Dhaka 1:42 am, Tuesday, 21 April 2026

শব্দ ও বায়ুদূষনে বিনিদ্র রাত কাটছে শত শত পরিবারের ময়নামতিতে বেপরোয়া মাটিখেকো রুবেল

মোঃআবদুল্লাহ বুড়িচং কুমিল্লা প্রতিনিধি

নদী ও ফসলী জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতিতে সেটা মানছে না অলিখিত মাটি খেকো গড ফাদার রুবেল। রাত যত গভীর হয় ততই বেপরোয়া হয়ে উঠে তার সহযোগী সদস্যরা। এঅবস্থায় শব্দ ও বায়ু দূষনের করলে পরে ময়নামতি ইউনিয়নের ৫/৬ গ্রামের শত শত পরিবার বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে। এছাড়াও গ্রামীন জনপদের রাস্তাগুলোও ধ্বংসের দারপ্রান্তে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় দেবপুর ফাঁড়ির পুলিশের সহযোগীতা চাইলেও পাচ্ছে না কোন সহায়তা।

সরকার বেশ ক’বছর ধরে গোমতীর চর থেকে মাটি ও নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারী করে। কিন্তু তবুও থেমে নেই মাটি কাটা। অভিযোগ রয়েছে, ময়নামতি এলাকার রুবেল নামের এক মাটি খেকো সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লাখ লাখ ঘনফুট মাটি কেটে বিক্রি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ময়নামতি এলাকার বাজেবাহের চর গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধে সংস্কার কাজ চলমান, আর সেই কাজে স্থানীয় মাটি খেকো রুবেল তার ড্রাম্পট্রাক ও এস্কেভেটর ভাড়ায় খাটাচ্ছে ঠিকাদারের কাছে। আর এই সুযোগে রাতে শত শত ট্রাক মাটি কেটে বাব সংস্কারের ফাঁকে অন্যত্র, বিশেষ করে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করছে। এছাড়াও ময়নামতি ইউনিয়নের হরিনধরা, মইনপুর এলাকার ফসলী জমির মাটিও কাটছে অবাধে। আর এসব মাটি ভারী ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাওয়ায় গ্রামীন জনপদের রাস্তাগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কখনো সন্ধ্যার পর কখনোবা রাত বাড়ার সাথে সাথে মাটি কাটা শুরু করে। যা সকাল ৬টা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত চলমান থাকে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিণধরা, সিন্দুরিয়াপাড়ার একাধিক সূত্র জানায়, সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারসহ তারাবির নামাজ পড়ে বিশ্রামের জন্য চেষ্টা করলেও গাড়ির প্রচন্ড শব্দে সারারাত জেগে থাকতে হয়। তার সাথে বাতাসে বালুর ছড়াছড়িতে অনেকেই শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা।

মাটি খেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় হরিণধরার একাধিক সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের লোকজন এপ্রতিনিধিকে নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, আমরা নানাভাবে স্থানীয় প্রশাসন (দেবপুর ফাঁড়ির আইসি) কে রাত ভর মাটি পরিবহনে দুর্ভোগের বিষটি জানালেও কোন বাবস্থা গ্রহন করেননি। সূত্র আরো জানায়, রুবেল বিগত সময়ে আ’লীগের পরিচয়ে সুবিধা নিয়ে মাটি বিক্রি করে কোটি কোটি আয় করেছে। একাধিক সুত্রে ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার গভীর রাতে কুমিল্লা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবপুরসহ আশপাশের এলাকায় সরেজমিন ঘুরে মাটি কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। 

এসময় রুবেল সকল পক্ষকে ম্যানেজ করে মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। 

ঘটনাস্থল থেকে দেবপুর ফাঁড়ির আইসিকে বিষয়টি জানালে তিনি জানান, ভ্রাম্যমান আদালত পুলিশের সাহায্য চাইলে আমরা সাহায্য করবো। একইভাবে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও বলেন, প্রশাসন আমাদের সহযোগীতা চাইলে সহযোগীতা করবো।

এদিকে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম, এ বিষয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলার আয়োজনে শাহাদাত বার্ষিকী আলোচনা মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে

শব্দ ও বায়ুদূষনে বিনিদ্র রাত কাটছে শত শত পরিবারের ময়নামতিতে বেপরোয়া মাটিখেকো রুবেল

Update Time : 11:05:37 pm, Saturday, 21 February 2026

মোঃআবদুল্লাহ বুড়িচং কুমিল্লা প্রতিনিধি

নদী ও ফসলী জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতিতে সেটা মানছে না অলিখিত মাটি খেকো গড ফাদার রুবেল। রাত যত গভীর হয় ততই বেপরোয়া হয়ে উঠে তার সহযোগী সদস্যরা। এঅবস্থায় শব্দ ও বায়ু দূষনের করলে পরে ময়নামতি ইউনিয়নের ৫/৬ গ্রামের শত শত পরিবার বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে। এছাড়াও গ্রামীন জনপদের রাস্তাগুলোও ধ্বংসের দারপ্রান্তে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় দেবপুর ফাঁড়ির পুলিশের সহযোগীতা চাইলেও পাচ্ছে না কোন সহায়তা।

সরকার বেশ ক’বছর ধরে গোমতীর চর থেকে মাটি ও নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারী করে। কিন্তু তবুও থেমে নেই মাটি কাটা। অভিযোগ রয়েছে, ময়নামতি এলাকার রুবেল নামের এক মাটি খেকো সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লাখ লাখ ঘনফুট মাটি কেটে বিক্রি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ময়নামতি এলাকার বাজেবাহের চর গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধে সংস্কার কাজ চলমান, আর সেই কাজে স্থানীয় মাটি খেকো রুবেল তার ড্রাম্পট্রাক ও এস্কেভেটর ভাড়ায় খাটাচ্ছে ঠিকাদারের কাছে। আর এই সুযোগে রাতে শত শত ট্রাক মাটি কেটে বাব সংস্কারের ফাঁকে অন্যত্র, বিশেষ করে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করছে। এছাড়াও ময়নামতি ইউনিয়নের হরিনধরা, মইনপুর এলাকার ফসলী জমির মাটিও কাটছে অবাধে। আর এসব মাটি ভারী ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাওয়ায় গ্রামীন জনপদের রাস্তাগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কখনো সন্ধ্যার পর কখনোবা রাত বাড়ার সাথে সাথে মাটি কাটা শুরু করে। যা সকাল ৬টা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত চলমান থাকে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিণধরা, সিন্দুরিয়াপাড়ার একাধিক সূত্র জানায়, সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারসহ তারাবির নামাজ পড়ে বিশ্রামের জন্য চেষ্টা করলেও গাড়ির প্রচন্ড শব্দে সারারাত জেগে থাকতে হয়। তার সাথে বাতাসে বালুর ছড়াছড়িতে অনেকেই শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা।

মাটি খেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় হরিণধরার একাধিক সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের লোকজন এপ্রতিনিধিকে নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, আমরা নানাভাবে স্থানীয় প্রশাসন (দেবপুর ফাঁড়ির আইসি) কে রাত ভর মাটি পরিবহনে দুর্ভোগের বিষটি জানালেও কোন বাবস্থা গ্রহন করেননি। সূত্র আরো জানায়, রুবেল বিগত সময়ে আ’লীগের পরিচয়ে সুবিধা নিয়ে মাটি বিক্রি করে কোটি কোটি আয় করেছে। একাধিক সুত্রে ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার গভীর রাতে কুমিল্লা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবপুরসহ আশপাশের এলাকায় সরেজমিন ঘুরে মাটি কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। 

এসময় রুবেল সকল পক্ষকে ম্যানেজ করে মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। 

ঘটনাস্থল থেকে দেবপুর ফাঁড়ির আইসিকে বিষয়টি জানালে তিনি জানান, ভ্রাম্যমান আদালত পুলিশের সাহায্য চাইলে আমরা সাহায্য করবো। একইভাবে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও বলেন, প্রশাসন আমাদের সহযোগীতা চাইলে সহযোগীতা করবো।

এদিকে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম, এ বিষয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।