Dhaka 8:11 pm, Monday, 20 April 2026

মিঠাপুকুরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বন্ধে ২ টি পুলিশ ফাড়ির দাবী উত্থাপন সাংসদ গোলাম রব্বানীর 

আব্দুল হালিম, নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর :-

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পশ্চিম অঞ্চল এখন মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিপজ্জনক শহরে পরিণত হয়েছে। মিঠাপুকুরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বন্ধে ২ টি পুলিশ ফাড়ির দাবী স্থানীয় সাংসদ গোলাম রব্বানী।সম্প্রতি জাতীয় সংসদে রানীপুকুর ও বালুয়ামাসিমপুর নামক জায়গায় পুলিশ ফাড়ী স্থাপনের দাবী জানান।

একদিকে সীমান্ত থেকে আসা মাদকের জোয়ার, অন্যদিকে স্মার্টফোনের পর্দায় অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্তি, এই দ্বিমুখী হামলায় হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার এজেন্টদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মিঠাপুকুর এলাকা মাদক পাচারের প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন হিলি থেকে আসা নিষিদ্ধ ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও প্রাণঘাতী অ্যাম্পুল ইনজেকশন প্রতিনিয়ত এ জনপদ দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। যুব সমাজকে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করছে

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারী ও শিশুরা এখন মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মাদক মেশানো এবং নবাবগঞ্জ হয়ে বগুড়া, ঢাকা ও রংপুর হয়ে সাধারণ যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক বা সিএনজিতে নিরাপদে পাচার করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তল্লাশির সময় কিছু চালান জব্দ করা হলেও মূল অপরাধীরা অধরা থেকে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, “থানার আশপাশের অনেক এলাকায় প্রভাবশালীদের মাদক ব্যবসায়ীরা রয়েছে, যারা নির্ভয়ে দিনরাত সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে।” “মাদক ছাড়াও, বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হল যে স্কুল ও কলেজের ছাত্ররা অনলাইন জুয়ার মতো আন্তর্জাতিক জুয়া সাইটের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তারা স্মার্টফোন এবং উচ্চ-গতির ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে ভিপিএন-এর মাধ্যমে এই সাইটগুলি অ্যাক্সেস করছে। মোবাইল আর্থিক পরিষেবাগুলি এই জুয়ার প্রধান জ্বালানী। মিঠাপুকুরে শতাধিক ‘মাস্টার এজেন্ট’ সক্রিয় রয়েছে, যারা তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ব্যালেন্স বা নগদ অর্থ সংগ্রহ করে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা জুয়ায় হেরে চুরিতে লিপ্ত হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ নিজের সব কিছু বিক্রি করে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্নে রাজপথে জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে মাদক চক্রের গোপন যোগসাজশ রয়েছে এর আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যায়, বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাদকের প্রকাশ্য ব্যবহার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন, এই আইনগত সীমাবদ্ধতাকে পুঁজি করে অপরাধীরা একটি বিশাল ‘মানি লন্ডারিং’ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে জুয়া শুধু যুবসমাজকে শারীরিক বা মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে না, অপরাধের হারও বাড়িয়ে দিচ্ছে সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, উপজেলার চিহ্নিত মাদকের স্পটে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান চালানো হোক এবং প্রতিটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হোক মিঠাপুকুর উপজেলার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মেধা ও জনবল হারিয়ে এই জনপদ অচিরেই গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

লাখাইয়ে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষা শুরু।

মিঠাপুকুরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বন্ধে ২ টি পুলিশ ফাড়ির দাবী উত্থাপন সাংসদ গোলাম রব্বানীর 

Update Time : 06:26:50 pm, Tuesday, 7 April 2026

আব্দুল হালিম, নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর :-

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পশ্চিম অঞ্চল এখন মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিপজ্জনক শহরে পরিণত হয়েছে। মিঠাপুকুরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বন্ধে ২ টি পুলিশ ফাড়ির দাবী স্থানীয় সাংসদ গোলাম রব্বানী।সম্প্রতি জাতীয় সংসদে রানীপুকুর ও বালুয়ামাসিমপুর নামক জায়গায় পুলিশ ফাড়ী স্থাপনের দাবী জানান।

একদিকে সীমান্ত থেকে আসা মাদকের জোয়ার, অন্যদিকে স্মার্টফোনের পর্দায় অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্তি, এই দ্বিমুখী হামলায় হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার এজেন্টদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মিঠাপুকুর এলাকা মাদক পাচারের প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন হিলি থেকে আসা নিষিদ্ধ ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও প্রাণঘাতী অ্যাম্পুল ইনজেকশন প্রতিনিয়ত এ জনপদ দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। যুব সমাজকে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করছে

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারী ও শিশুরা এখন মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মাদক মেশানো এবং নবাবগঞ্জ হয়ে বগুড়া, ঢাকা ও রংপুর হয়ে সাধারণ যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক বা সিএনজিতে নিরাপদে পাচার করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তল্লাশির সময় কিছু চালান জব্দ করা হলেও মূল অপরাধীরা অধরা থেকে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, “থানার আশপাশের অনেক এলাকায় প্রভাবশালীদের মাদক ব্যবসায়ীরা রয়েছে, যারা নির্ভয়ে দিনরাত সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে।” “মাদক ছাড়াও, বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হল যে স্কুল ও কলেজের ছাত্ররা অনলাইন জুয়ার মতো আন্তর্জাতিক জুয়া সাইটের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তারা স্মার্টফোন এবং উচ্চ-গতির ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে ভিপিএন-এর মাধ্যমে এই সাইটগুলি অ্যাক্সেস করছে। মোবাইল আর্থিক পরিষেবাগুলি এই জুয়ার প্রধান জ্বালানী। মিঠাপুকুরে শতাধিক ‘মাস্টার এজেন্ট’ সক্রিয় রয়েছে, যারা তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ব্যালেন্স বা নগদ অর্থ সংগ্রহ করে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা জুয়ায় হেরে চুরিতে লিপ্ত হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ নিজের সব কিছু বিক্রি করে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্নে রাজপথে জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে মাদক চক্রের গোপন যোগসাজশ রয়েছে এর আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যায়, বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাদকের প্রকাশ্য ব্যবহার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন, এই আইনগত সীমাবদ্ধতাকে পুঁজি করে অপরাধীরা একটি বিশাল ‘মানি লন্ডারিং’ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে জুয়া শুধু যুবসমাজকে শারীরিক বা মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে না, অপরাধের হারও বাড়িয়ে দিচ্ছে সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, উপজেলার চিহ্নিত মাদকের স্পটে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান চালানো হোক এবং প্রতিটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হোক মিঠাপুকুর উপজেলার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মেধা ও জনবল হারিয়ে এই জনপদ অচিরেই গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে।