগুলো এখন পথচারীদের জন্য এক ভয়ংকর ডাকাতির ফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাতে ব্রিজগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পরই পুরো এলাকা গভীর অন্ধকারে ঢেকে যায়। এতে পথচারীদের চলাচলে চরম অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটওভার ব্রিজে লাইটিং এর ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পর থেকে ব্রিজটি ঘন অন্ধকারে ঢেকে যাওয়ায় অপরাধীরা সুযোগ গ্রহণ করছে। পথচারীরা জানান, প্রায়ই এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা দলবদ্ধ হয়ে পথচারীদের টার্গেট করে মূল্যবান জিনিসপত্র মোবাইল, টাকা, অলংকার, ছিনিয়ে নেয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর একা চলাচল করা নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

ছিনতাই ও অপরাধের শিকার পথচারীদের অভিজ্ঞতা চন্দ্রা এলাকার বাসিন্দা বাইজিদ বলেন, গত সপ্তাহে আমার এক আত্মীয় রাত ৯টার দিকে ফুটওভার ব্রিজ পার হওয়ার সময় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ওরা তার মোবাইল ফোন মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্রিজে লাইটিং না থাকায় কেউ কিছুই বুঝতে পারেনি। পরে স্থানীয়রা এসে তাকে সাহায্য করেন।

স্থানীয় দোকানদার মনির হোসেন বলেন, ফুটওভার ব্রিজের নিচেই আমার দোকান। প্রায়ই এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর ব্রিজে অন্ধকার নেমে এলে অপরাধীরা ওঁৎ পেতে থাকে। পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য এখানে পর্যাপ্ত আলো পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা দরকার।

ছিনতাই নয়, ব্রিজে আলো না থাকায় চলাচলের সময় পা ফসকে পড়ে দুর্ঘটনার ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম মিয়া বলেন, গত মাসে আমার এক বন্ধু ফুটওভার ব্রিজে ওঠার সময় পা পিছলে পড়ে আহত হয়েছিল। ব্রিজে কোনো আলো নেই, তাই রাতে চলাফেরা করাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।প্রশাসনের উদাসীনতা ও জনদাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

 

পথচারীরা দ্রুত ফুটওভার ব্রিজে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় এক পথচারী রাসেল বলেন, ব্রিজে যদি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ কমে যাবে। পাশাপাশি পুলিশের টহল বাড়ানো দরকার।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক কাউসার আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজে আলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাড়াতে ব্রিজ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইজ উদ্দিন বলেন, ফুটওভার ব্রিজে ছিনতাই নিরাপত্তা সমস্যার বিষয়ে আমরা অবগত। দ্রুতই এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি ব্রিজে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

 

ভয় কাটাতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন প্রতিদিন শত শত কর্মজীবী মানুষ এই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে আশপাশে অবস্থিত শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। সন্ধ্যার পর ব্রিজে চলাফেরা এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ফুটওভার ব্রিজে আলোর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই ভয় ও আতঙ্কের অবসান ঘটাতে।