Dhaka 4:07 pm, Monday, 15 June 2026

ফলিয়া দিগর বাজারে উত্তেজনা: দোকান ভাঙচুরের অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:মিসেস আকলিমা আক্তার

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ফলিয়া দিগর বাজারে দোকানঘর ভাঙচুর, ব্যবসায়িক মালামাল নষ্ট এবং জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মোজাম্মেল হক সরকার (৭৯) সাঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে লাঠিসোঁটা, লোহার রড এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোজাম্মেল হক সরকারের মালিকানাধীন দোকানঘরের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা উচ্চস্বরে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন।

ঘটনাস্থলে থাকা দোকানের ভাড়াটিয়া আব্দুল বাকী, মোস্তাফিজুর রহমান সাঈদী ও শ্রী দিপক চন্দ্র তাদের আচরণের প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দোকানঘরের টিনশেড ও শাটার ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নষ্ট করে।

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, আব্দুল বাকীর সেলুনের প্রায় ২৫ হাজার টাকার মালামাল, মোস্তাফিজুর রহমান সাঈদীর ভেটেরিনারি ফার্মেসির প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল এবং শ্রী দিপক চন্দ্রের হেয়ার কাটিং সেলুনের প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া দোকানঘরের অবকাঠামোগত ক্ষতিসহ মোট প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে দোকানঘরগুলো জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে জমির মালিক মোজাম্মেল হক সরকার ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার বিষয়ে অবগত হন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত লিটন। তিনি বলেন, মোজাম্মেল হক সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার থানা ও স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।

লিটনের দাবি, জমি পরিমাপের পর দেখা যায় উভয় পক্ষের ঘর পরস্পরের জমিতে অবস্থান করছে। পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রত্যেকে নিজ নিজ খরচে নিজের ঘর সরিয়ে নেবে। তিনি জানান, সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ছয় মাস আগে তিনি নিজের ঘর সরিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু মোজাম্মেল হক সরকার এখনও তার জমি থেকে ঘর সরাননি।

দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমরা যদি কারও দোকানঘর বা ব্যবসার ক্ষতি করে থাকি, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকেই সত্যতা জানা যাবে। তারা যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আমরা ভাঙচুর করেছি, তাহলে যে শাস্তি হবে তা মাথা পেতে নেব। আমরা শুধু আমাদের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করেছি।”

এ বিষয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বাগমারার গোয়ালকান্দিতে মাদকের বিস্তার: প্রশাসনের নজরদারি দুর্বলতার অভিযোগ

ফলিয়া দিগর বাজারে উত্তেজনা: দোকান ভাঙচুরের অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

Update Time : 01:44:13 pm, Monday, 15 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:মিসেস আকলিমা আক্তার

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ফলিয়া দিগর বাজারে দোকানঘর ভাঙচুর, ব্যবসায়িক মালামাল নষ্ট এবং জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মোজাম্মেল হক সরকার (৭৯) সাঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে লাঠিসোঁটা, লোহার রড এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোজাম্মেল হক সরকারের মালিকানাধীন দোকানঘরের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা উচ্চস্বরে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন।

ঘটনাস্থলে থাকা দোকানের ভাড়াটিয়া আব্দুল বাকী, মোস্তাফিজুর রহমান সাঈদী ও শ্রী দিপক চন্দ্র তাদের আচরণের প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দোকানঘরের টিনশেড ও শাটার ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নষ্ট করে।

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, আব্দুল বাকীর সেলুনের প্রায় ২৫ হাজার টাকার মালামাল, মোস্তাফিজুর রহমান সাঈদীর ভেটেরিনারি ফার্মেসির প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল এবং শ্রী দিপক চন্দ্রের হেয়ার কাটিং সেলুনের প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া দোকানঘরের অবকাঠামোগত ক্ষতিসহ মোট প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে দোকানঘরগুলো জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে জমির মালিক মোজাম্মেল হক সরকার ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার বিষয়ে অবগত হন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত লিটন। তিনি বলেন, মোজাম্মেল হক সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার থানা ও স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।

লিটনের দাবি, জমি পরিমাপের পর দেখা যায় উভয় পক্ষের ঘর পরস্পরের জমিতে অবস্থান করছে। পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রত্যেকে নিজ নিজ খরচে নিজের ঘর সরিয়ে নেবে। তিনি জানান, সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ছয় মাস আগে তিনি নিজের ঘর সরিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু মোজাম্মেল হক সরকার এখনও তার জমি থেকে ঘর সরাননি।

দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমরা যদি কারও দোকানঘর বা ব্যবসার ক্ষতি করে থাকি, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকেই সত্যতা জানা যাবে। তারা যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আমরা ভাঙচুর করেছি, তাহলে যে শাস্তি হবে তা মাথা পেতে নেব। আমরা শুধু আমাদের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করেছি।”

এ বিষয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।