Dhaka 7:34 pm, Monday, 15 June 2026

হকার-বস্তি উচ্ছেদ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এসইউসিআই-এর মহামিছিল

রিপোর্টার:সমরেশ রায় ও ছবি শম্পা দাস,কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ

পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, হকার ও বস্তি উচ্ছেদ, স্মার্ট মিটার স্থাপন এবং জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ বাস্তবায়নের প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মহামিছিল করেছে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর আড়াইটায় কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে বিদ্যাসাগর মূর্তির পাদদেশে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েক হাজার এসইউসিআই কর্মী, বস্তিবাসী, হকার ইউনিয়নের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ও ধর্মতলা এলাকা প্রদক্ষিণ করে লেনিন মূর্তির সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেওয়া হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। বরং বস্তিবাসী ও হকারদের ওপর উচ্ছেদ অভিযান এবং প্রশাসনিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা দাবি করেন, কর্পোরেট ও বহুজাতিক সংস্থার স্বার্থ রক্ষার জন্য রেলস্টেশন, প্ল্যাটফর্ম ও গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসর থেকে গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং জীবিকার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই বুলডোজার অভিযান চালানো হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইসঙ্গে নাগরিকদের নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক হয়রানি বাড়ছে।

বিদ্যুৎ খাতে স্মার্ট মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্তেরও তীব্র বিরোধিতা করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের মতে, স্মার্ট মিটার চালু হলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।

সমাবেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তাদের দাবি, গত এক মাসে একাধিকবার রান্নার গ্যাস, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ সম্পর্কে বক্তারা বলেন, এই নীতি কার্যকর হলে শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ আরও বাড়বে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। তাই এই শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি জানান তারা।

সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—হকার ও বস্তি উচ্ছেদ অবিলম্বে বন্ধ করা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা ছাড়া কোনো উচ্ছেদ না করা, স্মার্ট মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের বর্ধিত মূল্য কমানো, সারের কালোবাজারি ও মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ বাতিল করা।

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এদিন বিভিন্ন জেলা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অংশ নিলেও আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারা।

বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলকাতার কেন্দ্রস্থলে কয়েক ঘণ্টা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনসমাগম লক্ষ্য করা গেলেও পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সাধারণ মানুষের অধিকার ও জীবিকার প্রশ্নে তাদের এই আন্দোলন ভবিষ্যতেও আরও জোরদার হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পুশইনের শঙ্কায় ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী

হকার-বস্তি উচ্ছেদ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এসইউসিআই-এর মহামিছিল

Update Time : 10:37:22 pm, Thursday, 11 June 2026

রিপোর্টার:সমরেশ রায় ও ছবি শম্পা দাস,কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ

পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, হকার ও বস্তি উচ্ছেদ, স্মার্ট মিটার স্থাপন এবং জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ বাস্তবায়নের প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মহামিছিল করেছে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর আড়াইটায় কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে বিদ্যাসাগর মূর্তির পাদদেশে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েক হাজার এসইউসিআই কর্মী, বস্তিবাসী, হকার ইউনিয়নের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ও ধর্মতলা এলাকা প্রদক্ষিণ করে লেনিন মূর্তির সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেওয়া হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। বরং বস্তিবাসী ও হকারদের ওপর উচ্ছেদ অভিযান এবং প্রশাসনিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা দাবি করেন, কর্পোরেট ও বহুজাতিক সংস্থার স্বার্থ রক্ষার জন্য রেলস্টেশন, প্ল্যাটফর্ম ও গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসর থেকে গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং জীবিকার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই বুলডোজার অভিযান চালানো হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইসঙ্গে নাগরিকদের নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক হয়রানি বাড়ছে।

বিদ্যুৎ খাতে স্মার্ট মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্তেরও তীব্র বিরোধিতা করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের মতে, স্মার্ট মিটার চালু হলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।

সমাবেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তাদের দাবি, গত এক মাসে একাধিকবার রান্নার গ্যাস, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ সম্পর্কে বক্তারা বলেন, এই নীতি কার্যকর হলে শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ আরও বাড়বে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। তাই এই শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি জানান তারা।

সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—হকার ও বস্তি উচ্ছেদ অবিলম্বে বন্ধ করা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা ছাড়া কোনো উচ্ছেদ না করা, স্মার্ট মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের বর্ধিত মূল্য কমানো, সারের কালোবাজারি ও মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ বাতিল করা।

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এদিন বিভিন্ন জেলা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অংশ নিলেও আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারা।

বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলকাতার কেন্দ্রস্থলে কয়েক ঘণ্টা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনসমাগম লক্ষ্য করা গেলেও পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সাধারণ মানুষের অধিকার ও জীবিকার প্রশ্নে তাদের এই আন্দোলন ভবিষ্যতেও আরও জোরদার হবে।