Dhaka 6:34 pm, Monday, 20 April 2026

বিনোদন আড্ডায় সেলে ব্রীটিদের কিছুক্ষণ

বিনোদন আড্ডায় সেলে ব্রীটিদের কিছুক্ষণ


 

বিনোদন ডেস্ক প্রতিনিধি

 

আমার লাস্ট পোস্ট এ আমি কিছু জিনিস বুঝাতে পারিনি। সবাই একতরফা ভাবে ধরে নিয়েছে আমি দোষ দিচ্ছি রোজা কে। মেয়ে হয়ে মেয়ে কে কিভাবে দোষ দিলাম এই মর্মে আপু সমাজ আমাকে এমন ভাবে মধুর ভাষায় ধুয়ে দিলো যে আমি ভাষাহীন হয়ে ২০০+ ব্যান করলাম। যাইহোক কিছু বিষয় ডিটেইলস এ লিখি।

ঘটনা ১

আয়রা যখন ৭-৮মাস বয়সি তখন তাদের সাথে আমার এক রেস্টুরেন্ট এ দেখা হয় অফিসিয়াল মিটিং এ। আমি সেলিব্রেটি দেখলেই দৌড়ে গিয়ে তাদের বিরক্ত করা পছন্দ করিনা। আর কাজের সুবাদে এবং ইউনিভার্সিটি লাইফে এতো সেলিব্রেটি আশেপাশে ঘুরে বেড়িয়েছে যে আলাদা ফ্লেক্স আসেনা। যাইহোক খাওয়ার ফাকে ফাকে দেখলাম মিথিলা পুরো সময়টা (২ঘন্টা+) একাই আয়রা কে সামলানো+টেককেয়ার+নিজের খাওয়া কমপ্লিট করলো। তাহসান নিজের দিকে ফোকাসড ছিলো সেলফি নিচ্ছিলো, হয়তো মিথিলার খেতে দেরি হচ্ছে দেখে বিরক্ত হয়ে ২-১টা কথাও শুনাচ্ছিলো। কিন্ত একবারো দেখিনি মেয়েকে কোলে নিয়ে মিথিলাকে একটু স্পেস দিতে, একটু শান্তিতে খেতে দিয়ে। মিথিলা একদম ট্যিপিক্যাল মা আর তাহসান কেতারদুরস্ত বাবাই ছিলো। সেদিন ই বুঝেছিলাম হাজব্যান্ড হিসেবে এই লোক ফ্ল্যাক্সিবল না, কন্সার্ন না। উল্টো মেল ইগো নিয়ে চলা মানুষ..

ঘটনা ২

অফিসিয়াল একটা কর্পোরেট পিকনিক এর জন্য তাহসান এর ডিমান্ড ছিলো আমাদের জোনাল হেড এর। তাই আমরা তাকে হায়ার করি। পুরোটাই হাইলি প্রফেশনাল প্রসিডইউর মেইনটেইন করেই। সে আসে ৩ঘন্টা লেট করে, আমরা যদিও কিছু বলিনি, কিন্ত একটা প্রফেশনাল স্যরি আশা করেছিলাম। যাইহোক প্রোগ্রাম শুরুর আগে আমাদের ই এক ওয়ার্কার কলিগ তার সাথে ছবি তুলতে চাইলে মিষ্টি হেসে হেসে এমন কিছু অপমানসূচক কথা সে বলেছিলো যা শুনে সেই ভাই তাৎক্ষনাত বেড়িয়ে যায় এবং পরবর্তিতে এইচআর থেকে কনসোল করে তাকে কাজে ফেরানো হয়।

এই ২টা ঘটনাই অনেক কিছুই ইন্ডিকেট করে। মানুষ হিসেবে, হাজব্যান্ড হিসেবে তাহসান কেমন আমার মনে হয় না আরো ডিস্ক্রাইব করার দরকার আছে। তবে তাই বলে অপোজিটের মানুষ টাও যে দুধে ধোয়া তাও কিন্ত নয়। সংসার করতে গেলে ২পক্ষের ই স্যাক্রিফাইস-কম্প্রোমাইজ লাগে। তবে হ্যা বেশি টক্সিক হয়ে গেলে সেটা থেকে বের হয়ে আসাই মংগল। রোজার কোয়ালিফিকেশন তাহসানের বরাবর না, ফ্যামিলি স্ট্যাটাস ও না, তার বাবার ক্রি*মিনাল হিস্ট্রি আছে, কিন্ত তাই বলে সে বেটার লাইফ পার্টনার ডিজার্ভ করেনা এমন তো বলিনি কোথাও। খুব বাজে ফ্যামিলির মেয়েও ভালো ফ্যামিলি পেতে চায় লাইফ সেটেল করতে, এই চাওয়া দোষের না বরং পজেটিভ। বিয়ের আগে কুফু মিলানো আমাদের ইসলামের রীতি। এসব কারনেই হয়তো এই নিয়ম।

মিথিলা বাচ্চার জন্য হয়তো চেস্টা করেছিলো সংসার টিকানোর, রোজার সেই পিছুটান নেই তাই সময় নষ্ট করেনি। আগের ডিভোর্স এর দায় মিথিলার উপর ই গিয়েছিলো, কুৎসিত মিডিয়া ট্রায়াল চলেছে বছরের পর বছর। এবারো হয়তো দায় রোজার উপরেই যাবে। এবারো মিডিয়া ট্রায়াল চলবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এটাই তো স্বাভাবিক। কারন এরা এই ২০২৬ এ এসেও বিলিভ করে “সোনার আংটি বাকাও ভালো”…

তাহসান-রোজা-মিথিলা নিয়ে আশা করি আমার আর কোন পোস্ট করার প্রয়োজন হবেনা কোনদিন। সবাই সবার মত করেই ভালো থাকুক। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে সঠিক হেদায়েত দান করুক…

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্যাংক এশিয়া:এজেন্ট বিজনেস মিট ২০২৬-এর সফল আয়োজন

বিনোদন আড্ডায় সেলে ব্রীটিদের কিছুক্ষণ

Update Time : 04:33:00 pm, Sunday, 11 January 2026

বিনোদন আড্ডায় সেলে ব্রীটিদের কিছুক্ষণ


 

বিনোদন ডেস্ক প্রতিনিধি

 

আমার লাস্ট পোস্ট এ আমি কিছু জিনিস বুঝাতে পারিনি। সবাই একতরফা ভাবে ধরে নিয়েছে আমি দোষ দিচ্ছি রোজা কে। মেয়ে হয়ে মেয়ে কে কিভাবে দোষ দিলাম এই মর্মে আপু সমাজ আমাকে এমন ভাবে মধুর ভাষায় ধুয়ে দিলো যে আমি ভাষাহীন হয়ে ২০০+ ব্যান করলাম। যাইহোক কিছু বিষয় ডিটেইলস এ লিখি।

ঘটনা ১

আয়রা যখন ৭-৮মাস বয়সি তখন তাদের সাথে আমার এক রেস্টুরেন্ট এ দেখা হয় অফিসিয়াল মিটিং এ। আমি সেলিব্রেটি দেখলেই দৌড়ে গিয়ে তাদের বিরক্ত করা পছন্দ করিনা। আর কাজের সুবাদে এবং ইউনিভার্সিটি লাইফে এতো সেলিব্রেটি আশেপাশে ঘুরে বেড়িয়েছে যে আলাদা ফ্লেক্স আসেনা। যাইহোক খাওয়ার ফাকে ফাকে দেখলাম মিথিলা পুরো সময়টা (২ঘন্টা+) একাই আয়রা কে সামলানো+টেককেয়ার+নিজের খাওয়া কমপ্লিট করলো। তাহসান নিজের দিকে ফোকাসড ছিলো সেলফি নিচ্ছিলো, হয়তো মিথিলার খেতে দেরি হচ্ছে দেখে বিরক্ত হয়ে ২-১টা কথাও শুনাচ্ছিলো। কিন্ত একবারো দেখিনি মেয়েকে কোলে নিয়ে মিথিলাকে একটু স্পেস দিতে, একটু শান্তিতে খেতে দিয়ে। মিথিলা একদম ট্যিপিক্যাল মা আর তাহসান কেতারদুরস্ত বাবাই ছিলো। সেদিন ই বুঝেছিলাম হাজব্যান্ড হিসেবে এই লোক ফ্ল্যাক্সিবল না, কন্সার্ন না। উল্টো মেল ইগো নিয়ে চলা মানুষ..

ঘটনা ২

অফিসিয়াল একটা কর্পোরেট পিকনিক এর জন্য তাহসান এর ডিমান্ড ছিলো আমাদের জোনাল হেড এর। তাই আমরা তাকে হায়ার করি। পুরোটাই হাইলি প্রফেশনাল প্রসিডইউর মেইনটেইন করেই। সে আসে ৩ঘন্টা লেট করে, আমরা যদিও কিছু বলিনি, কিন্ত একটা প্রফেশনাল স্যরি আশা করেছিলাম। যাইহোক প্রোগ্রাম শুরুর আগে আমাদের ই এক ওয়ার্কার কলিগ তার সাথে ছবি তুলতে চাইলে মিষ্টি হেসে হেসে এমন কিছু অপমানসূচক কথা সে বলেছিলো যা শুনে সেই ভাই তাৎক্ষনাত বেড়িয়ে যায় এবং পরবর্তিতে এইচআর থেকে কনসোল করে তাকে কাজে ফেরানো হয়।

এই ২টা ঘটনাই অনেক কিছুই ইন্ডিকেট করে। মানুষ হিসেবে, হাজব্যান্ড হিসেবে তাহসান কেমন আমার মনে হয় না আরো ডিস্ক্রাইব করার দরকার আছে। তবে তাই বলে অপোজিটের মানুষ টাও যে দুধে ধোয়া তাও কিন্ত নয়। সংসার করতে গেলে ২পক্ষের ই স্যাক্রিফাইস-কম্প্রোমাইজ লাগে। তবে হ্যা বেশি টক্সিক হয়ে গেলে সেটা থেকে বের হয়ে আসাই মংগল। রোজার কোয়ালিফিকেশন তাহসানের বরাবর না, ফ্যামিলি স্ট্যাটাস ও না, তার বাবার ক্রি*মিনাল হিস্ট্রি আছে, কিন্ত তাই বলে সে বেটার লাইফ পার্টনার ডিজার্ভ করেনা এমন তো বলিনি কোথাও। খুব বাজে ফ্যামিলির মেয়েও ভালো ফ্যামিলি পেতে চায় লাইফ সেটেল করতে, এই চাওয়া দোষের না বরং পজেটিভ। বিয়ের আগে কুফু মিলানো আমাদের ইসলামের রীতি। এসব কারনেই হয়তো এই নিয়ম।

মিথিলা বাচ্চার জন্য হয়তো চেস্টা করেছিলো সংসার টিকানোর, রোজার সেই পিছুটান নেই তাই সময় নষ্ট করেনি। আগের ডিভোর্স এর দায় মিথিলার উপর ই গিয়েছিলো, কুৎসিত মিডিয়া ট্রায়াল চলেছে বছরের পর বছর। এবারো হয়তো দায় রোজার উপরেই যাবে। এবারো মিডিয়া ট্রায়াল চলবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এটাই তো স্বাভাবিক। কারন এরা এই ২০২৬ এ এসেও বিলিভ করে “সোনার আংটি বাকাও ভালো”…

তাহসান-রোজা-মিথিলা নিয়ে আশা করি আমার আর কোন পোস্ট করার প্রয়োজন হবেনা কোনদিন। সবাই সবার মত করেই ভালো থাকুক। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে সঠিক হেদায়েত দান করুক…