
লটারির মাধ্যমে ভর্তির প্রতি সচেতন অভিভাবক মহলের অনীহা
মানিক তালুকদার, বিশেষ প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় অত্র অঞ্চলের একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এটি হাওরাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এ বিদ্যালয়ে লেখা-পড়ার মান ও পরিবেশ তুলনামূলক অনেক ভালো ছিল বিধায়-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রচন্ড আগ্রহ রয়েছে । আজ থেকে কয়েক বছর আগেও ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের লিখিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শুধুমাত্র কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি র সুযোগ পেতো। এতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মনে লেখা-পড়ায় একটা প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি হতো। লেখা-পড়ায় মনোযোগী হয়ে ভর্তি যুদ্ধে টিকে থাকার অদম্য আগ্রহ নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতো। এ পদ্ধতিতে তুলনামূলক মেধাবীরাই সফলভাবে ভর্তি হতে পারতো। তাই বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফলও ছিল পুরো এলাকার মধ্যে সেরা ও আশাব্যঞ্জক। এমনকি সমগ্র জেলায়ও সেরা হওয়ার সোনালি অতীত রয়েছে এই বিদ্যালয়টির দখলে।
গত ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-19 এ আক্রান্ত হওয়ার পর সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও এর প্রভাব ছিল। কোভিডের কারণে ২০২১ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু করেন।
প্রথমে কোভিড-19 এর অযুহাতে পরিক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হলেও পরবর্তীতে আর ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয়নি। বিধায়, বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফল আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে নিম্নগামী হচ্ছে।
এমতবস্থায়, এলাকার সচেতন অভিভাবক মহল লটারি পদ্ধতি বাতিল করে লিখিত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করার দাবী জানান। এরই মধ্যে ১২ ই নভেম্বর হতে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। চলবে ৩০ শে নবেম্বর পর্যন্ত।
এ ব্যাপারে একজন সচেতন অভিভাবক যার সন্তান এ বছর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন- আমি মনে করি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি পদ্ধতিটাই ভালো ছিল। এতে শিক্ষার্থীদের মনে পড়ালেখার প্রতি একটা প্রতিযোগিতামূলক আগ্রহ তৈরি হতো। তাছাড়া এতে মেধাবীরাই ভর্তির সুযোগ পেত। লটারিতে এমন অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায় যারা সঠিকবাবে ইংরেজি রিডিং পড়তে জানে না। আবার এমন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী লটারিতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে তারা আশাহত হয়। এমনকি অভিভাবকরাও নিরুৎসাহিত হয়।
এ ব্যাপারে সচেতন অভিভাবক কবি ও সাংবাদিক সুমন মাহমুদ শেখ বলেন -আমার জানামতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী লটারিতে বাতিল হয়েছে। অথচ, এমন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে যারা মেধার ভিত্তিতে৷ অত্যন্ত দূর্বল। এমনকি ভালো করে বাংলা রিডিংও পড়তে পারে না। এতে ভর্তি হতে না পেরে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আশাহত হয়েছে। একজন অভিভাবক হিসেবে আমার প্রত্যাশা থাকবে, সরকারিভাবে এ সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে আগামী শিক্ষাবর্ষে যেন পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে এনে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মতামতকে মূল্যায়ন করা হয়।
মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব রফিকুজ্জামান ইদ্রিসী বলেন- “ভর্তি পদ্ধতির এ পরিবর্তন শুধু আমাদের মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নয়, এখন সারা দেশেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির কার্যক্রম চালু রয়েছে । এটা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা শুধু সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করছি”।
মানিক তালুকদার, বিশেষ প্রতিনিধি: 


















