
নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা:-পুলিশের নীরবতায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, সামাজিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী মেট্রো থানার আওতাধীন জরুন বাজার এলাকার জমিদারের ইটখোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পারভীন সুলতানা ওরফে শাহানাজ নামের এক নারী কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় এলাকায় গড়ে তুলেছেন অবৈধ দেহ ব্যবসার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় থানা পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে অসামাজিক কার্যকলাপ। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সেখানে নিয়মিতভাবে ৫ থেকে ৭ জন নারীকে দিয়ে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর এমন কর্মকাণ্ড চললেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অভিযান কিংবা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ঘটনাটির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি কিছু সাংবাদিককে ফোন করে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযুক্ত স্থানের আশপাশেই রয়েছে স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রকাশ্যে এ ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় এলাকার সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যুব সমাজ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উদ্বেগ।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কোন শক্তির প্রভাবে শাহানাজ দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করছে?
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শিল্পাঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ গাজীপুর অঞ্চলে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি মাদক, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত শাহানাজ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
একই সঙ্গে এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











