Dhaka 9:39 pm, Saturday, 27 June 2026

নড়াইলে অনুদান বরাদ্দ নিয়ে এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:54:16 pm, Saturday, 27 June 2026
  • 16 Time View

মো তুহিন মোল্লা,নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বরাদ্দের মাস্টাররোল (তালিকা) নিয়ে ফেসবুকে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা৷ নড়াইলের বেশকিছু ফেসবুক আইডি থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একই মাস্টাররোলে দুইবার ফাইজা নামে একটি মেয়ের নামে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এক জায়গায় ফাইজার পিতার নাম ‘মোঃ বাচ্চু’ ও অন্যত্র ‘মোঃ আতাউর’ লেখা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি ফাইজা এমপির মেয়ের নাম এবং পিতার নাম ঘুরিয়ে দুইবার অনুদানের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

তবে ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, একজন এমপি জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য প্রতি অর্থবছরে ৫ লক্ষ টাকা ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল পেয়ে থাকেন। যেদিন তিনি শপথ নিয়েছেন, সেদিন থেকে এই অর্থ বছরে হিসাব করলে নড়াইল-২ আসনে ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়ার কথা। সেই টাকা নেয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ে নামের তালিকা আগে জমা দেয়া লাগে। সেজন্য এটি এমপির পিএস তৈরি করে দিয়েছেন। এখনও অনুদানের অর্থ তিনি হাতে পাননি। ফলে, আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়।

ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাখ্যা করে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, আমি এলাকায় ব্যস্ত থাকায় পিএস ফোন দিল, আজকের মধ্যে নামের তালিকাসহ ডিও জমা দিতে হবে। আমি তাকে বললাম তুমি সব ইউনিয়ন থেকে তালিকা সংগ্রহ করে জমা দাও। সে বলল, অফিস থেকে বলেছে এখন কিছু পরিচিত নাম দিয়ে এটা তুলে নিতে হবে। পরে বিভিন্ন সময়ে বিতরণ করে প্রকৃত তালিকা আপনারা সংরক্ষণ করতে পারবেন। তখন পিএস এর কাছে থাকা স্বাক্ষর করা প্যাডে এই তালিকাটা অফিসে জমা দিয়েছে। তালিকায় কাদের নাম দিয়েছে আমি দেখারও সুযোগ পায়নি। এমনকি কি সেই টাকাটা এখনও আমি হাতে পায়নি। কিন্তু এখন দেখছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক কিছু লেখা। টাকা হাতে পাওয়ার পর এই অর্থ বছর শেষ হলে অন্যান্য অনুদানের মতো প্রকৃত তালিকা নড়াইল-২ আসনের জনগণ জানতে পারবে ইনশাআল্লাহ। যারা হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য চেষ্টা করছেন তাদের জন্য আমার অফুরন্ত দোয়া। নির্বাচনের পূর্বেও আপনাদের অনেকের অপপ্রচারের কারণে মহান আল্লাহ আমার পরিচিত অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী ৫ বছরে ছুঁয়ে দেখবে না ইনশাআল্লাহ।

নিজ মেয়ের নাম তালিকায় এসেছে কিনা আসলে কীভাবে আসলো এমন প্রশ্নের উত্তরে আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, এখানে কে আমার মেয়ের নাম দিয়েছে আমি নিজেই জানিনা। আমার ব্যক্তিগত সহকারীকে তালিকাটি তৈরি করতে বলা হয়েছিল৷ আমি তালিকা তৈরিও করিনি, এমনকি অনুদানের টাকাটা এখনও পাইনি। সেখানে আত্মসাতের তো প্রশ্নই আসে না। অনুদানের টাকা বিতরণের আগেই আত্মসাতের কথা বলাই প্রমাণ করে এগুলো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার। বিষয়টি আগামীতে আরও ভালোভাবে স্পষ্ট করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

লালপুরে বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ, থানায় এজাহার​”

নড়াইলে অনুদান বরাদ্দ নিয়ে এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার

Update Time : 07:54:16 pm, Saturday, 27 June 2026

মো তুহিন মোল্লা,নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বরাদ্দের মাস্টাররোল (তালিকা) নিয়ে ফেসবুকে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা৷ নড়াইলের বেশকিছু ফেসবুক আইডি থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একই মাস্টাররোলে দুইবার ফাইজা নামে একটি মেয়ের নামে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এক জায়গায় ফাইজার পিতার নাম ‘মোঃ বাচ্চু’ ও অন্যত্র ‘মোঃ আতাউর’ লেখা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি ফাইজা এমপির মেয়ের নাম এবং পিতার নাম ঘুরিয়ে দুইবার অনুদানের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

তবে ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, একজন এমপি জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য প্রতি অর্থবছরে ৫ লক্ষ টাকা ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল পেয়ে থাকেন। যেদিন তিনি শপথ নিয়েছেন, সেদিন থেকে এই অর্থ বছরে হিসাব করলে নড়াইল-২ আসনে ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়ার কথা। সেই টাকা নেয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ে নামের তালিকা আগে জমা দেয়া লাগে। সেজন্য এটি এমপির পিএস তৈরি করে দিয়েছেন। এখনও অনুদানের অর্থ তিনি হাতে পাননি। ফলে, আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়।

ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাখ্যা করে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, আমি এলাকায় ব্যস্ত থাকায় পিএস ফোন দিল, আজকের মধ্যে নামের তালিকাসহ ডিও জমা দিতে হবে। আমি তাকে বললাম তুমি সব ইউনিয়ন থেকে তালিকা সংগ্রহ করে জমা দাও। সে বলল, অফিস থেকে বলেছে এখন কিছু পরিচিত নাম দিয়ে এটা তুলে নিতে হবে। পরে বিভিন্ন সময়ে বিতরণ করে প্রকৃত তালিকা আপনারা সংরক্ষণ করতে পারবেন। তখন পিএস এর কাছে থাকা স্বাক্ষর করা প্যাডে এই তালিকাটা অফিসে জমা দিয়েছে। তালিকায় কাদের নাম দিয়েছে আমি দেখারও সুযোগ পায়নি। এমনকি কি সেই টাকাটা এখনও আমি হাতে পায়নি। কিন্তু এখন দেখছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক কিছু লেখা। টাকা হাতে পাওয়ার পর এই অর্থ বছর শেষ হলে অন্যান্য অনুদানের মতো প্রকৃত তালিকা নড়াইল-২ আসনের জনগণ জানতে পারবে ইনশাআল্লাহ। যারা হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য চেষ্টা করছেন তাদের জন্য আমার অফুরন্ত দোয়া। নির্বাচনের পূর্বেও আপনাদের অনেকের অপপ্রচারের কারণে মহান আল্লাহ আমার পরিচিত অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী ৫ বছরে ছুঁয়ে দেখবে না ইনশাআল্লাহ।

নিজ মেয়ের নাম তালিকায় এসেছে কিনা আসলে কীভাবে আসলো এমন প্রশ্নের উত্তরে আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, এখানে কে আমার মেয়ের নাম দিয়েছে আমি নিজেই জানিনা। আমার ব্যক্তিগত সহকারীকে তালিকাটি তৈরি করতে বলা হয়েছিল৷ আমি তালিকা তৈরিও করিনি, এমনকি অনুদানের টাকাটা এখনও পাইনি। সেখানে আত্মসাতের তো প্রশ্নই আসে না। অনুদানের টাকা বিতরণের আগেই আত্মসাতের কথা বলাই প্রমাণ করে এগুলো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার। বিষয়টি আগামীতে আরও ভালোভাবে স্পষ্ট করা হবে।