Dhaka 4:06 am, Sunday, 26 July 2026

পলাশবাড়ীতে বিদ্যালয়ের বারান্দায় জাতীয় পতাকা ফেলে রাখার অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:ফয়সাল রহমান জনি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে স্ট্যান্ডসহ বিদ্যালয়ের বারান্দায় অযত্নে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) স্থানীয়দের নজরে বিষয়টি আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের পাঠদান শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় পতাকা নামানোর পর সেটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে স্ট্যান্ডসহ বিদ্যালয়ের বারান্দায় রেখে দেন। পরে বিদ্যালয়ে তালা দিয়ে তারা চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পতাকাটি দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় পড়ে ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

শনিবার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা সাংবাদিকদের অবহিত করেন। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জাতীয় পতাকার অবস্থার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রতীক। তাই জাতীয় পতাকার যথাযথ মর্যাদা, ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। বিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অযত্নে পড়ে থাকার অভিযোগের বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গুলেনুর বলেন, “আমি সমাজসেবা অফিসে একটি ভাইভা বোর্ডে আছি। প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভাইভা শেষে বিষয়টি দেখছি।”

অন্যদিকে, বিষয়টি জানানো হলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়টি আমলে নিয়ে “Noted” বলে জানান।

তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দক্ষিণ কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণে সিবিসি,কর্মী নিয়োগ শুরু

পলাশবাড়ীতে বিদ্যালয়ের বারান্দায় জাতীয় পতাকা ফেলে রাখার অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

Update Time : 11:15:56 pm, Saturday, 25 July 2026

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:ফয়সাল রহমান জনি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে স্ট্যান্ডসহ বিদ্যালয়ের বারান্দায় অযত্নে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) স্থানীয়দের নজরে বিষয়টি আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের পাঠদান শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় পতাকা নামানোর পর সেটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে স্ট্যান্ডসহ বিদ্যালয়ের বারান্দায় রেখে দেন। পরে বিদ্যালয়ে তালা দিয়ে তারা চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পতাকাটি দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় পড়ে ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

শনিবার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা সাংবাদিকদের অবহিত করেন। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জাতীয় পতাকার অবস্থার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রতীক। তাই জাতীয় পতাকার যথাযথ মর্যাদা, ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। বিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অযত্নে পড়ে থাকার অভিযোগের বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গুলেনুর বলেন, “আমি সমাজসেবা অফিসে একটি ভাইভা বোর্ডে আছি। প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভাইভা শেষে বিষয়টি দেখছি।”

অন্যদিকে, বিষয়টি জানানো হলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়টি আমলে নিয়ে “Noted” বলে জানান।

তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দক্ষিণ কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।