Dhaka 6:46 am, Wednesday, 22 April 2026

সুয়াবিন তৈলের সংকট মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত 

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :খাদেমুল ইসলাম:-

পঞ্চগড়ের অসাধু ব্যবসায়ীদের ভোজ্য তেল সুয়াবিন কারসাজিতে বাজার থেকে ভোজ্যতেল হঠাৎ উধাও হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পঞ্চগড় জেলা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে শহীদ মিনারের সামনে পঞ্চগড় -ঢাকা মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সংগঠনটি ৫টি দাবি তুলে ধরে।

ক্যাবের দাবিসমূহ

১. সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

 

২. সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

 

৩. বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

 

৪. কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

৫. নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে।

 

এসময় জেলা ক্যাবের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিমউদ্দীন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র রায়, দেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম, গণমাধ্যমকর্মী ও ক্যাবের সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ বক্তব্য দেন।

 

বক্তারা জানায়, সরকার নির্ধারিত দামে খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের মূল্য ১৭০ টাকা হলেও বাস্তবে বাজারে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে প্রায় ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে খোলা পাম তেলও নির্ধারিত ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব তথ্য তুলে ধরে, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও বক্তারা জানায়।

 

ক্যাব মনে করে, এটি শুধু একটি বাজার অস্থিরতা নয়, বরং ভোক্তার মৌলিক অধিকার-ন্যায্য মূল্যে পণ্য প্রাপ্তি ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের অধিকার-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা একটি সংগঠিত প্রতারণা, যা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।

জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিমউদ্দিন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাজারে কঠোর নজরদারির অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সুয়াবিন তৈলের সংকট মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত 

Update Time : 10:22:22 pm, Wednesday, 8 April 2026

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :খাদেমুল ইসলাম:-

পঞ্চগড়ের অসাধু ব্যবসায়ীদের ভোজ্য তেল সুয়াবিন কারসাজিতে বাজার থেকে ভোজ্যতেল হঠাৎ উধাও হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পঞ্চগড় জেলা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে শহীদ মিনারের সামনে পঞ্চগড় -ঢাকা মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সংগঠনটি ৫টি দাবি তুলে ধরে।

ক্যাবের দাবিসমূহ

১. সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

 

২. সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

 

৩. বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

 

৪. কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

৫. নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে।

 

এসময় জেলা ক্যাবের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিমউদ্দীন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র রায়, দেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম, গণমাধ্যমকর্মী ও ক্যাবের সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ বক্তব্য দেন।

 

বক্তারা জানায়, সরকার নির্ধারিত দামে খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের মূল্য ১৭০ টাকা হলেও বাস্তবে বাজারে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে প্রায় ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে খোলা পাম তেলও নির্ধারিত ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব তথ্য তুলে ধরে, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও বক্তারা জানায়।

 

ক্যাব মনে করে, এটি শুধু একটি বাজার অস্থিরতা নয়, বরং ভোক্তার মৌলিক অধিকার-ন্যায্য মূল্যে পণ্য প্রাপ্তি ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের অধিকার-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা একটি সংগঠিত প্রতারণা, যা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।

জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিমউদ্দিন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাজারে কঠোর নজরদারির অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।