Dhaka 8:47 am, Tuesday, 14 July 2026

পদ-বাণিজ্যের সিন্ডিকেট: যুবদলের নির্যাতিত ও ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে কে ?

মত প্রকাশ মোঃ রাসেল সরকার
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী; সভাপতি, যুব-শক্তি সামাজিক আন্দোলন

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জনগণের গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির আদর্শকে সামনে রেখে ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। উৎপাদনমুখী রাজনীতির মাধ্যমে যুবশক্তিকে কর্মশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি দীর্ঘ পথচলায় দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আবুল কাশেম, সাইফুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকতউল্লাহ বুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নীরব এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মতো নেতাদের নেতৃত্বে সংগঠনটি এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন।

তবে লেখকের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পরও তৃণমূলের অনেক ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মী আজও যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত। তাদের অভিযোগ, যারা দীর্ঘ সময় রাজপথে থেকে মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই সুবিধাবাদী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাচ্ছেন।

লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, পল্টন থানা ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি পদপ্রার্থী মো. আব্দুল আলিম সেই সব নেতাকর্মীদের একজন, যিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। লেখক দাবি করেন, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় আলিমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হওয়া এক নেতাকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণা, ২০২৩ সালের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তিনি সম্মুখসারিতে ছিলেন বলে লেখক উল্লেখ করেছেন।

নিবন্ধে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আলিম ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে নানা ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরিবারের সদস্যরাও হয়রানির শিকার হন এবং দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন।

লেখকের মতে, বর্তমান সময়ে দলীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আনুগত্য, প্রভাব ও পদ-বাণিজ্যের অভিযোগ সামনে আসছে। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আদর্শিক রাজনীতির পরিবর্তে সুবিধাবাদী সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি তার তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা। তাদের অবমূল্যায়ন করা হলে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লেখকের অভিমত, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনের ভেতরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। কমিটি গঠনে যদি যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গণমুখী হবে।

শেষে লেখক আহ্বান জানিয়েছেন, যুবদলকে আদর্শভিত্তিক, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে পদ-বাণিজ্য, তোষামোদ ও সুবিধাবাদী রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, এটিই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের অন্যতম শর্ত।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
যুব,ঐক্য,প্রগতি
ইনকিলাব জিন্দাবাদ

লেখক:
মোঃ রাসেল সরকার
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
সভাপতি,যুব-শক্তি সামাজিক আন্দোলন
ঢাকা
রবিবার,১২ জুলাই ২০২৬

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্যারিসের উপকণ্ঠে ভয়াবহ দাবানল

পদ-বাণিজ্যের সিন্ডিকেট: যুবদলের নির্যাতিত ও ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে কে ?

Update Time : 10:57:12 pm, Sunday, 12 July 2026

মত প্রকাশ মোঃ রাসেল সরকার
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী; সভাপতি, যুব-শক্তি সামাজিক আন্দোলন

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জনগণের গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির আদর্শকে সামনে রেখে ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। উৎপাদনমুখী রাজনীতির মাধ্যমে যুবশক্তিকে কর্মশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি দীর্ঘ পথচলায় দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আবুল কাশেম, সাইফুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকতউল্লাহ বুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নীরব এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মতো নেতাদের নেতৃত্বে সংগঠনটি এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন।

তবে লেখকের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পরও তৃণমূলের অনেক ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মী আজও যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত। তাদের অভিযোগ, যারা দীর্ঘ সময় রাজপথে থেকে মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই সুবিধাবাদী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাচ্ছেন।

লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, পল্টন থানা ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি পদপ্রার্থী মো. আব্দুল আলিম সেই সব নেতাকর্মীদের একজন, যিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। লেখক দাবি করেন, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় আলিমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হওয়া এক নেতাকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণা, ২০২৩ সালের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তিনি সম্মুখসারিতে ছিলেন বলে লেখক উল্লেখ করেছেন।

নিবন্ধে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আলিম ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে নানা ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরিবারের সদস্যরাও হয়রানির শিকার হন এবং দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন।

লেখকের মতে, বর্তমান সময়ে দলীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আনুগত্য, প্রভাব ও পদ-বাণিজ্যের অভিযোগ সামনে আসছে। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আদর্শিক রাজনীতির পরিবর্তে সুবিধাবাদী সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি তার তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা। তাদের অবমূল্যায়ন করা হলে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লেখকের অভিমত, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনের ভেতরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। কমিটি গঠনে যদি যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গণমুখী হবে।

শেষে লেখক আহ্বান জানিয়েছেন, যুবদলকে আদর্শভিত্তিক, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে পদ-বাণিজ্য, তোষামোদ ও সুবিধাবাদী রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, এটিই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের অন্যতম শর্ত।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
যুব,ঐক্য,প্রগতি
ইনকিলাব জিন্দাবাদ

লেখক:
মোঃ রাসেল সরকার
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
সভাপতি,যুব-শক্তি সামাজিক আন্দোলন
ঢাকা
রবিবার,১২ জুলাই ২০২৬