Dhaka 6:33 pm, Monday, 20 April 2026

মমেক হাসপাতালে হামের প্রকোপ:৩১ মার্চ পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮৭ শিশু ভর্তি

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি মোঃ হুমায়ুন কবির

দেশে ক্রমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে মিজেলস বা হাম। টিকার স্বাভাবিক সময়ের আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়া এবং দ্রুত সংক্রমণের ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ৬৭৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৭৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ ২০১৪ এবং মার্চে শনাক্ত হয়েছেন ৩৫৬ জন। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬ জেলাতেই এর সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত রাঙামাটি, বান্দরবান, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা এই ৮ জেলায় কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৮৫ জন এবং ঢাকা জেলায় ৩২ জন। রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাবনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ৫৬ জন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৩১ মার্চ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮৭ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল, চট্টগ্রামে ৯৩ জন (চাঁদপুরে ১৯ জন), বরিশালে ৫১ জন (বরগুনায় ২৪ জন), খুলনায় ৫১ জন (যশোরে ২১ জন), সিলেটে ১৩ জন (মৌলভীবাজারে ৬ জন) এবং রংপুর বিভাগে ৬ জন (ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন) আক্রান্ত হয়েছেন ।

গত বছর এই সময়ে হাম আক্রান্ত রোগী ছিল ৯ জন। এর আগে ২০২৪ সালের এই সময়ে আক্রান্ত রোগী ছিল ৬৪ জন। দেশের আট বিভাগে শনাক্ত হামের রোগীর এমন তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ প্রফেসর ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানান, কোভিডকালীন প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের শরীরে অ্যান্টিবডির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, হাম কোভিডের চেয়েও শক্তিশালী ছোঁয়াচে রোগ, যা একজন থেকে দ্রুত ১৮ জন শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থার অভাব এবং পুষ্টিহীনতাকে তিনি বর্তমান ঝুঁকির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

চিকিৎসকরা জানান, হামের প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর, সর্দি ও শরীর ব্যথা। পরবর্তীতে চোখ লাল হওয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ বা ছোপ দেখা দেয়। এছাড়া গালের ভেতরে ‘কপলিক স্পট’ দেখা দিলে হাম নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬ মাস বয়সী শিশুদেরও হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, নতুন করে টিকা সংগ্রহের জন্য সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্যাংক এশিয়া:এজেন্ট বিজনেস মিট ২০২৬-এর সফল আয়োজন

মমেক হাসপাতালে হামের প্রকোপ:৩১ মার্চ পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮৭ শিশু ভর্তি

Update Time : 11:30:12 am, Wednesday, 1 April 2026

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি মোঃ হুমায়ুন কবির

দেশে ক্রমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে মিজেলস বা হাম। টিকার স্বাভাবিক সময়ের আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়া এবং দ্রুত সংক্রমণের ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ৬৭৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৭৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ ২০১৪ এবং মার্চে শনাক্ত হয়েছেন ৩৫৬ জন। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬ জেলাতেই এর সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত রাঙামাটি, বান্দরবান, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা এই ৮ জেলায় কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৮৫ জন এবং ঢাকা জেলায় ৩২ জন। রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাবনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ৫৬ জন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৩১ মার্চ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮৭ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল, চট্টগ্রামে ৯৩ জন (চাঁদপুরে ১৯ জন), বরিশালে ৫১ জন (বরগুনায় ২৪ জন), খুলনায় ৫১ জন (যশোরে ২১ জন), সিলেটে ১৩ জন (মৌলভীবাজারে ৬ জন) এবং রংপুর বিভাগে ৬ জন (ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন) আক্রান্ত হয়েছেন ।

গত বছর এই সময়ে হাম আক্রান্ত রোগী ছিল ৯ জন। এর আগে ২০২৪ সালের এই সময়ে আক্রান্ত রোগী ছিল ৬৪ জন। দেশের আট বিভাগে শনাক্ত হামের রোগীর এমন তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ প্রফেসর ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানান, কোভিডকালীন প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের শরীরে অ্যান্টিবডির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, হাম কোভিডের চেয়েও শক্তিশালী ছোঁয়াচে রোগ, যা একজন থেকে দ্রুত ১৮ জন শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থার অভাব এবং পুষ্টিহীনতাকে তিনি বর্তমান ঝুঁকির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

চিকিৎসকরা জানান, হামের প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর, সর্দি ও শরীর ব্যথা। পরবর্তীতে চোখ লাল হওয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ বা ছোপ দেখা দেয়। এছাড়া গালের ভেতরে ‘কপলিক স্পট’ দেখা দিলে হাম নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬ মাস বয়সী শিশুদেরও হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, নতুন করে টিকা সংগ্রহের জন্য সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।