Dhaka 6:34 pm, Monday, 20 April 2026

নড়াইলে পাওনা টাকা দিতে দেড়ি হওয়া ঘরের টিনের চাল খুলে নিল পাওনাদার

উজ্জ্বল রায়,নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:-

নড়াইল জেলা পাওনা টাকা না দেওয়ায় ঘরের টিন খুলে নিল পাওনাদার। নড়াইল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা না পেয়ে হামলা চালিয়ে বসতঘরের টিন ও আসবাবপত্র খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাওয়নাদারের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া গোয়াল ও রান্নাঘরের চালা খুটি এবং বেড়া খুলে নেওয়া হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী জাফর শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রুখালী গ্রামে জাফর শিকদারের ছেলে জাহিদ শিকদার একই গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা ধার নেন। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস, মিকাইল বিশ্বাস, ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে এক দল জাহিদের বাড়িতে গিয়ে ঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়। পরের দিন দ্বিতীয় দফায় গিয়ে রান্না ঘরের চালা, খুঁটি ও বসতঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যায় তারা। ঘরের টিন ও আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ঘরটির ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন জাহিদের দাদি খাদিজা বেগম (৮০)। এ সময় হামলাকারীদের পা জড়িয়ে ধরে আকুতি জানিয়েও তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
খাদিজা বেগম বলেন, তারা হঠাৎ করে এসে ঘরের টিন খুলতে থাকে। ভ্যানে করে ঘরের টিন গুলো নিয়ে যায় তারা। এ সময় আমি লাঠি ভর দিয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে যাই। আমি বুড়ো মানুষ, আমার কথায় পুলিশ আসেনি। একজন পুলিশ আসলে ও আমার ঘর খানা তারা ভাঙতে পারত না।
অভিযুক্ত পাওনাদার নড়াইলের রুখালী গ্রামের মিকাইল বিশ্বাস জানান, জাফর শিকদারের ছেলে জাহিদ শিকদার গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ২ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে তা আর শোধ করেননি। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চায়লে জাহিদ শিকদার সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে গা ঢাকা দেন জাহিদ শিকদার।
অভিযুক্ত মিকাইল বিশ্বাস আরও জানান, ভুক্তভোগী জাফর শিকদারের ছেলে জাহিদ শিকদার তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে তা ফেরত দেননি। এছাড়া জাহিদ শিকদারের কাছে পাওনা টাকাও পাবেন। তাই ঘরের চালার টিন খুলে বিক্রি করে তার পাওনা টাকা বুঝে নিয়েছেন তিনি।
নড়াইল সদরের মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্যাংক এশিয়া:এজেন্ট বিজনেস মিট ২০২৬-এর সফল আয়োজন

নড়াইলে পাওনা টাকা দিতে দেড়ি হওয়া ঘরের টিনের চাল খুলে নিল পাওনাদার

Update Time : 10:46:43 pm, Friday, 17 April 2026

উজ্জ্বল রায়,নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:-

নড়াইল জেলা পাওনা টাকা না দেওয়ায় ঘরের টিন খুলে নিল পাওনাদার। নড়াইল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা না পেয়ে হামলা চালিয়ে বসতঘরের টিন ও আসবাবপত্র খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাওয়নাদারের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া গোয়াল ও রান্নাঘরের চালা খুটি এবং বেড়া খুলে নেওয়া হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী জাফর শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রুখালী গ্রামে জাফর শিকদারের ছেলে জাহিদ শিকদার একই গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা ধার নেন। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস, মিকাইল বিশ্বাস, ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে এক দল জাহিদের বাড়িতে গিয়ে ঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়। পরের দিন দ্বিতীয় দফায় গিয়ে রান্না ঘরের চালা, খুঁটি ও বসতঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যায় তারা। ঘরের টিন ও আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ঘরটির ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন জাহিদের দাদি খাদিজা বেগম (৮০)। এ সময় হামলাকারীদের পা জড়িয়ে ধরে আকুতি জানিয়েও তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
খাদিজা বেগম বলেন, তারা হঠাৎ করে এসে ঘরের টিন খুলতে থাকে। ভ্যানে করে ঘরের টিন গুলো নিয়ে যায় তারা। এ সময় আমি লাঠি ভর দিয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে যাই। আমি বুড়ো মানুষ, আমার কথায় পুলিশ আসেনি। একজন পুলিশ আসলে ও আমার ঘর খানা তারা ভাঙতে পারত না।
অভিযুক্ত পাওনাদার নড়াইলের রুখালী গ্রামের মিকাইল বিশ্বাস জানান, জাফর শিকদারের ছেলে জাহিদ শিকদার গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ২ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে তা আর শোধ করেননি। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চায়লে জাহিদ শিকদার সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে গা ঢাকা দেন জাহিদ শিকদার।
অভিযুক্ত মিকাইল বিশ্বাস আরও জানান, ভুক্তভোগী জাফর শিকদারের ছেলে জাহিদ শিকদার তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে তা ফেরত দেননি। এছাড়া জাহিদ শিকদারের কাছে পাওনা টাকাও পাবেন। তাই ঘরের চালার টিন খুলে বিক্রি করে তার পাওনা টাকা বুঝে নিয়েছেন তিনি।
নড়াইল সদরের মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।