Dhaka 12:37 pm, Thursday, 23 April 2026

পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে জবাই করে হত্যার পর বস্তাবন্ধি করে পুত্রবধূ

ক্রাইম রিপোর্টার-মোঃ নাজমুল ইসলাম

পারিবারিক কলহ ও বকাঝকা করায় যশোরে শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে (২০) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতয়ালি থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ বরাদ দিয়ে জানিয়েছে, যশোর জেলা সদরে শহরের বেজপাড়া এলাকায় এই নিঃস্ব হত্যা কান্ডটি ঘটেছে। নিহত সকিনা বেগম(৬০)মোঃ লাল চাঁদ খলিফার সহধর্মিণী এবং ওই এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,২১এপ্রিল সকালে সকিনার ছেলে শহিদুল ইসলাম দোকানে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে বাইরে খেয়ে নিতে বলেন আজকে বাসায় রান্না হয়নি। এসময় শহিদুল ইসলাম মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে মরিয়ম জানান,তিনি বাইরে তালিমের জন্যে পাশের বাড়িতে গেছেন। রাতে বাড়ি ফিরে শহিদুল তার মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ নেন,কিন্তু তখনও একই কথা বলা হয়।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শহিদুল ইসলাম থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি রক্তে ভেজা বস্তার দেখতে পান তিনি অন্তাজ করে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন। তাঁর কান্না শুনে শহিদুল ইসলাম এর বোন বাড়ির সামনে এসে বলে ভাই কি এটা শহিদুল বলে মনে হচ্ছে এর ভেতরে মায়ের নিথর দেহ রয়েছে তার বোন মরদেহটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন। এবং কান্নাঁয় ভেঙ্গে পড়ে।

দুই ভাই বোন এর কান্না শুনে আশেপাশে লোক জন জড়ো হয় এবং পুলিশ খবর দেয় খবর পেয়ে জেলা সদর ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার এবং আলামত সংগ্রহ করে।পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসা করে পুলিশ কিন্তু তার কথায় ও আচরণ সন্দেহ জনক হওয়ায় তদন্তের জন্য মরিয়ম বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি জানান,দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন পুনরায় বকাবকি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যার অস্ত্রটি ঘরের ওয়্যারড্রপের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। পরে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

টেকনাফ র‍্যাব-বিজিবির পৃথক অভিযানে ৩ জন গ্রেফতার,অস্ত্র উদ্ধার

পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে জবাই করে হত্যার পর বস্তাবন্ধি করে পুত্রবধূ

Update Time : 11:08:57 pm, Wednesday, 22 April 2026

ক্রাইম রিপোর্টার-মোঃ নাজমুল ইসলাম

পারিবারিক কলহ ও বকাঝকা করায় যশোরে শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে (২০) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতয়ালি থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ বরাদ দিয়ে জানিয়েছে, যশোর জেলা সদরে শহরের বেজপাড়া এলাকায় এই নিঃস্ব হত্যা কান্ডটি ঘটেছে। নিহত সকিনা বেগম(৬০)মোঃ লাল চাঁদ খলিফার সহধর্মিণী এবং ওই এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,২১এপ্রিল সকালে সকিনার ছেলে শহিদুল ইসলাম দোকানে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে বাইরে খেয়ে নিতে বলেন আজকে বাসায় রান্না হয়নি। এসময় শহিদুল ইসলাম মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে মরিয়ম জানান,তিনি বাইরে তালিমের জন্যে পাশের বাড়িতে গেছেন। রাতে বাড়ি ফিরে শহিদুল তার মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ নেন,কিন্তু তখনও একই কথা বলা হয়।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শহিদুল ইসলাম থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি রক্তে ভেজা বস্তার দেখতে পান তিনি অন্তাজ করে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন। তাঁর কান্না শুনে শহিদুল ইসলাম এর বোন বাড়ির সামনে এসে বলে ভাই কি এটা শহিদুল বলে মনে হচ্ছে এর ভেতরে মায়ের নিথর দেহ রয়েছে তার বোন মরদেহটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন। এবং কান্নাঁয় ভেঙ্গে পড়ে।

দুই ভাই বোন এর কান্না শুনে আশেপাশে লোক জন জড়ো হয় এবং পুলিশ খবর দেয় খবর পেয়ে জেলা সদর ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার এবং আলামত সংগ্রহ করে।পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসা করে পুলিশ কিন্তু তার কথায় ও আচরণ সন্দেহ জনক হওয়ায় তদন্তের জন্য মরিয়ম বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি জানান,দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন পুনরায় বকাবকি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যার অস্ত্রটি ঘরের ওয়্যারড্রপের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। পরে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।