Dhaka 8:09 pm, Tuesday, 16 June 2026

চার সন্তানের জনক মিজানুরের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ রাস্তার পাশে, স্ত্রীর কান্নায় থমকে গেল কালিয়াকৈর থানা

একজন অসহায় অটোচালক—সারাদিন যাত্রী টেনে ক্লান্ত দেহে রাতে ফিরতেন চার কন্যার মুখে হাসি ফোটাতে। সেই মানুষটির নিথর, রক্তাক্ত মরদেহ বুধবার সকালে পড়ে ছিল গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার এক অজানা রাস্তার পাশে। কে জানত, আজ আর ফিরবেন না তিনি? কে ভাবতে পেরেছিল, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এইভাবে থেমে যাবে? কালিয়াকৈর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালামপুর এলাকার সাহেবাবাদগামী চার রাস্তার মোড়ে রাস্তার পাশ থেকে বুধবার (৯ জুলাই) সকালে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় একটি অজ্ঞাত মরদেহ।
কিছুক্ষণ পর কালিয়াকৈর থানায় ছুটে আসেন এক বিধ্বস্ত নারী, সঙ্গে তার চার ছোট মেয়ে। থানা প্রাঙ্গণে ঢুকেই চিৎকার করে ওঠেন তিনি—
“আমার মিজান! এ লাশ আমার স্বামীর! ওরে ডাকি আর ফিরে না…” নিহত মিজানুর রহমান (৩৫), গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানার মংলা গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে। জীবিকা নির্বাহ করতেন অটোচালনা করে। চার কন্যা সন্তানের বাবা ছিলেন তিনি।

স্ত্রীর কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “রাতে ফোনে বলেছিল একটু দেরি হবে। তারপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। ভেবেছিলাম, কোনো যাত্রীর সঙ্গে হয়তো দূরে গেছে। কিন্তু ভোরে খবর এলো—একটা লাশ পড়ে আছে রাস্তায়। আমি জানি না আমার মেয়েগুলারে নিয়ে এখন কী করব…” কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “নিহতের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। এলাকাবাসী বলছেন, এমন নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড সচরাচর দেখা যায় না। কে বা কারা একজন পরিশ্রমী, নিরীহ মানুষের জীবন এভাবে কেড়ে নিল—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সকলে।

চারটি অবুঝ শিশু আজ বুঝে গেছে—তাদের বাবা আর কখনো বাড়ি ফিরবেন না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রাজশাহীর কালাই রুটি খেয়ে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, বললেন দারুণ মজা’

চার সন্তানের জনক মিজানুরের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ রাস্তার পাশে, স্ত্রীর কান্নায় থমকে গেল কালিয়াকৈর থানা

Update Time : 01:06:26 pm, Thursday, 10 July 2025

একজন অসহায় অটোচালক—সারাদিন যাত্রী টেনে ক্লান্ত দেহে রাতে ফিরতেন চার কন্যার মুখে হাসি ফোটাতে। সেই মানুষটির নিথর, রক্তাক্ত মরদেহ বুধবার সকালে পড়ে ছিল গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার এক অজানা রাস্তার পাশে। কে জানত, আজ আর ফিরবেন না তিনি? কে ভাবতে পেরেছিল, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এইভাবে থেমে যাবে? কালিয়াকৈর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালামপুর এলাকার সাহেবাবাদগামী চার রাস্তার মোড়ে রাস্তার পাশ থেকে বুধবার (৯ জুলাই) সকালে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় একটি অজ্ঞাত মরদেহ।
কিছুক্ষণ পর কালিয়াকৈর থানায় ছুটে আসেন এক বিধ্বস্ত নারী, সঙ্গে তার চার ছোট মেয়ে। থানা প্রাঙ্গণে ঢুকেই চিৎকার করে ওঠেন তিনি—
“আমার মিজান! এ লাশ আমার স্বামীর! ওরে ডাকি আর ফিরে না…” নিহত মিজানুর রহমান (৩৫), গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানার মংলা গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে। জীবিকা নির্বাহ করতেন অটোচালনা করে। চার কন্যা সন্তানের বাবা ছিলেন তিনি।

স্ত্রীর কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “রাতে ফোনে বলেছিল একটু দেরি হবে। তারপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। ভেবেছিলাম, কোনো যাত্রীর সঙ্গে হয়তো দূরে গেছে। কিন্তু ভোরে খবর এলো—একটা লাশ পড়ে আছে রাস্তায়। আমি জানি না আমার মেয়েগুলারে নিয়ে এখন কী করব…” কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “নিহতের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। এলাকাবাসী বলছেন, এমন নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড সচরাচর দেখা যায় না। কে বা কারা একজন পরিশ্রমী, নিরীহ মানুষের জীবন এভাবে কেড়ে নিল—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সকলে।

চারটি অবুঝ শিশু আজ বুঝে গেছে—তাদের বাবা আর কখনো বাড়ি ফিরবেন না।