Dhaka 12:07 pm, Monday, 29 June 2026

প্রতিমা ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনা

গাজীপুরে প্রতিমা ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনা

প্রতিনিধি:ক্রাইম রিপোর্টার,মিঠুন চন্দ্র বর্মন

গাজীপুর জেলার কাশিমপুর নামাবাজার শ্বশান ঘাট দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার দুপুরে এক জরুরি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় এবং গাজীপুর জেলা পুলিশ কমিশনার। এ সময় তারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও জঘন্য বলে আখ্যায়িত করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা বিএনপি ও গাজীপুর জেলা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। তারা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাজীপুরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। হঠাৎ করে এ ধরনের নেক্কারজনক ঘটনা ঘটানো শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপর আঘাত নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপরও ভয়াবহ আঘাত।

বিএনপি ও ছাত্রশিবির নেতারা আশ্বাস দেন যে, তারা সবসময় মন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকবেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে তারা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনকে আহ্বান জানান, যাতে প্রতিটি মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করে। তাই কেউ যদি এ ধরনের অপকর্ম করে, তবে সে শুধু একটি ধর্ম নয়, গোটা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা কোনোভাবেই এ ধরনের ঘটনা বরদাশত করবো না। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেদিকেও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।”

আলোচনা সভায় স্থানীয় এলাকাবাসীও উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে তাদের ভয়ের কথা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তারা দাবি জানান, মন্দিরের স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পূজা-পার্বণসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়।

সবশেষে বক্তারা সকলকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে চলার আহ্বান জানান এবং যে কোনো অপশক্তিকে প্রতিহত করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রতিমা ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনা

Update Time : 06:17:21 pm, Saturday, 20 September 2025

গাজীপুরে প্রতিমা ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনা

প্রতিনিধি:ক্রাইম রিপোর্টার,মিঠুন চন্দ্র বর্মন

গাজীপুর জেলার কাশিমপুর নামাবাজার শ্বশান ঘাট দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার দুপুরে এক জরুরি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় এবং গাজীপুর জেলা পুলিশ কমিশনার। এ সময় তারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও জঘন্য বলে আখ্যায়িত করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা বিএনপি ও গাজীপুর জেলা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। তারা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাজীপুরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। হঠাৎ করে এ ধরনের নেক্কারজনক ঘটনা ঘটানো শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপর আঘাত নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপরও ভয়াবহ আঘাত।

বিএনপি ও ছাত্রশিবির নেতারা আশ্বাস দেন যে, তারা সবসময় মন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকবেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে তারা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনকে আহ্বান জানান, যাতে প্রতিটি মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করে। তাই কেউ যদি এ ধরনের অপকর্ম করে, তবে সে শুধু একটি ধর্ম নয়, গোটা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা কোনোভাবেই এ ধরনের ঘটনা বরদাশত করবো না। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেদিকেও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।”

আলোচনা সভায় স্থানীয় এলাকাবাসীও উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে তাদের ভয়ের কথা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তারা দাবি জানান, মন্দিরের স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পূজা-পার্বণসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়।

সবশেষে বক্তারা সকলকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে চলার আহ্বান জানান এবং যে কোনো অপশক্তিকে প্রতিহত করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।