Dhaka 12:48 am, Tuesday, 15 September 2026

রাজশাহীর তানোরে দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:43:15 pm, Thursday, 20 August 2026
  • 55 Time View

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী

রাজশাহীর তানোরে দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা
রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবরামপুর মৌজায় প্রায় ৫ একর ৪ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখল ও উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগতভাবে দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তরের অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী মহল ভুয়া ক্রয়ের দাবি তুলে এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবরামপুর মৌজার সিএস খতিয়ান ১৩৭ ও ১৩৮ এবং আরএস খতিয়ান ১২৩-ভুক্ত এই সম্পত্তিটি দীর্ঘদিন ধরে কালীমাতার নামে উৎসর্গীকৃত দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃত। বিভিন্ন সরকারি রেকর্ডপত্রেও সম্পত্তিটি দেবোত্তর হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে এবং সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষে সেবায়েতদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বংশপরম্পরায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, ভোগদখল এবং নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পূজা-অর্চনা পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়া এই জমির একটি নির্দিষ্ট অংশে বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবার দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছেন।

গত ১২ আগস্ট ২০২৬ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নতুনহাট নামোশংকরবাটি এলাকার খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ওই জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঐক্যবদ্ধভাবে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তানোর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলোর মাঝে তীব্র উচ্ছেদ-আতঙ্ক কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেবোত্তর সম্পত্তি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য বা ব্যক্তিমালিকানায় বিক্রির সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও কীভাবে সেবায়েতদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ক্রয়ের ভুয়া দাবি তুলে সম্পত্তিটি দখলের পাঁয়তারা চালানো হলো, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

এই জবরদখল প্রচেষ্টা ও উচ্ছেদ হুমকির স্থায়ী আইনি প্রতিকার এবং সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে গত ১৬ আগস্ট রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মন্দির কমিটির সভাপতি আকাশ মাহাতো ও সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার মাহাতোসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই অভিযোগ দাখিল করেন। তারা অবিলম্বে অবৈধ জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেবোত্তর সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মান্দায় ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রাজশাহীর তানোরে দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা

Update Time : 02:43:15 pm, Thursday, 20 August 2026

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী

রাজশাহীর তানোরে দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা
রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবরামপুর মৌজায় প্রায় ৫ একর ৪ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখল ও উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগতভাবে দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তরের অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী মহল ভুয়া ক্রয়ের দাবি তুলে এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবরামপুর মৌজার সিএস খতিয়ান ১৩৭ ও ১৩৮ এবং আরএস খতিয়ান ১২৩-ভুক্ত এই সম্পত্তিটি দীর্ঘদিন ধরে কালীমাতার নামে উৎসর্গীকৃত দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃত। বিভিন্ন সরকারি রেকর্ডপত্রেও সম্পত্তিটি দেবোত্তর হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে এবং সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষে সেবায়েতদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বংশপরম্পরায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, ভোগদখল এবং নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পূজা-অর্চনা পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়া এই জমির একটি নির্দিষ্ট অংশে বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবার দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছেন।

গত ১২ আগস্ট ২০২৬ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নতুনহাট নামোশংকরবাটি এলাকার খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ওই জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঐক্যবদ্ধভাবে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তানোর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলোর মাঝে তীব্র উচ্ছেদ-আতঙ্ক কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেবোত্তর সম্পত্তি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য বা ব্যক্তিমালিকানায় বিক্রির সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও কীভাবে সেবায়েতদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ক্রয়ের ভুয়া দাবি তুলে সম্পত্তিটি দখলের পাঁয়তারা চালানো হলো, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

এই জবরদখল প্রচেষ্টা ও উচ্ছেদ হুমকির স্থায়ী আইনি প্রতিকার এবং সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে গত ১৬ আগস্ট রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মন্দির কমিটির সভাপতি আকাশ মাহাতো ও সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার মাহাতোসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই অভিযোগ দাখিল করেন। তারা অবিলম্বে অবৈধ জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেবোত্তর সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।