
নিজস্ব প্রতিবেদক:-গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ) সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকারের ঘনিষ্ঠ দোসর হিসেবে পরিচিত এ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বহাল তবিয়তে থেকে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, সুদীপ বসাক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) থেকে শুরু করে বর্তমানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাই ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন প্রতিহতকারীদের মদদদাতা হিসেবেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় না আনলে শহীদ ছাত্রদের আত্মা শান্তি পাবে না।
জানা যায়, ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে যান্ত্রিক শাখায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগ দেন সুদীপ বসাক। পরে ২০০৯ সালে তাকে স্থায়ী করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পুরো নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়াই ছিল চাকরিবিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে সম্পন্ন।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাত্র এক বছর নয় মাসের মাথায় সহকারী প্রকৌশলী এবং প্রায় ১০ বছরের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত হওয়া ছিল সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও বিধিবহির্ভূত। এমনকি তার পদোন্নতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট হওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে তিনি বহাল থাকেন।
গাসিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর পদ শূন্য থাকায় ওই পদে যাওয়ার জন্যও জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন সুদীপ বসাক। এ নিয়ে সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মহলে চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, গাসিকের প্রায় ১ হাজার ২২৫ জন মাস্টাররোল কর্মচারীকে স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এ অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ওয়াকিটকি ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্রয়ের নামে ভুয়া দরপত্র দেখিয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে ক্রয় দেখানো হয়েছে। বাজারে কয়েক হাজার টাকার যন্ত্রপাতি কয়েক গুণ বেশি মূল্যে দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া মশকনিধন কার্যক্রম, যানবাহন শাখা, জ্বালানি তেল সরবরাহ, আইটি শাখা, ভান্ডার শাখাসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক মেয়র ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিক অধ্যাপক মাসুদুল হক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগপত্রে সুদীপ বসাকের নিয়োগ, পদোন্নতি ও সম্পদের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সুদীপ বসাকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে ও সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















