Dhaka 3:54 am, Wednesday, 16 September 2026

লাখাইয়ে হাম রোগের পাদুর্ভাব, শয্যা সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ

এম ইয়াকুব হাসান অন্তর লাখাই প্রতিনিধিঃ

সারাদেশের ন্যায় লাখাইয়ে দেখা দিয়েছে হাম রোগ। দিন দিন বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা।

মঙ্গলবার (০৭ই এপ্রিল) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ পর্যন্ত ৬ জন হাম রোগী ভর্তি আছে। তন্মধ্যে ১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছে। বর্তমানে ৫ রোগী ভর্তি আছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাম রোগীদের নিয়মিত টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৯ মাস বয়সে ১ম ডোজ ও ১৫ মাস বয়সে ২য় ডোজ এর কার্যক্রম চালু আছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ৫০ শয্যা হাসপাতালে ৫৭ জন রোগী ভর্তি আছে। তন্মধ্যে মহিলা রোগী ২৫ জন, পুরুষ ১৩ জন, গর্ভবতী ২ জন ও শিশু রোগী ১৭ জন।

এরই মধ্যে ৫ জন হাম রোগী ভর্তি রয়েছে। সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিভাবকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি কিন্তু বেড সংকট থাকায় হাসপাতালের ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।

লাখাই ৫০ শয্যা হাসপাতালের কর্তব্যরত আর,এম,ও ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মোক্তাদির জানান, বর্তমানে হাম রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন কর্ণার খোলা হয়েছে এবং হাম রোগীরা নিরাপদ অবস্থায় চিকিৎসা সেবা নিতে পারে সেই বিষয়ে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী শামসুল আরেফীন বলেন, আমরা নিয়মিত ভাবে টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৯ মাস থেকে ১৫ মাস বয়সের বাচ্চাদের টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হাম রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ঔষধ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত শনিবার ৩৫০ ডোজ এর টাকা পেয়েছি। অতিশীঘ্রই ক্যাম্পেইনের টাকা আমাদের কাছে এসে পৌঁছাবে। তবে বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের বাচ্চাদের টিকাদান কার্যক্রম চালু করার জন্য বর্তমান সরকার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। গত শনিবার ৩৫০ পিস ভিটামিন ক্যাপসুল আমার কাছে এসে পৌঁছেছে। এদিকে ৩ জন হাম রোগীর স্যাম্পল কালেকশন করে ঢাকা মহাখালী আই.পি.এইচ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩রা মে থেকে হবিগঞ্জ জেলার প্রত্যেক উপজেলায় ক্যাম্পেইনের যাবতীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাধারণত যেসব বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে সেসব রোগীদের হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে বাচ্চাদের অভিভাবকরা বাচ্চাদের সুস্থ রাখতে সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যয়ে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের বর্ষপূর্তি

লাখাইয়ে হাম রোগের পাদুর্ভাব, শয্যা সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ

Update Time : 06:26:34 pm, Tuesday, 7 April 2026

এম ইয়াকুব হাসান অন্তর লাখাই প্রতিনিধিঃ

সারাদেশের ন্যায় লাখাইয়ে দেখা দিয়েছে হাম রোগ। দিন দিন বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা।

মঙ্গলবার (০৭ই এপ্রিল) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ পর্যন্ত ৬ জন হাম রোগী ভর্তি আছে। তন্মধ্যে ১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছে। বর্তমানে ৫ রোগী ভর্তি আছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাম রোগীদের নিয়মিত টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৯ মাস বয়সে ১ম ডোজ ও ১৫ মাস বয়সে ২য় ডোজ এর কার্যক্রম চালু আছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ৫০ শয্যা হাসপাতালে ৫৭ জন রোগী ভর্তি আছে। তন্মধ্যে মহিলা রোগী ২৫ জন, পুরুষ ১৩ জন, গর্ভবতী ২ জন ও শিশু রোগী ১৭ জন।

এরই মধ্যে ৫ জন হাম রোগী ভর্তি রয়েছে। সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিভাবকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি কিন্তু বেড সংকট থাকায় হাসপাতালের ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।

লাখাই ৫০ শয্যা হাসপাতালের কর্তব্যরত আর,এম,ও ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মোক্তাদির জানান, বর্তমানে হাম রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন কর্ণার খোলা হয়েছে এবং হাম রোগীরা নিরাপদ অবস্থায় চিকিৎসা সেবা নিতে পারে সেই বিষয়ে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী শামসুল আরেফীন বলেন, আমরা নিয়মিত ভাবে টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৯ মাস থেকে ১৫ মাস বয়সের বাচ্চাদের টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হাম রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ঔষধ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত শনিবার ৩৫০ ডোজ এর টাকা পেয়েছি। অতিশীঘ্রই ক্যাম্পেইনের টাকা আমাদের কাছে এসে পৌঁছাবে। তবে বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের বাচ্চাদের টিকাদান কার্যক্রম চালু করার জন্য বর্তমান সরকার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। গত শনিবার ৩৫০ পিস ভিটামিন ক্যাপসুল আমার কাছে এসে পৌঁছেছে। এদিকে ৩ জন হাম রোগীর স্যাম্পল কালেকশন করে ঢাকা মহাখালী আই.পি.এইচ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩রা মে থেকে হবিগঞ্জ জেলার প্রত্যেক উপজেলায় ক্যাম্পেইনের যাবতীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাধারণত যেসব বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে সেসব রোগীদের হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে বাচ্চাদের অভিভাবকরা বাচ্চাদের সুস্থ রাখতে সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরী।