Dhaka 2:16 pm, Thursday, 23 April 2026

ধর্ষক সামছুল হককে পালিয়ে যেতে সহায়তার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:মিসেস হনুফা আক্তার:-

সুনামগঞ্জে ধর্ষনকারী সামছুল হককে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করেছে কথিত সালিশী নামের একটি চাঁদাবাজচক্র। এ ঘটনায় ধর্ষক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১লা এপ্রিল) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবরে অভিযোগটি দায়ের করেছেন ধর্ষিতার মাতা। অভিযোগে,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল মুকিদ এর পুত্র ধর্ষক সামছুল হক (২৫) ও তার সহোদর নুরুল হক (৩০),সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নতুন গুদিগাঁও গ্রামের শরাফত আলী শরু মিয়ার পুত্র আব্দুল মালেক (৫০) ও নারায়নতলা কোনাপাড়া গ্রামের আছু হুজুরের পুত্র ফারুক মিয়াসহ অজ্ঞাত সহযোগীদের আসামী করা হয়েছে। অভিযোগে প্রকাশ,উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল মুকিদ এর পুত্র ধর্ষক সামছুল হক ৪ বছর আগে কোনাপাড়া নারায়ণতলা গ্রামে রাজমিস্ত্রী কাজ করার সময় ভিকটিমের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে সে ভিকটিম কে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরমধ্যে গত ৩ বছর আগে ঐ ধর্ষক কম্পোডিয়া প্রবাসে গমন করে। বিদেশে অবস্থানকালে সে ইমুতে কল করে প্রায়ই ভিকটিমের সাথে আলাপ আলোচনা করতো। গত ঈদুল ফিতর, ২০২৬ইং এর সময় উক্ত সামছুল বিদেশ হতে বাড়ীতে ফেরে। বাড়ীতে এসে রবিবার ২৯ মার্চ সকাল ১০টার সময়ে ধর্ষক সামছুল হক, তার ইমু নাম্বার হতে কল করে ভিকটিমের বাড়ীতে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দিলে ভিকটিম তার পিতামাতা বাড়ীতে নাই বলে জানায় এবং ধর্ষককে তাদের বাড়ীতে না আসার জন্য বলে। কিন্তু প্রতারক ধর্ষক সামছুল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঐদিন একটি ভাড়াটে মোটর সাইকেলে তরিগড়ি করত: হঠাৎ করে ভিকটিমের বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরপূর্বকভাবে ধর্ষন করে। এসময় ভিকটিমের মাতা কিক্তায় তাদের ৬টি ছাগল ও ছাগলছানাকে ঘাস খাওয়ানোতে এবং ভিকটিমের পিতা টিউবওয়েল বসানোর জন্য অন্যগ্রামে দিনমজুরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ধর্ষনকালে ভিকটিমের আর্ত চিৎকারে প্রতিবেশি দিলোয়ারা বেগম ঘটনাস্থলে পৌছে ভিকটিমের বসতঘর বাহিরে থেকে ছিটকারী লাগিয়ে ঘরটির মধ্যে ধর্ষক সামছুল হক কে আটকিয়ে রেখে সমাজের লোকজনকে অবগত করেন। একপর্যায়ে ধর্ষক সামছুল হক এর পিতা ও ভাইদেরকে খবর করলে তারা ধর্ষকের সহোদর নুরুল হক এর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে মিলিত হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে বিবাহ করে নিবে বলে তার বাড়ীতে সালিশ বৈঠক বসায়। এবং ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা দেনমোহরানা ধার্য্য করে ভিকটিমকে পুত্রবধূর স্বীকৃতি দিয়ে কাবিন করে সামছুল হক স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করবে বলে সাব্যস্থ করে। কিন্তু দীর্ঘ আলাপ আলোচনার একপর্যায়ে রবিবার দিবাগত রাত ২টার সময় জাহাঙ্গীর নগর গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মালেক ও ফারুক মাস্টার কে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে বাধ্য বশীভূত করে সুকৌশলে দলবল নিয়ে আটককৃত ধর্ষনকারী সামছুল হক কে ছাড়াইয়া নেয়। এসময় তার প্রতিবেশি দিলোয়ারা বেগম ধর্ষক ও তার সহযোগীদের অসদুদ্দেশ্য বুঝতে পেরে ঘটনার কথা ৯৯৯ ও সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সরকারী মোবাইল ফোন এবং ওসি (তদন্ত) এর মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করে অবগত করলে সন্ত্রাসীরা দিলোয়ারা বেগমকে তার বাম হাতের কনুইয়ে,বাম পায়ের উরুতেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁঠের রুইল দ্বারা এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করে জখম করত: ধর্ষক সামছুল হক কে জোরপূর্বক ছাড়াইয়া নেয়। পরদিন ৩০ মার্চ সোমবার সকালে সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়েরের জন্য গেলে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার ভিকটিম ও জখমীদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে ভিকটিম ও প্রতিবেশী দিলোয়ারা বেগমকে নিয়ে তারা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ নিলুফা ইয়াসমিন, ভিকটিম মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে বলে মতামত ব্যক্ত করেন। বর্তমানে ধর্ষক সামছুল হক কম্পোডিয়া প্রবাসে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকা শহরে অবস্থান করছে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন সেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,পুলিশ ভিকটিমকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য সচেষ্ট রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বেনাপোলে অমানুষিক নির্যাতনের পর হত্যা,মরদেহ ফেলে গেল ধানক্ষেতে

ধর্ষক সামছুল হককে পালিয়ে যেতে সহায়তার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের

Update Time : 10:03:43 pm, Wednesday, 1 April 2026

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:মিসেস হনুফা আক্তার:-

সুনামগঞ্জে ধর্ষনকারী সামছুল হককে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করেছে কথিত সালিশী নামের একটি চাঁদাবাজচক্র। এ ঘটনায় ধর্ষক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১লা এপ্রিল) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবরে অভিযোগটি দায়ের করেছেন ধর্ষিতার মাতা। অভিযোগে,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল মুকিদ এর পুত্র ধর্ষক সামছুল হক (২৫) ও তার সহোদর নুরুল হক (৩০),সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নতুন গুদিগাঁও গ্রামের শরাফত আলী শরু মিয়ার পুত্র আব্দুল মালেক (৫০) ও নারায়নতলা কোনাপাড়া গ্রামের আছু হুজুরের পুত্র ফারুক মিয়াসহ অজ্ঞাত সহযোগীদের আসামী করা হয়েছে। অভিযোগে প্রকাশ,উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল মুকিদ এর পুত্র ধর্ষক সামছুল হক ৪ বছর আগে কোনাপাড়া নারায়ণতলা গ্রামে রাজমিস্ত্রী কাজ করার সময় ভিকটিমের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে সে ভিকটিম কে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরমধ্যে গত ৩ বছর আগে ঐ ধর্ষক কম্পোডিয়া প্রবাসে গমন করে। বিদেশে অবস্থানকালে সে ইমুতে কল করে প্রায়ই ভিকটিমের সাথে আলাপ আলোচনা করতো। গত ঈদুল ফিতর, ২০২৬ইং এর সময় উক্ত সামছুল বিদেশ হতে বাড়ীতে ফেরে। বাড়ীতে এসে রবিবার ২৯ মার্চ সকাল ১০টার সময়ে ধর্ষক সামছুল হক, তার ইমু নাম্বার হতে কল করে ভিকটিমের বাড়ীতে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দিলে ভিকটিম তার পিতামাতা বাড়ীতে নাই বলে জানায় এবং ধর্ষককে তাদের বাড়ীতে না আসার জন্য বলে। কিন্তু প্রতারক ধর্ষক সামছুল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঐদিন একটি ভাড়াটে মোটর সাইকেলে তরিগড়ি করত: হঠাৎ করে ভিকটিমের বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরপূর্বকভাবে ধর্ষন করে। এসময় ভিকটিমের মাতা কিক্তায় তাদের ৬টি ছাগল ও ছাগলছানাকে ঘাস খাওয়ানোতে এবং ভিকটিমের পিতা টিউবওয়েল বসানোর জন্য অন্যগ্রামে দিনমজুরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ধর্ষনকালে ভিকটিমের আর্ত চিৎকারে প্রতিবেশি দিলোয়ারা বেগম ঘটনাস্থলে পৌছে ভিকটিমের বসতঘর বাহিরে থেকে ছিটকারী লাগিয়ে ঘরটির মধ্যে ধর্ষক সামছুল হক কে আটকিয়ে রেখে সমাজের লোকজনকে অবগত করেন। একপর্যায়ে ধর্ষক সামছুল হক এর পিতা ও ভাইদেরকে খবর করলে তারা ধর্ষকের সহোদর নুরুল হক এর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে মিলিত হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে বিবাহ করে নিবে বলে তার বাড়ীতে সালিশ বৈঠক বসায়। এবং ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা দেনমোহরানা ধার্য্য করে ভিকটিমকে পুত্রবধূর স্বীকৃতি দিয়ে কাবিন করে সামছুল হক স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করবে বলে সাব্যস্থ করে। কিন্তু দীর্ঘ আলাপ আলোচনার একপর্যায়ে রবিবার দিবাগত রাত ২টার সময় জাহাঙ্গীর নগর গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মালেক ও ফারুক মাস্টার কে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে বাধ্য বশীভূত করে সুকৌশলে দলবল নিয়ে আটককৃত ধর্ষনকারী সামছুল হক কে ছাড়াইয়া নেয়। এসময় তার প্রতিবেশি দিলোয়ারা বেগম ধর্ষক ও তার সহযোগীদের অসদুদ্দেশ্য বুঝতে পেরে ঘটনার কথা ৯৯৯ ও সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সরকারী মোবাইল ফোন এবং ওসি (তদন্ত) এর মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করে অবগত করলে সন্ত্রাসীরা দিলোয়ারা বেগমকে তার বাম হাতের কনুইয়ে,বাম পায়ের উরুতেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁঠের রুইল দ্বারা এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করে জখম করত: ধর্ষক সামছুল হক কে জোরপূর্বক ছাড়াইয়া নেয়। পরদিন ৩০ মার্চ সোমবার সকালে সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়েরের জন্য গেলে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার ভিকটিম ও জখমীদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে ভিকটিম ও প্রতিবেশী দিলোয়ারা বেগমকে নিয়ে তারা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ নিলুফা ইয়াসমিন, ভিকটিম মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে বলে মতামত ব্যক্ত করেন। বর্তমানে ধর্ষক সামছুল হক কম্পোডিয়া প্রবাসে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকা শহরে অবস্থান করছে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন সেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,পুলিশ ভিকটিমকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য সচেষ্ট রয়েছে।