
মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর আত্রাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে গাছ চাপায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত রাতে আত্রাই নদীর তীরে অবস্থিত যাযাবর বেদে পল্লীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত গৃহবধূ আরাফাতুন (২০) মুন্সিগঞ্জ জেলার পদ্মা থানার খুঁরিয়া গ্রামের মো. ইয়াসিন আরাফাত-এর স্ত্রী। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে রোববার দিবাগত রাতে রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে বেদে পল্লীর একটি বিশাল ইউক্লিপটাস গাছ পলিথিনের তৈরি অস্থায়ী ঘরের ওপর উপড়ে পড়ে। এসময় ঘরে বালিশে শোয়া অবস্থায় থাকা আরাফাতুন গাছের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পল্লীর বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার করুণ মৃত্যু হয়।
শোক সংবাদ পেয়ে দ্রুত আত্রাই নদীর তীরের ওই বেদে পল্লী পরিদর্শনে যান নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। সেখানে পলিথিনের তৈরি ২৫-৩০টি ঘরে বসবাসরত পরিবারগুলোর মানবেতর জীবনযাপন দেখে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি দীর্ঘসময় স্থানীয় শিশুদের সাথে কাটান, তাদের সাথে গল্প করেন এবং শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার আহ্বান জানান। শিশুদের জন্য তাৎক্ষণিক নাস্তার টাকা প্রদানের পাশাপাশি সেখানে একজন প্রাথমিক শিক্ষকের ব্যবস্থা করার জোরালো আশ্বাস দেন তিনি।
উপস্থিত বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, ভাগ্যের পরিবর্তন আপনা-আপনি হয় না, এর জন্য নিজেকেই চেষ্টা চালাতে হয়। আর সেই চেষ্টার মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। আপনারা যেখানেই অবস্থান করেন না কেন, সন্তানদের অবশ্যই স্কুলে পাঠাবেন। শিক্ষা ছাড়া জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন সম্ভব নয়।” বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছেন এবং শিশুদের স্কুলে ভর্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বেদে পল্লীর এই অমানবিক দৃশ্য এবং একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর এমন মৃত্যু সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন। আমি অনুধাবন করেছি এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার আলো কতটা জরুরি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তাদের পাশে আছি। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি যাতে এই শিশুদের স্থায়ীভাবে শিক্ষার আওতায় আনা যায়। মনে রাখবেন, আমরা একা ভালো থাকতে পারি না, সবাইকে নিয়েই আমাদের ভালো থাকতে হবে।
আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল করিম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। বেদে পল্লীর নিরাপত্তা এবং শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা স্থানীয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই অস্থায়ী বসতিগুলোতে যাতে আর কোনো জানমালের ক্ষতি না হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজরদারি থাকবে। আমরা চাই এই অবহেলিত জনগোষ্ঠী সমাজের মূলধারায় ফিরে আসুক।
পুলিশ সুপারের এমন মানবিক উদ্যোগ ও শিশুদের শিক্ষার প্রতি এই দায়িত্ববোধ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিক্ষা ও সচেতনতাই পারে এই জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।
Reporter Name 


















