Dhaka 6:36 pm, Monday, 21 September 2026

চন্দ্রিমা এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে চন্দ্রিমা থানা পুলিশের কাছে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:38:57 pm, Sunday, 20 September 2026
  • 77 Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ ও ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি ও আবেদন জানিয়েছে এলাকাবাসী।
​চন্দ্রিমার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে আবুল কালাম আজাদ তপন স্বাক্ষরিত এক লিখিত আবেদনে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়, যা গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চন্দ্রিমা থানা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে।
​লিখিত আবেদনে চন্দ্রিমা থানা এলাকায় নিরাপদ ও সুন্দর সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ৭টি প্রধান দাবি ও পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে:
​১. কিশোরদের বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা: রাতে অপ্রয়োজনে রাস্তায় অবস্থানকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের বিষয়ে আইনানুগ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকদের অবহিত করা এবং কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা।
২. মাদকবিরোধী অভিযান: মাদকদ্রব্যের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. গোয়েন্দা নজরদারি ও শনাক্তকরণ: কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. জনসচেতনতামূলক প্রচার: মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সচেতন ও সতর্ক করতে নিয়মিত মাইকিং এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করা।
৫. সমন্বিত পদক্ষেপ: অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কিশোর-তরুণদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৬. তথ্য গ্রহণ ও যাচাই: এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাদক বিক্রি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা রাখা এবং প্রাপ্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
​স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, তারা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা কিশোরকে হয়রানি করার পক্ষে নন। বরং প্রকৃত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
​অভিযোগপত্রটি চন্দ্রিমা থানার ডিউটি অফিসার গ্রহণ করেছেন এবং এর অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, দ্রুতই চন্দ্রিমা থানা পুলিশ এই বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চন্দ্রিমা এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে চন্দ্রিমা থানা পুলিশের কাছে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি

চন্দ্রিমা এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে চন্দ্রিমা থানা পুলিশের কাছে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি

Update Time : 09:38:57 pm, Sunday, 20 September 2026

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ ও ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি ও আবেদন জানিয়েছে এলাকাবাসী।
​চন্দ্রিমার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে আবুল কালাম আজাদ তপন স্বাক্ষরিত এক লিখিত আবেদনে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়, যা গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চন্দ্রিমা থানা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে।
​লিখিত আবেদনে চন্দ্রিমা থানা এলাকায় নিরাপদ ও সুন্দর সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ৭টি প্রধান দাবি ও পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে:
​১. কিশোরদের বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা: রাতে অপ্রয়োজনে রাস্তায় অবস্থানকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের বিষয়ে আইনানুগ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকদের অবহিত করা এবং কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা।
২. মাদকবিরোধী অভিযান: মাদকদ্রব্যের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. গোয়েন্দা নজরদারি ও শনাক্তকরণ: কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. জনসচেতনতামূলক প্রচার: মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সচেতন ও সতর্ক করতে নিয়মিত মাইকিং এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করা।
৫. সমন্বিত পদক্ষেপ: অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কিশোর-তরুণদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৬. তথ্য গ্রহণ ও যাচাই: এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাদক বিক্রি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা রাখা এবং প্রাপ্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
​স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, তারা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা কিশোরকে হয়রানি করার পক্ষে নন। বরং প্রকৃত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
​অভিযোগপত্রটি চন্দ্রিমা থানার ডিউটি অফিসার গ্রহণ করেছেন এবং এর অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, দ্রুতই চন্দ্রিমা থানা পুলিশ এই বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে