Dhaka 7:34 pm, Monday, 15 June 2026

নলছিটিতে আগুনে পুড়ে বসতঘর ছাই,ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৩ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:মিসেস চামেলী আক্তার

ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের খিরাকাঠি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি টিনের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মধ্যরাতে সংঘটিত এ ঘটনায় ঘরের আসবাবপত্র, নির্মাণসামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দপদপিয়া ইউনিয়নের খিরাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের পরিত্যক্ত টিনের বসতঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে নলছিটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরটির অধিকাংশ অংশ আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, অগ্নিকাণ্ডে ঘরের কাঠের রুয়া, চেরা, আড়া, বিভিন্ন আসবাবপত্র, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ পুড়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। এতে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

ঘটনার পর দেলোয়ার হোসেনের জামাতা মো. ফয়সাল আহম্মেদ নলছিটি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৫১৪, তারিখ: ১১ জুন ২০২৬) দায়ের করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার সময় ঘরটিতে কেউ অবস্থান না করায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আশপাশের আরও কয়েকটি বসতঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।

এ বিষয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় খিরাকাঠি এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পুশইনের শঙ্কায় ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী

নলছিটিতে আগুনে পুড়ে বসতঘর ছাই,ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৩ লাখ টাকা

Update Time : 10:36:06 pm, Thursday, 11 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:মিসেস চামেলী আক্তার

ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের খিরাকাঠি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি টিনের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মধ্যরাতে সংঘটিত এ ঘটনায় ঘরের আসবাবপত্র, নির্মাণসামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দপদপিয়া ইউনিয়নের খিরাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের পরিত্যক্ত টিনের বসতঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে নলছিটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরটির অধিকাংশ অংশ আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, অগ্নিকাণ্ডে ঘরের কাঠের রুয়া, চেরা, আড়া, বিভিন্ন আসবাবপত্র, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ পুড়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। এতে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

ঘটনার পর দেলোয়ার হোসেনের জামাতা মো. ফয়সাল আহম্মেদ নলছিটি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৫১৪, তারিখ: ১১ জুন ২০২৬) দায়ের করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার সময় ঘরটিতে কেউ অবস্থান না করায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আশপাশের আরও কয়েকটি বসতঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।

এ বিষয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় খিরাকাঠি এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।