Dhaka 7:08 am, Friday, 24 July 2026

রূপসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা সাইফুল আহত আতঙ্কিত এলাকাবাসী.

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম নিজস্ব সংবাদদাতা:-
খুলনা বিভাগীয় জেলার রূপসা উপজেলার তালতলা গ্রামে গতরাত আনুমানিক ২২:৩৫ মিনিটে দিকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা সাইনুর শেখ ওরফে সাইফুল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিটি তার মাথা ও পা ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

এ ঘটনার পরপরই তালতলা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ২ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তালতলা গ্রামের মৃত আতিয়ার শেখের ছেলে সাইনুর শেখ ৪৫ নিজ বাড়ির সামনে “বেটার দোকান” এর সামনে বসে ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই এলাকার কয়েকজন মানুষের সাথে গল্প করছিলেন তিনি।

ঠিক তখনই দুইজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে থামে। মুহূর্তের মধ্যে একজন পিস্তল বের করে সাইনুর শেখকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার মাথায়, আরেকটি পায়ে লাগে। গুলির শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুলি লাগার পর সাইনুর শেখ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মাথার গুলির কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার প্রস্তুতি চলছে।

সাইনুর শেখ তালতলা গ্রামের মৃত আতিয়ার শেখের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিলেন। রূপসা উপজেলা ও তালতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এলাকায় তিনি “সাইফুল ভাই” নামে পরিচিত।

তার স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, সাইনুর শেখ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতেন। সম্প্রতি ঘাটভোগ-বাহিরদিয়া বিরোধ নিরসনেও তিনি আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

গুলিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তালতলা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে যায়। রাত ১টার দিকেই রূপসা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে।

রূপসা থানার (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতা বা রাজনৈতিক কারণে এই হামলা হতে পারে। গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের পাল্টা ঘটনা না ঘটে।

হামলার খবর পেয়ে রাতেই রূপসা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান। খুলনা জেলা বিএনপির নেতারাও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “সাইনুর ভাই কারো সাথে শত্রুতা করতেন না। তিনি এলাকার শান্তির জন্য কাজ করতেন। কারা এই নৃশংস হামলা চালালো আমরা বিচার চাই। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এলাকাবাসী এই প্রকাশ্য দিবালোকের মতো রাতের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, রূপসায় একের পর এক সহিংস ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও এলাকায় শান্তি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ বলছে, দুর্বৃত্তদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। হামলার উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাত ১টা পর্যন্ত সাইনুর শেখের চিকিৎসা চলছে। তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। একদিকে ঘাটভোগ- বাহিরদিয়া শান্তির শপথ নিলো, অন্যদিকে তালতলায় রাতের গুলিতে আবারও রক্তাক্ত হলো রূপসা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তানোরে ১৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

রূপসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা সাইফুল আহত আতঙ্কিত এলাকাবাসী.

Update Time : 08:36:12 am, Wednesday, 3 June 2026

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম নিজস্ব সংবাদদাতা:-
খুলনা বিভাগীয় জেলার রূপসা উপজেলার তালতলা গ্রামে গতরাত আনুমানিক ২২:৩৫ মিনিটে দিকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা সাইনুর শেখ ওরফে সাইফুল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিটি তার মাথা ও পা ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

এ ঘটনার পরপরই তালতলা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ২ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তালতলা গ্রামের মৃত আতিয়ার শেখের ছেলে সাইনুর শেখ ৪৫ নিজ বাড়ির সামনে “বেটার দোকান” এর সামনে বসে ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই এলাকার কয়েকজন মানুষের সাথে গল্প করছিলেন তিনি।

ঠিক তখনই দুইজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে থামে। মুহূর্তের মধ্যে একজন পিস্তল বের করে সাইনুর শেখকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার মাথায়, আরেকটি পায়ে লাগে। গুলির শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুলি লাগার পর সাইনুর শেখ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মাথার গুলির কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার প্রস্তুতি চলছে।

সাইনুর শেখ তালতলা গ্রামের মৃত আতিয়ার শেখের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিলেন। রূপসা উপজেলা ও তালতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এলাকায় তিনি “সাইফুল ভাই” নামে পরিচিত।

তার স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, সাইনুর শেখ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতেন। সম্প্রতি ঘাটভোগ-বাহিরদিয়া বিরোধ নিরসনেও তিনি আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

গুলিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তালতলা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে যায়। রাত ১টার দিকেই রূপসা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে।

রূপসা থানার (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতা বা রাজনৈতিক কারণে এই হামলা হতে পারে। গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের পাল্টা ঘটনা না ঘটে।

হামলার খবর পেয়ে রাতেই রূপসা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান। খুলনা জেলা বিএনপির নেতারাও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “সাইনুর ভাই কারো সাথে শত্রুতা করতেন না। তিনি এলাকার শান্তির জন্য কাজ করতেন। কারা এই নৃশংস হামলা চালালো আমরা বিচার চাই। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এলাকাবাসী এই প্রকাশ্য দিবালোকের মতো রাতের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, রূপসায় একের পর এক সহিংস ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও এলাকায় শান্তি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ বলছে, দুর্বৃত্তদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। হামলার উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাত ১টা পর্যন্ত সাইনুর শেখের চিকিৎসা চলছে। তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। একদিকে ঘাটভোগ- বাহিরদিয়া শান্তির শপথ নিলো, অন্যদিকে তালতলায় রাতের গুলিতে আবারও রক্তাক্ত হলো রূপসা।