Dhaka 4:20 am, Thursday, 23 April 2026

সাংবাদিক পরিচয়ে কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে একটি চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদকঃসাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, বন বিভাগের কার্যালয়, বিআরটিএ, এনবিআর,ভ্যাট অফিস,বিভিন্ন আবাসিক হোটেল,কল-কারখানা শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি সহ হানি ট্রাপের মাধ্যমে বছরে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করছে একটি অপরাধী চক্র। এই চক্রের কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। মানুষের মনে সাংবাদিকতার মত মহান পেশা কলঙ্কিত হচ্ছে । এই চক্রের মূল হোতা মান্নান মাদবর ওরফে মুন্না। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। ঢাকার কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ এলাকায় বসবাস করেন। তার মোট ৩টি স্ত্রী রয়েছে। এই ৩টি স্ত্রীর ভরণ-পোষণের জন্য অপরাধের জীবন বেছে নিয়েছেন এই মুন্না। গত দুই বছর আগে কক্সবাজারে এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদাবাজি করে টাকা সহ স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে আটক হন। সেই সময়ে তার ছবি সহ প্রতিটি অফিসে সরকারী সতর্কতামূলক
প্রচারণা চালানো হয়। মান্নান মাদবর ওরফে মুন্নার ঢাকা শহরে রয়েছে মূর্খ, অর্ধশিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তোলা একটি সিন্ডিকেট। প্রায় ২০-২৫ জনের এই সিন্ডিকেট দাবড়ে বেড়ায় ঢাকা সহ আশেপাশের জেলাগুলোতে। এছাড়াও মাদক সেবী এবং পুলিশের সোর্সদের নিয়ে মুন্না ব্ল্যাকমেলিং এর ব্যবসাও করে থাকে। আর এই ব্ল্যাকমেলিং ব্যবসার অন্যতম সহযোগী যাত্রাবাড়ী থানার সোর্স দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের ভায়রা পরিচয় দেওয়া সোহাগ। গত কয়েকদিন আগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নানা ভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে কয়েক দফায় মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছে। মান্নান মাদবর মুন্না এবং তার সহযোগী সোর্স সোহাগ প্রতিদিন অপরাধ মূলক কাজের মাধ্যমে লাখ টাকার টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে। সোহাগ ও তার স্ত্রী স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের শ্যালিকা পরিচয় দানকারী রিনা আক্তার নিয়মিত মাদক সেবী এবং মাদক ব্যবসায়ী। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করায় রিনা আক্তারের নামে শ্যামপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রয়েছে।
মাদকের টাকা জোগাড় করতে যেকোনো অপরাধ করতেও তাদের বুক কাঁপে না। একজন পত্রিকার সম্পাদকের ভায়রা পরিচয়ে মাঠ দাবড়ে বেড়ায় সোহাগ। ইতিমধ্যে মান্নান মাদবর এবং সোহাগের এসব অপরাধের
শত শত অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। এইসব অডিও রেকর্ড মেমোরি কার্ডে কপি করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দরখাস্ত সহকারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মুন্না মাদবর এর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করে নাসির সর্দার। যিনি কিছুদিন পূর্বে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বাগেরহাটের এসি ল্যান্ড অফিসে
টাকা সহ হাতেনাতে ধরা পড়ে ১ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। এই সমস্ত স্বল্প শিক্ষিত, অশিক্ষিত, অপরাধী ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার মত মহান পেশার পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করে বেড়ালেও দীর্ঘদিন রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেশ বরেণ্য একটি মাল্টিমিডিয়া পেজে শীঘ্রই ওই সকল অপকর্মের ভিডিও এবং অডিও ক্লিপস সহকারে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে হাওরের বোরো মৌসুমে কৃষকদের বড় স্বস্তি: কলমাকান্দায় বসছে ৯টি টিউবওয়েল

সাংবাদিক পরিচয়ে কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে একটি চক্র

Update Time : 11:08:38 pm, Wednesday, 22 April 2026

নিজস্ব প্রতিবেদকঃসাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, বন বিভাগের কার্যালয়, বিআরটিএ, এনবিআর,ভ্যাট অফিস,বিভিন্ন আবাসিক হোটেল,কল-কারখানা শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি সহ হানি ট্রাপের মাধ্যমে বছরে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করছে একটি অপরাধী চক্র। এই চক্রের কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। মানুষের মনে সাংবাদিকতার মত মহান পেশা কলঙ্কিত হচ্ছে । এই চক্রের মূল হোতা মান্নান মাদবর ওরফে মুন্না। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। ঢাকার কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ এলাকায় বসবাস করেন। তার মোট ৩টি স্ত্রী রয়েছে। এই ৩টি স্ত্রীর ভরণ-পোষণের জন্য অপরাধের জীবন বেছে নিয়েছেন এই মুন্না। গত দুই বছর আগে কক্সবাজারে এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদাবাজি করে টাকা সহ স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে আটক হন। সেই সময়ে তার ছবি সহ প্রতিটি অফিসে সরকারী সতর্কতামূলক
প্রচারণা চালানো হয়। মান্নান মাদবর ওরফে মুন্নার ঢাকা শহরে রয়েছে মূর্খ, অর্ধশিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তোলা একটি সিন্ডিকেট। প্রায় ২০-২৫ জনের এই সিন্ডিকেট দাবড়ে বেড়ায় ঢাকা সহ আশেপাশের জেলাগুলোতে। এছাড়াও মাদক সেবী এবং পুলিশের সোর্সদের নিয়ে মুন্না ব্ল্যাকমেলিং এর ব্যবসাও করে থাকে। আর এই ব্ল্যাকমেলিং ব্যবসার অন্যতম সহযোগী যাত্রাবাড়ী থানার সোর্স দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের ভায়রা পরিচয় দেওয়া সোহাগ। গত কয়েকদিন আগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নানা ভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে কয়েক দফায় মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছে। মান্নান মাদবর মুন্না এবং তার সহযোগী সোর্স সোহাগ প্রতিদিন অপরাধ মূলক কাজের মাধ্যমে লাখ টাকার টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে। সোহাগ ও তার স্ত্রী স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের শ্যালিকা পরিচয় দানকারী রিনা আক্তার নিয়মিত মাদক সেবী এবং মাদক ব্যবসায়ী। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করায় রিনা আক্তারের নামে শ্যামপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রয়েছে।
মাদকের টাকা জোগাড় করতে যেকোনো অপরাধ করতেও তাদের বুক কাঁপে না। একজন পত্রিকার সম্পাদকের ভায়রা পরিচয়ে মাঠ দাবড়ে বেড়ায় সোহাগ। ইতিমধ্যে মান্নান মাদবর এবং সোহাগের এসব অপরাধের
শত শত অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। এইসব অডিও রেকর্ড মেমোরি কার্ডে কপি করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দরখাস্ত সহকারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মুন্না মাদবর এর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করে নাসির সর্দার। যিনি কিছুদিন পূর্বে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বাগেরহাটের এসি ল্যান্ড অফিসে
টাকা সহ হাতেনাতে ধরা পড়ে ১ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। এই সমস্ত স্বল্প শিক্ষিত, অশিক্ষিত, অপরাধী ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার মত মহান পেশার পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করে বেড়ালেও দীর্ঘদিন রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেশ বরেণ্য একটি মাল্টিমিডিয়া পেজে শীঘ্রই ওই সকল অপকর্মের ভিডিও এবং অডিও ক্লিপস সহকারে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।