Dhaka 7:14 am, Wednesday, 22 July 2026

টার্মিনাল সংস্কারে সরকারের উদ্যোগ: মহাখালীর বাস ডিপো সরছে পূর্বাচলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল:-রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মহাখালী বাস টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপো অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে বাসগুলো আর মহাখালী এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করবে না; শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহনের প্রয়োজনেই টার্মিনালে প্রবেশ করবে।

সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ক তৃতীয় বৈঠক শেষে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বৈঠকে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন শৃঙ্খলা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, রাজধানীর টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের ডিপো কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে মহাখালী এলাকায় বাসের অপ্রয়োজনীয় অবস্থান কমবে এবং যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হবে।

তিনি জানান, একইভাবে সায়দাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও বিকল্প অস্থায়ী স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব টার্মিনালের স্থায়ী ও আধুনিক সমাধান নিয়েও কাজ চলছে।

ড. হাদিউজ্জামান আরও বলেন, রাজধানীর ফুটপাত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও চলাচল উপযোগী রাখতে হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। হকারদের উচ্ছেদ না করে কীভাবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আনা যায়, সে বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করছে।

বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি বলেন, প্রকল্পটিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিনিয়োগ হয়েছে এবং নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহিয়েছে। তাই এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা না করে কীভাবে উন্নত করে কার্যকর পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বিকল্প পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় পুনরায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সায়দাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি কাঁচপুরে একটি আধুনিক আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলিস্তান থেকে বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রেখে ব্যবসায়ীদের জন্য সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর বাসের দীর্ঘক্ষণ অবস্থান যানজটের অন্যতম কারণ। এ সমস্যা সমাধানে প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাস ডিপো স্থানান্তর, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, ট্রাফিক সিগন্যাল পুনরায় চালু এবং গণপরিবহন খাতের সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খালের পানিতে ভাসমান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবকের লাশ উদ্ধার

টার্মিনাল সংস্কারে সরকারের উদ্যোগ: মহাখালীর বাস ডিপো সরছে পূর্বাচলে

Update Time : 10:59:24 pm, Monday, 15 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল:-রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মহাখালী বাস টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপো অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে বাসগুলো আর মহাখালী এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করবে না; শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহনের প্রয়োজনেই টার্মিনালে প্রবেশ করবে।

সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ক তৃতীয় বৈঠক শেষে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বৈঠকে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন শৃঙ্খলা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, রাজধানীর টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের ডিপো কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে মহাখালী এলাকায় বাসের অপ্রয়োজনীয় অবস্থান কমবে এবং যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হবে।

তিনি জানান, একইভাবে সায়দাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও বিকল্প অস্থায়ী স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব টার্মিনালের স্থায়ী ও আধুনিক সমাধান নিয়েও কাজ চলছে।

ড. হাদিউজ্জামান আরও বলেন, রাজধানীর ফুটপাত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও চলাচল উপযোগী রাখতে হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। হকারদের উচ্ছেদ না করে কীভাবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আনা যায়, সে বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করছে।

বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি বলেন, প্রকল্পটিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিনিয়োগ হয়েছে এবং নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহিয়েছে। তাই এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা না করে কীভাবে উন্নত করে কার্যকর পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বিকল্প পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় পুনরায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সায়দাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি কাঁচপুরে একটি আধুনিক আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলিস্তান থেকে বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রেখে ব্যবসায়ীদের জন্য সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর বাসের দীর্ঘক্ষণ অবস্থান যানজটের অন্যতম কারণ। এ সমস্যা সমাধানে প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাস ডিপো স্থানান্তর, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, ট্রাফিক সিগন্যাল পুনরায় চালু এবং গণপরিবহন খাতের সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।